গার্ডিয়ানের বিশ্লেষণ: কী করবেন ইমরান খান?

ডেস্ক নিউজ:

ইমরান খানের বিজয়ের কারণেই পাকিস্তানের সাম্প্রতিক নির্বাচন পুরো বিশ্বের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। একজন তারকা ক্রিকেটার থেকে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বে পরিণত হওয়ার এ পর্বটিই লোকজনকে আকর্ষণ করেছে বেশি।

সামরিক বাহিনীর সহযোগিতার কথা শোনা গেলেও কেবলমাত্র তাদের কারণেই ইমরানের এ উত্থান ঘটেনি। ১৯৯৬ সালে ইমরান খান দলটির প্রতিষ্ঠা করেন। শুরু থেকেই সততা, দুর্নীতিহ্রাস ইত্যাদিকে তার দলের মূল স্লোগান বানিয়েছেন। তিনি বলেন, যে ইসলামিক কল্যাণ রাষ্ট্র হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে পাকিস্তান তৈরি হয়েছিল, তা নস্যাৎ হয়ে গেছে। পাকিস্তানের রাজনীতি এখন কেবল লুটতরাজের খেলা। খান তার আত্মজীবনী- পাকিস্তান : অ্যা পারসোনাল হিস্টোরি-তে লিখেছেন, শোষণের সমাপ্তি ঘটাতে এবং সততা, মেধা ও অখণ্ডতার ওপর রাষ্ট্র গঠনের চেষ্টা করবে তার দল।
ইমরান খান নিজে রক্ষণশীল ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি লালন করেন। শরিয়া আইন এবং অ্যান্টি-ব্ল্যাসফেমি আইনের সমর্থন করেন। আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ড্রোন হামলার বিরোধিতা করায় তাকে নাম দেয়া হয় তালেবান খান। তিনি বের করেছেন, তার পূর্বপুরুষের শেকড় আফগানিস্তানে এবং তিনি পশতু উপজাতীয়দের অন্তর্ভুক্ত। কাকতালীয়ভাবে এবার তিনি রক্ষণশীল ভোটারদেরও অনেক ভোট পেয়েছেন। আবার নিজে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্রাজুয়েশন করার পরও পাকিস্তানে পশ্চিমা শিক্ষায় শিক্ষিত নেতৃবর্গের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন ইমরান খান। ইংরেজদের ঔপনেবিশকতা এ উপমহাদেশের অনেক ক্ষতি করে গেছেও মন্তব্য করেছিলেন তিনি।

এসব কারণে ইমরান খানকে নিয়ে প্রত্যাশার বিষয়টি কিছু গোলমেলে। রাজনীতিতে আসার বিশ বছর পর ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার বিষয়টি হয়তো তাকে কিছুটা সংযত করবে; কিন্তু পুরোপুরি পাল্টাতে পারবে না। তবে গত বৃহস্পতিবার ইমরান খান যে বিজয় ভাষণ দিয়েছেন তাতে তার গলার স্বরটি অনেক নম্র ছিল, যাতে সমালোচকদের চমকে দিয়ে তিনি জাতীয় ঐক্যের কথা বলেন। তিনি তার বক্তব্যে ভারত ও আফগানিস্তানের সাথে পাকিস্তানের সম্পর্কোন্নয়নের কথা বলেন। এমনকি তিনি সে সময় বিরোধী দলগুলোর আনা ভোট কারচুপির তদন্তের ক্ষেত্রে সহায়তার কথাও জানান। তার এ কথার ফলও দেখা গেছে তাৎক্ষণিক। অধিকাংশ দল যেখানে রাজপথে আন্দোলন শুরু করার কথা বলছিল, পার্লামেন্ট বয়কট করার কথা বলছিল, তারা শেষ পর্যন্ত ফলাফল মেনে নিয়েছে। ডন পত্রিকায় যে সম্পাদকীয় লেখা হয়, তার শিরোনাম ছিল, এখন সময় এগিয়ে যাওয়ার। ইমরান খান ও তার দল পিটিআই স্বাভাবিক রাজনৈতিক আচরণ করেছে বলে উল্লেখ করে সংবাদপত্রটি প্রত্যাশা করে, সাবেক বিশ্বজয়ী এ অধিনায়ক এখন তার প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করবেন।

তবে ইমরান খানের সামনে এখন অনেকগুলো চ্যালেঞ্জ এসে দাঁড়িয়েছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য দু’টি হলো- দেশটির অর্থনীতিতে যেভাবে ঋণের পরিমাণ বাড়ছে তার প্রতিকার এবং মূল্যহ্রাসের চাপ। সেই সাথে দেশের রাজনীতিতে সামরিক বাহিনীর অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ থেকে নতুন সরকারকে মুক্ত রাখাও তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ, যেখানে পুরো নির্বাচনে তাকে সামরিক বাহিনী সহায়তা করেছে, এমন কথা বলা হয়েছে বারংবার। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তা নীতিতে নিজে থেকেই হস্তক্ষেপ করতে বরাবরই অভ্যস্ত পাকিস্তানের সেনা কর্তৃপক্ষ। এ চ্যালেঞ্জগুলোর মোকাবেলা হয়তো তার জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠতে পারে, আবার জীবনসংহারী অভিজ্ঞতাও হতে পারে। সুতরাং ইমরান যদি যুক্তরাষ্ট্রকে ছেড়ে ভারতের সাথে বন্ধুত্ব করেন, অথবা সন্ত্রাসীদের সাথে আলোচনায় বসেন তাহলে তার জন্য ভালো হবে তার পেছনের দিকে লক্ষ্য রাখা। আর পাকিস্তানের গণতন্ত্রের প্রকৃত রূপটি যেহেতু দুর্বল, তাই পাকিস্তানের নতুন প্রধানমন্ত্রীর কাঁধের ওপর থাকা অদৃশ্য হাতটি একেবারেই বাস্তব। এটিকে নাড়ানো একটু কঠিনই হবে। সব মিলিয়ে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাস্তবতার নিরীখে চ্যালেঞ্জগুলোর মোকাবেলা করা, সেই সাথে দেশের ভোটাররা পিটিআইকে যে উদ্দেশ্যে ভোট দিয়েছে তা কতটা বাস্তবে রূপ দিতে পারবেন ইমরান খান, তা দেখতে কিছুদিন অপেক্ষা করতেই হচ্ছে সবাইকে।

কক্সবাজার নিউজ সিবিএন’এ প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।

সর্বশেষ সংবাদ

নির্বাচনী সমীকরণ কক্সবাজার-২ : কে পাচ্ছেন ধানের শীষ

কক্সবাজারে স্বল্প দৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র উৎসব ২৩ নভেম্বর

ব্যক্তিত্ব ও নেতৃত্বে জিএম রহিমুল্লাহ মডেল

পর্যবেক্ষক ও মিডিয়া কর্মীদের উপর ইসির এতো নির্দেশনা কেন?

আ’লীগ মনোনয়ন প্রত্যাশী তারুণ্যের অহঙ্কার এড. লীনার পক্ষে তৃণমূল

স্থায়ী বসবাসের সুযোগ দিচ্ছে অস্ট্রেলিয়া

চকরিয়ায় একদিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে ১৩ শিশু আহত

চট্টগ্রামের তিন ছিনতাইকারী আটক

শাহীন চৌধুরী নৌকার প্রার্থী মনোনীত হওয়ায় উখিয়ায় ছাত্রলীগের অানন্দ মিছিল

টেকনাফ বিজিবির অভিযানে ইয়াবাসহ আটক ৩

শাহিনা চৌধুরীকে মনোনয়ন দেয়ায় হ্নীলায় আনন্দ মিছিল ও পথসভা অনুষ্ঠিত

কলাতলীর সমাজসেবক শফি উল্লাহর পিতার ইন্তেকাল, রাত দশটায় জানাজা

এই ছবি আসলে কার?

মনোনয়ন পাবে না বিএনপির শোডাউনকারীরা

চূড়ান্ত মনোনয়ন জোটের সঙ্গে বসে : ফখরুল

বৃহস্পতিবার এড. আহামদ হোসেন স্মরণে ফুলকোর্ট রেভারেন্স

কক্সবাজার সরকারি কলেজে ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (স:) পালিত

জিএম রহিমুল্লাহর মৃত্যুতে ছাত্রশিবিরের শোক 

এলাকাবাসীকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে জননেতা জিএম রহিমুল্লাহ

চকরিয়ায় পিকনিকের বাস উল্টে খাদে পড়ে গার্মেন্টস কর্মী নিহত,আহত অর্ধশত