ঈদের পরে ফের শুরু হচ্ছে বঙ্গোপসাগরে মাছধরা : ঘাটে ঘাটে চলছে প্রস্তুতি

আহমদ গিয়াস, কক্সবাজার :
বর্ষাকালে বিরূপ আবহাওয়ার কারণে কক্সবাজারের গভীর বঙ্গোপসাগরে গত প্রায় দুই মাস মাছধরা বন্ধ থাকার পর ফের মাছধরা শুরু হচ্ছে আসছে ঈদুল আযহার পর। ঈদের পরে সাগরে গিয়ে পুরোদমে মাছধরা শুরু করতে জেলে-বহদ্দাররা ইতোমধ্যে প্রস্তুতিও শুরু করেছে। জেলে-বহদ্দারদের প্রস্তুতিতে জেলা শহর ও আশেপাশের মৎস্য অবতরণকেন্দ্র ও ঘাটগুলো সরগরম রয়েছে।
সরেজমিন খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,
ট্রলার মালিক সূত্রে জানা গেছে, আষাঢ়-শ্রাবণ এই দুই মাস বর্ষাকালে কক্সবাজার বঙ্গোপসাগরের আবহাওয়া থাকে বিরোধপূর্ণ। এই সময়ে সাগরে মাছ ধরা ঝুঁকিপূর্ণ। এছাড়া এসময় মাছ ধরা পড়েও অপেক্ষাকৃত কম। তাই বেশিরভাগ ইলিশ জেলে এই দুই মাস সাগরে মাছ ধরে না। তবে বিহিন্দি জালের ট্রলারগুলো আবহাওয়ার অবস্থা বুঝে সাগর উপকূলে ‘পাঁচকাড়া’ মাছ ধরে। বিহিন্দি জালের ট্রলারগুলো দিনে গিয়ে দিনেই ফিরে আসে। এসব ট্রলারে ছোট আকারের নানা প্রজাতির সুস্বাদু মাছ ধরা পড়ে। এরমধ্যে তাইল্যা, ঘুইজ্জা, পোয়া, রূপচান্দা, ছুরি, লইট্টা, বরা, নাইল্যা, পুটি, ফাইস্যা, বাটা, অলুয়া মাছ, চিংড়িসহ আরো নানা প্রজাতির মাছ রয়েছে। বর্তমানে কক্সবাজার শহর থেকে উখিয়ার পাটুয়ারটেক পর্যন্ত অঞ্চলের উপকূলবর্তী সাগরে বিহিন্দি জালের বোটে ব্যাপকভাবে এসব ‘পাঁচকাড়া’মাছ ধরা পড়ছে।
কক্সবাজার শহরের প্রধান মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র ফিশারীঘাটের মৎস্য ব্যবসায়ী জুলফিকার আলী জানান- বর্তমানে কক্সবাজার শহর থেকে পাটুয়ারটেক ও টেকনাফের উপকূলবর্তী সাগরে প্রচুর পরিমাণ ‘পাঁচকাড়া’ মাছ ধরা পড়ছে। যারমধ্যে উল্লেখযোগ্য হল বাটা ও লইট্টা মাছ। এরফলে বাজারে সামুদ্রিক মাছের সহজলভ্যতা সৃষ্টি হয়েছে। তবে গত দুই মাস ধরে সাগরে কোন ইলিশ ধরা পড়ছে না বলে জানান তিনি।
তিনি জানান- প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে গভীর সাগরে এখন ইলিশ ধরা বন্ধ থাকায় জেলে ও বোট মালিকরা বিহিন্দি জালের বোট নিয়ে ‘পাঁচকাড়া’ মাছ ধরেই জীবিকা নির্বাহ করছে। বর্তমানে বঙ্গোপসাগর উপকূলে উৎসবমুখর পরিবেশে পাঁচকাড়া মাছ ধরা হচ্ছে। কক্সবাজার শহরতলীর দরিয়ানগর ঘাটের ককশিটের বোটগুলোও উপকূলে অন্যান্য ট্রলারের পাশাপাশি সাগরে জাল ফেলে মাছ ধরছে। আর প্রতিদিন সাগর থেকে মাছ ধরে মাত্র কয়েক ঘন্টা পরই কূলে ফিরছে।
কক্সবাজার জেলা ফিশিং বোট মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক মাস্টার মোস্তাক আহমদ জানান, বিরূপ আবহাওয়ার কারণে আষাঢ়-শ্রাবণ মাস বা বর্ষাকালে কক্সবাজারের গভীর বঙ্গোপসাগরে প্রায় দুই মাস ইলিশ ধরা বন্ধ থাকে। ফলে ট্রলার মালিক ও জেলেদের অধিকাংশই বেকার সময় কাটায়। অনেকেই বিহিন্দি জালের বোট নিয়ে সাগরে মাছ ধরে। তবে কক্সবাজারের প্রায় ৭ হাজার ট্রলারের মধ্যে আশি শতাংশই এখন পোতাশ্রয়ে রয়েছে এবং ঈদের পরে সাগরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
সোমবার বিকালে শহরের দরিয়ানগর, কলাতলী ও কস্তুরাঘাটে গিয়ে দেখা যায়, সাগরে মাছ ধরতে যেতে এখন থেকেই প্রস্তুতি শুরু করেছে জেলে-বহদ্দাররা। এরমধ্যে কেউ জাল মেরামত করছে, কেউবা মেরামত করছে বোট কিংবা যন্ত্রাংশ। এনিয়ে ব্যবস্ত সময় পার করছেন তারা। তাদের আশা, ঈদের পরে অনুকূল আবহাওয়ায় সাগরে পুরোদমে মাছধরা শুরু করবেন তারা।

কক্সবাজার নিউজ সিবিএন’এ প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।

সর্বশেষ সংবাদ

বিএনপি নেতা হাবিব-উন-নবী খান সোহেল গ্রেফতার

রামুর গর্জনিয়ায় বজ্রপাতে একই পরিবারের নারীসহ আহত ৫

কক্সবাজারে প্রথম নির্মিত হচ্ছে সি,আই কোম্পানি ইন্ডাস্ট্রি

মহেশখালী পৌর ছাত্রদলের আংশিক কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা

এসপি মাসুদ হোসাইনের কক্সবাজারে যোগদান, ডিসি’র সাথে সৌজন্য সাক্ষাত

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে দূর্যোগ ব্যবস্থাপনার জন্য ইওসি স্থাপন

পেকুয়ায় প্রবাহমান খালে মাটি ভরাট করলেন প্রভাবশালী

কোনাখালীতে দোকান পুড়ে ছাই

বুবলীর সঙ্গে শাকিবের বিয়ে, গুঞ্জন নাকি সত্যি?

সাবেক ডিসি ও ইউএনওসহ তিনজনের কারাদণ্ড

ইয়াবাসহ আইন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা আটক

চকরিয়া উগ্রবাদ ও সহিংসতা প্রতিরোধে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ

চকরিয়ায় কথিত চিকিৎসকের ভূল চিকিৎসার শিকার বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী

রামুর গর্জনিয়ায় বজ্রপাতে একই পরিবারের নারীসহ আহত ৫

মালুমঘাটে প্রভাবশালীর সহযোগিতায় চলছে বাল্য বিবাহ!

চট্টগ্রাম কলেজে ছাত্রলীগের কমিটি নিয়ে দফায় দফায় সংঘর্ষ

নিরাপদ সড়ক চাই: নিজে বাঁচব, অপরকে বাঁচাব

বিএনপির ১৭৩ প্রার্থী প্রায় চূড়ান্ত

চবি উপাচার্যের সাথে মিশর আল আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে সংবর্ধনা