সরওয়ার কামালের নির্বাচনী ইশতেহার

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম

সম্মানিত কক্সবাজার পৌরবাসী
আসসালামু আলাইকুম/আদাব/নমষ্কার।
আপনারা নিশ্চয়ই অবগত আছেন আগামী ২৫ জুলাই পর্যটন নগরী কক্সবাজার পৌরসভা নির্বাচন। এই নির্বাচন পৌরবাসীর জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ আপনাদের ভোটের মাধ্যমে আগামী পাঁচ বছরের জন্য একজন মেয়র বারজন পুরুষ ও চারজন মহিলা কাউন্সিলর নির্বাচিত হবেন। স্বাধীনভাবে আপনারা যাকে যোগ্য মনে করবেন তাকেই ভোট দিবেন। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে যিনি/যারা নির্বাচিত হবেন আমি তাদেরকে স্বাগত জানাব।
প্রিয় পৌরবাসী
আপনারা জানেন আমি ১৯৯৩ ও ২০০২ সালে পর পর দুইবার কাউন্সিলর একবার ভারপ্রাপ্ত মেয়র এবং সর্বশেষ ২০১০ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আপনাদের ভালবাসা ও আন্তরিকতা নিয়ে পাঁচ বৎসরের জন্য মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলাম। আমাকে আপনারা যে মূল্যায়ন ও সম্মান এবং সেবার দায়িত্ব দিয়েছিলেন তার জন্য আমি আপনাদের নিকট কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আপনারা জানেন ২০১০ সালে আমি মেয়র নির্বাচিত হলে বিভিন্ন অজুহাতে আমাকে প্রায় দুই বৎসর শপথ গ্রহণ করতে না দিয়ে আপনাদের খেদমত থেকে বঞ্চিত করে রেখেছিল। অনেক চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে দুইবছর পর শপথ গ্রহণ করে আপনাদের সুখে-দুঃখে পাশে থেকে আমার যোগ্যতার সবটুকু দিয়ে উচ্চমহলে তদবির করে কক্্সবাজার পৌরসভার অবকাঠামো নির্মাণসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডের জন্য প্রায় ২২০ কোটি টাকার বরাদ্দ এনেছিলাম। কক্্সবাজার পৌরসভার ইতিহাসে এ পর্যন্ত কোন মেয়র এতবিশাল পরিমাণ বরাদ্দ আনতে পারেনি সেটা আমি চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলতে পারব। আমার দায়িত্বপালনকালে দলমত, ধর্ম-বর্ণ, ধনী-দরিদ্র সকলের জন্য সমান সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করেছিলাম। যার ফলে পৌরবাসী সম্পূর্ণ চাঁদাবাজমুক্ত ও নিরাপত্তার সহিত বসবাস করতে সক্ষম হয়েছিল।

শ্রদ্বেয় ভাই ও বোনেরা
আমার দায়িত্বপালনকালের দুই বৎসর যেতে না যেতেই সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এবং আমার উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে ঈর্ষান্বিত হয়ে আল্লামা দেলাওয়ার হোছাইন সাঈদীর মুক্তির দাবিতে আয়োজিত মিছিল, সমাবেশ অতপর সংঘাত-সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে পুলিশ কর্তৃক দায়েরকৃত মামলায় আমাকে জড়িয়ে চার্জশিট প্রদান করার অজুহাতে বরখাস্ত করে। অথচ আমি সেসময় অসুস্থ হয়ে পড়ায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলাম। উক্ত মামলায় আমাকে জড়িয়ে চার্জশিট প্রদানের বিরুদ্ধে মাহামান্য হাইকোর্টে আমি রিট করলে মহামান্য হাইকোর্ট চার্জশিট থেকে আমার নাম বাদ দেয়ার জন্য নির্দেশনা দেয়। কিন্তু রাজনৈতিক কারণে আমাকে চার্জশিট থেকে বাদ দেয়নি। দীর্ঘ তিন বৎসর আমি আইনী লড়াই চালিয়ে আদালতে আমার সকল তথ্য-উপাত্ত দাখিল করেছি। সব আইনী যুক্তি আমার পক্ষে থাকার পরও দীর্ঘসূত্রিতার কারণে আমি পৌরবাসীর সেবা করার জন্য দায়িত্বগ্রহণ করতে পারিনি। এরপরেও আমি পৌরবাসীকে ছেড়ে কোথাও পালিয়ে যাইনি। পৌরবাসীর পাশে থেকে আমি সাধ্যমত খেদমত করার চেষ্টা করেছি। আল্লাহর ইচ্ছা এবং আপনাদের ভোটে যদি আমি এইবার নির্বাচিত হই তাহলে উক্ত মামলায় আমাকে আর বরখাস্ত করার কোন সুযোগ নেই। আপনারা আমার উপর আস্থা রেখে আমাকে যে দায়িত্ব অর্পণ করেছিলেন সে দায়িত্ব আমাকে পুরোপুরি পালনের সুযোগ না দিয়ে আমার ওপর জুলুম করা হয়েছে এবং বঞ্চিত করা হয়েছে আপনাদের ভালবাসা ও সেবা থেকে। এজন্য আমি আপনাদের বিবেকের আদালতে আমার ওপর জুলুমের বিচার ছেড়ে দিলাম।

প্রিয় পৌরবাসী
এবার আপনাদের অধিকার হরণের প্রতিশোধ নেয়ার সুযোগ এসেছে। আমি ভীতু বা কাপুরুষ নই। আমি আপনাদের খেদমতে নিয়োজিত থাকতে চাই। তাই অধিকারহারা পৌরবাসীর অনুরোধে আমি আবারও মেয়রপ্রার্থী হয়ে নারিকেল গাছ মার্কা নিয়ে আপনাদের মাঝে উপস্থিত হয়েছি। আল্লাহর রহমতে আপনাদের দোয়া ও ভালবাসা নিয়ে আমার দৃঢ় বিশ্বাস এবারেও আমি আপনাদের মেয়র নির্বাচিত হব ইনশাআল্লাহ। আমার উত্তরোত্তর সমর্থন ও গণজোয়ার দেখে নৌকা মার্কার প্রার্থী ও সমর্থকরা ইতিমধ্যে আমার নির্বাচনী কর্মীদের গ্রেফতার, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়ারানি করছে। আমার প্রতিপক্ষ নৌকার প্রার্থী জনগণের ভোটাধিকার হরণ করে ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে ক্ষমতায় আসতে চায়। কিন্তু আমি এবং আমার নির্বাচনি কর্মীরা সকল প্রকার উসকানি ও ভয়ভীতিকে উপেক্ষা করে ধৈর্য ও সাহসিকতার সাথে নির্বাচনী কাজ চালিয়ে যাচ্ছি এজন্য আমি আমার নির্বাচনী কর্মী ও সমর্থকদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। বিগত নির্বাচনেও ভোটের আগে পরে ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টির মাধ্যমে আপনাদের অধিকার হরণ করার হীন প্রচেষ্টা চালিয়েছিল কিন্তু আপনাদের সাহসী ভূমিকা কারণে ভোট ডাকাতরা পিছু হটতে বাধ্য হয়। আমি এবারেও সাহসিকতার সাথে ভোটকেন্দ্রে এসে ভোট ডাকাতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন বলে আশাকরি। আমরা প্রশাসনের নিকট আবেদন জানাই সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ এবং অবাধ নির্বাচন দিন। এখানে ভোট ডাকাতি হলে, বিশৃংখলা সৃষ্টি হলে পর্যটন নগরী কক্সবাজারের সুনাম ও মর্যাদা ভুলূণ্ঠিত হবে যা আমাদের কারো জন্য কল্যাণকর হবে না।

প্রাণপ্রিয় পৌরবাসী
আগামীতে আপনাদের সমর্থনে মহান আল্লাহর রহমতে আমি মেয়র নির্বাচিত হলে আমাদের প্রাণপ্রিয় কক্সবাজার শহরকে আন্তর্জাতিক মানের শহরে পরিণত করার লক্ষ্যে নিন্মোক্ত কাজগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সম্পন্ন করব ইনশাআল্লাহ।

১. নাগরিক সেবা: আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে দ্রুত নাগরিকসেবা নিশ্চিতকরণ এবং হয়রানিমুক্ত পৌর প্রশাসন গড়ে তুলার লক্ষে পৌর কার্যালয়কে জনগণের “সেবাঘর” হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
২. আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন নগরী: পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত কক্্সবাজারবাসীর জন্য আল্লাহ প্রদত্ত বিশাল প্রাকৃতিক সম্পদ। আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন সেবা ও নিরাপত্তা এবং পর্যাপ্ত বিনোদনের ব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমে কক্্সবাজারকে বিশ্বের মাঝে আরো পরিচিত করে গড়ে তোলা হবে।
৩. জলাবদ্ধতা নিরসন ও যানজটমুক্ত শহর: জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষে ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধনিকায়ন করার জন্য খাল ও নালাকে অবৈধ দখলমুক্ত করা হবে।
যানজটমুক্ত কক্্সবাজার শহর গড়তে ৩টি “সাবওয়ে” বা বিকল্প সড়ক নির্মাণ করা হবে। অবৈধ যানবাহন শহরে প্রবেশাধিকার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে।
৪. জনস্বাস্থ্য: নিরাপদ ও সুপেয় পানি সরবরাহের লক্ষ্যে আধুনিক পানি শোধনাগার কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। পরিচ্ছন্ন ও দূষণমুক্ত শহর বিনির্মাণে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন এবং ডাম্পিং স্টেশনের কার্যক্রমকে পূর্ণাঙ্গ রূপদান। পাশাপাশি পরিষ্কার ও দুষণমুক্ত শহর গড়ে তুলতে জনসাধারণের সচেতনতার জন্য “ক্লিন কক্্সবাজার” কর্মসূচী গ্রহণ করা হবে।
৫. আবাসন: ঝুঁকিপূর্ণস্থানে বসবাসরত জনসাধারণের জন্য নিরাপদ আবাসনের ব্যবস্থা করা হবে। পাহাড়কাটা বন্ধের জন্য কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হবে।
৬. শিক্ষা: প্রতিটি ওয়ার্ডে “মডেল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান” গড়ে তুলা হবে। দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের উচ্চতর শিক্ষার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পৌরসভার নিয়ন্ত্রনাধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহকে পর্যায়ক্রমে উচ্চতর শ্রেণিতে উন্নীত করে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা।
৭. বেকারত্ব দূরীকরণ: শিক্ষিত ও স্বল্পশিক্ষিত যুবকদের পর্যটনসহ কর্মমূখী অন্যান্য বিষয়ে দক্ষতা অর্জনের জন্য প্রশিক্ষণ এবং কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে।
৮. মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন: মাদকের বিরুদ্ধে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলা এবং যুব সমাজের চরিত্র বিধ্বংসী মাদক কারবারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থাগ্রহণ করা। পাশাপাশি শিশু-কিশোর ও যুবক ভাইদের চিত্ত বিনোদনের জন্য ক্রীড়া ও সাহিত্য-সাংস্কৃতিক কার্যক্রম জোরদার করা হবে।
৯. স্বাস্থ্যসেবা ও হেলথ্ ট্যুরিজম: জনসাধারণের সুচিকিৎসার জন্য আর্ন্তজাতিক মানের চিকিৎসাকেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ পাশাপাশি “হেলথ ট্যুরিজম” কে অগ্রাধিকার দিয়ে দেশী-বিদেশী পর্যটককে আকৃষ্ট করার ব্যবস্থা গ্রহণ।
১০. সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজমুক্ত শহর বিনির্মাণ: জনসাধারণের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা এবং সংরক্ষণের জন্য ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে কমিটি গঠন করা হবে।

পরিশেষে আমি আপনাদের দোয়া ও সমর্থন এবং আল্লাহর সাহায্যে সকলের সমন্বিত পরামর্শ ও সহযোগিতার মাধ্যমে উল্লেখিত কর্মকান্ড সম্পাদন করে কক্সবাজার পৌরসভাকে একটি সুন্দর, পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন নগরীতে পরিণত করতে বদ্ধপরিকর। মহান আল্লাহ আমাদের সহায় হউন-আমীন।

বিনীত
সরওয়ার কামাল
মেয়র পদপ্রার্থী
প্রতীক-নারিকেল গাছ
কক্সবাজার পৌরসভা নির্বাচন ২০১৮

কক্সবাজার নিউজ সিবিএন’এ প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।

সর্বশেষ সংবাদ

মহেশখালীতে বন্দুক ও কাতুর্জসহ মানবপাচার মামলার আসামী গ্রেফতার

চকরিয়া থানার আধুনিক দৃষ্টি নন্দন ভবন উদ্বোধন করলেন আইজিপি

অধ্যক্ষ আবদুল হক একটানা তিনবার সেরা প্রতিষ্ঠান প্রধান হলেন

প্রাথমিকে ‘কমন প্রশ্নে’ সহজ পরীক্ষা

আবদুর রহমান বদি কি নির্বাচন করতে পারবেন ?

পুলিশের আইজি এখন কক্সবাজারে

খরুলিয়ায় পিক-আপ সিএনজি ও বাসের ত্রিমুখী সংঘর্ষ

টেকনাফে কথিত বন্দুকযুদ্ধে একজন নিহত

দেশে ১৬৬৬ জন মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত কয়েদীর ফাঁসি হাইকোর্টে অনুমোদনের অপেক্ষায়

বিএনপি’র মনোনয়ন প্রার্থীদের সাক্ষাতকার আজ রোববার থেকে শুরু

দুবাইয়ে সেরা গীতিকারের সম্মাননা পেলেন নাটোরের মেয়ে সোহানী

আজ চকরিয়া আসছে আইজিপি ড. জাবেদ পাটোয়ারী

পেকুয়ায় বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে প্রেমিকার অনশন!

তাহলে কী জাফর-আশেক-কানিজ-বদি পাচ্ছেন নৌকার টিকেট!

ইসলামাবাদে যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় যুবক নিহত

‘নেতানিয়াহু, ট্রাম্প ও বিন সালমান শয়তানের ৩ অক্ষশক্তি’

উখিয়ায় অপহৃত যুবক উদ্ধার, দুই অপহরণকারী আটক

চ্যানেল কর্ণফুলীর কক্সবাজার প্রতিনিধি সেলিম উদ্দীন

‘পারস্পরিক কল্যাণকামিতার মাধ্যমেই সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গঠন সম্ভব’

ধানের শীষে নির্বাচন করবে জামায়াত!