পেকুয়ায়  টুং টাং শব্দে দম ফেলার সময় নেই কামারদের 

সাইফুল ইসলাম বাবুল, পেকুয়া:

পেকুয়ায় কোরবানীর ঈদকে সামনে রেখে নাওয়া খাওয়া ভুলে নির্ঘুম রাত জেগে ব্যস্ত সময় পার করছেন  কামাররা। দিন-রাত  আগুনের শিখায়-তাপদেয়া, হাতুড়ি পেটানোর টুং-টাং শব্দে তৈরি হচ্ছে দা-বটিঁ, চাপাতি ও ছুরি কাজ। আর মাত্র ৩ দিন পরেই আসছে কোরবানির ঈদ। যতই ঘনিয়ে আসছে ততই বাড়ছে কামারদের ব্যস্ততা। কয়লার দাম বেশি হওয়ায় অন্যবারের চেয়ে এবারে দা-বঁটি, ছুরি ও চাপাতির দাম কিছুটা বেশি বলেও জানা গেছে।

নতুন তৈরির সঙ্গে  গ্রাম-গঞ্জে সবজায়গায় কামাররা সমান ব্যস্ত পুরোনো দা-বঁটি, ছুরি ও চাপাতিতে শাণ দিতে। আবার মোটর চালিত মেশিনে শান দেয়ার কাজও চলছে। তাই যেন দম ফেলারও সময় নেই কামারদের। তবে কয়লার দাম বেড়ে যাওয়ায় এবার কিছুটা বেশি দামেই কিনতে হবে এগুলো।

পেকুয়ার বিভিন্ন বাজারে কামারশালা ঘুরে দেখা যায়, কোরবানিদাতারা কোরবানির পশু কাঁটাছেড়া করার জন্যে পরিবারের ব্যবহৃত ও অব্যবহৃত দা-বটি ও ছুরি শাণ দেয়ার জন্যে নিয়ে আসছে কামারদের কাছে। এর ফলে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে কামারদের বিরামহীন ব্যস্ততা। অন্য সময়ের চেয়ে দোকানে মৌসুমী কর্মচারীর সংখ্যাও বেড়েছে।  পেকুয়া  বাজারে কামারগল্দীর  সুনিল কর্মকার জানান, সাধারণত স্প্রিং লোহা ও কাঁচা লোহা ব্যবহার করে দা-বটিঁ ও ছুরি তৈরি করা হয়। স্প্রিং লোহা দিয়ে তৈরি উপকরণের মান ভালো, দামও বেশি। আর কাঁচা লোহার তৈরি উপকরণগুলোর দাম তুলনামূলকভাবে কম।

এ ছাড়াও লোহার মানভেদে স্প্রিং লোহা ৬০০ টাকা, নরমাল ৪০০ টাকা, পশুর চামড়া ছাড়ানো ছুরি ১৬০ থেকে ২২০, দা ১৭০ থেকে ৩৭০ টাকা, বঁটি ২৬০ থেকে ৪৫০, পশু জবাইয়ের ছুরি ৪০০ থেকে শুরু, চাপাতি ৬০০ থেকে এক হাজার ৩৪০ টাকায় বিক্রি হয় বলে জানান । আরবশাহ্ বাজারের দুলাল কর্মকার বলেন, বছরের ১১ মাসে ব্যবসা হয় এক রকম আর কোরবানির ঈদের আগের এক মাসে ব্যবসা হয় আরেক রকম।

কোরবানীর ঈদ আসলে আমাদের কামারের দোকানদারদের বেচা-বিক্রি ও ব্যস্ততা বেড়ে যায়। তবে দাম এবার অন্যান্য বছরের তুলনায় কিছুটা বাড়লেও প্রভাব পড়েনি ক্রেতাদের মাঝে। অনেকেই স্বাভাবিক ভাবেই নিচ্ছে দাম বাড়ার বিষয়টিকে। গুরামিয়া বাজারের  দা-বটির দোকানী হরি কর্মকার জানান, একসময় কামারের কাজ করেই পেট চালাতাম। কিন্তু  বাজারে কামারের দোকান তেমন একটা চলেনা। এক সময় কামারদের কদর ছিল এখন তা আর নেই। এখন মেশিনের সাহয্যে আধুনিক যন্ত্রপাতি তৈরি হচ্ছে ফলে আমাদের তৈরি যন্ত্রপাতির প্রতি মানুষের আকর্ষণ হারাচ্ছে।

হয়তোবা এক সময় এই পেশা আর থাকবেনা। সদাগর হাটে  কামার শিল্পী গৌরাঙ্গ বলেন, আমাদের পূর্ব পুরুষেরা এ কাজ করে আসছেন সেই সুবাধে আমি এ কাজ করি। সারা বছর তেমন কাজ কাম না থাকলেও কুরবানির সময় আমাদের কাজের চাহিদা বেড়ে যায়। এখনো খুচরা বিক্রি তেমন ধুম পরে যায়। মানুষ কুরবানির পশু কেনার পরে দা, বটি কিনে। এখন আমরা খরিদ্দারের অর্ডারের যন্ত্রপাতি তৈরি করে সরবরাহ করছি।

কক্সবাজার নিউজ সিবিএন’এ প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।

সর্বশেষ সংবাদ

ক্যান্সার চিকিৎসায় কত লাগে?

সরকারের সেবায় সোনালী ব্যাংকের ক্ষতি হাজার কোটি টাকা

যেসব আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী চূড়ান্ত

ঈদগাঁওতে মাধ্যমিক শিক্ষকদের এমপি ও কউক চেয়ারম্যানের সহযোগিতার আশ্বাস

কাঁচা মরিচের অনেক ঔষধি গুণ রয়েছে। এবার কাঁচা মরিচের ৫ গুণ জেনে নিন

কোটি কোটি টাকার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এখন ধ্বংসস্তূপ!

মুখ ধোওয়ার সময় যে ভুল করবেন না

তুরস্কে মেঘ আর মসজিদের মিতালি!

মালয়েশিয়ায় ব্যাপক ধর-পাকড়, ৫৫ বাংলাদেশি আটক

কক্সবাজার থেকে ফটোশুট ফেরত মডেলের গাড়িতে পৌনে দুই লাখ ইয়াবা!

ওবায়দুল কাদের আসছেন আজ

ডুলাহাজারার আশরাফ উদ্দিন কাউখালী থানার ওসি

একান্ত সাক্ষাৎকারে অতি. পুলিশ সুপার ইকবাল হোসাইন : অপরাধীর সাথে আপোষ নয়

প্রসঙ্গ : প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চলতি দায়িত্ব

বৃহত্তর ঈদগাঁওয়ের প্রায় ১শ কি.মি সড়ক চলাচলের অনুপযোগী, সেতুমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ

টেকপাড়ায় মাঠে গড়াল বৃহত্তর গোল্ডকাপ ফুটবল টূর্ণামেন্টের ৫ম আসর

মাতারবাড়ী কয়লাবিদ্যুৎ প্রকল্প পরিদর্শনে গেলেন বিভাগীয় কমিশনার

নতুন বাহারছড়ার সেলিমের অকাল মৃত্যু: মেয়র মুজিবসহ পৌর পরিষদের শোক

জেলা আ’ লীগের জরুরী সভা

মাদক কারবারীদের বাসাবাড়ীতে সাঁড়াশি অভিযান, ইয়াবাসহ আটক ৩