শাহেদ মিজান, সিবিএন:
বহুদিনের সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে পর্যটন নগরী কক্সবাজার পৌরসভার পৌরপিতার আসনে বসলেন আওয়ামী লীগের মনোনিত প্রার্থী ও কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান। তিনি বিপুল ভোটের ব্যবধানে নিরঙ্কুশ বিজয়ী হয়ে বেসরকারিভাবে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। তার মোট প্রাপ্ত ভোট ৪১,২৫৫। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি বিএনপির প্রার্থী রফিকুল ইসলাম পেয়েছেন ১০,১৪৭ ভোট। তাদের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি নাগরিক কমিটি মনোনিত প্রার্থী বর্তমান মেয়র সরওয়ার কামাল পেয়েছেন ৪১৪৬ ভোট।

এছাড়া জাতীয় পার্টি মনোনিত রুহুল আমিন সিকদার ৪৮০ভোট ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনিত প্রার্থী মাওলানা জাহেদুর রহমান পেয়েছেন ৫৯৫ ভোট। রাত সোয়া ১১টার দিকে সব কেন্দ্রের ফলাফল পাওয়ার পর মেয়ের পদের আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা মো: মোজাম্মেল হোসেন।

জানা গেছে, সকাল ৮টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে একটানা বিকাল ৪টার পর্যন্ত ভোটগ্রহণ করা হয়। দিনভর প্রবল বৃষ্টির মুখেও ভোটারা মোটামুটি দিয়ে ভোট দিয়েছেন। সকালের দিকে ভোটারের উপস্থিতি কিছুটা বাড়লেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা কমে যায়। তবে বৃষ্টি মাথায় নিয়ে শেষ সময় ভোট দিয়েছেন ভোটাররা।

তবে মেয়র পদের অন্য চারপ্রার্থীই সকাল ১১টার পর থেকে আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্য চার মেয়র প্রার্থী সরকারি দলের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন ভোট ডাকাতি, ব্যালট পেপার ছিনতাই, জাল ভোট প্রদান, নৌকা প্রতীকে জোর করে সীল মারা, এজেন্টদের বের করে দেয়ার অভিযোগ এনে দুপুরের পর নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করেন। বিএনপির প্রার্থী রফিকুল ইসলাম ও নাগরিক কমিটি মনোনিত প্রার্থী বর্তমান মেয়র সরওয়ার কামাল সংবাদ সম্মেল ডেকে অন্য দু’প্রার্থী অনানুষ্ঠানিকভাবে বিবৃতি দিয়ে নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করেন। ১৯টি ভোটকেন্দ্র চিহ্নিত করে পুণনির্বাচনের দাবী জানিয়েছে ধানের শীষের মেয়র প্রার্থী রফিকুল ইসলাম। সরওয়ার কামাল ও অন্য দু’প্রার্থী পুন: নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোঃ মোজাম্মেল হক বলেন, ‘সকাল থেকে মেয়র প্রার্থীদের অভিযোগ পেয়ে আসছি। সে অনুসারে আমরা ব্যবস্থা নেয়ার চেষ্টা করেছি। তারপরও ছোট-খাটো কিছু ঘটনা ঘটেছে। বড় কোনো দুর্ঘটনা ছাড়াই ভোটগ্রহণ করতে সক্ষম হয়েছি।’

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •