অভ্যাস ও চরিত্রের কারণে প্রত্যেক মানুষ আলাদা স্বভাবের। সেই স্বভাবের সূত্রে মানুষের মাঝে বাসা বাঁধে বিচিত্র কিছু শখ। মানুষের বিচিত্র শখের কোনো শেষ নেই। তাইতো বলা হয়- শখের তোলা আশি টাকা। শখের বসে এক-দুই বছর নয় টানা ৬৬ বছর বাম হাতের নখ কাটেননি ৮২ বছর বয়সের শ্রীধর চিল্লার। নখ না কাটার কারণে তার ওই নখের দৈর্ঘ্য হয়েছে ৩২ ফুট। নাম উঠেছে গিনেস বুকে।

১৯৫২ সাল থেকে বাম হাতের নখ কাটা বন্ধ করেন শ্রীধর চিল্লাল। এই ৬৬ বছরের যাত্রাটি খুব একটা সুখকর ছিলো না তার জন্য। অনেক কিছু ত্যাগ করতে হয়েছে তাকে।

ভারতের পুনে শহরে জন্ম গিনেস বুকের সবচেয়ে বড় নখের অধিকারী শ্রীধর চিল্লালের। অস্বাভাবিক লম্বা নখের কারণে শ্রীধর চিল্লালের হারাতে হয়েছে বাম কানের শ্রবণ শক্তি, বিকৃত হয়েছে বাম হাতের নখ।

ঘটনার সূত্রপাত হয় শ্রীধর চিল্লালে ১৪ বছর বয়সে। সে সময় তার এক স্কুল শিক্ষকের হাতের নখ বেশ বড় ছিলো। কিন্তু কোনো একদিন এক ঘটনায় ভেঙে যায় সেই শিক্ষকের নখ। শোনা যায়, শিক্ষকের নখ ভাঙার ঘটনায় জড়িত ছিলো শ্রীধর নিজে। আর তাই তখনই নিজের নখ বড় রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সবচেয়ে বড় নখের অধিকারী মানুষ হিসেবে নিজেকে দেখার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

তারপর শুরু হয় সেই অধ্যবসায়। নখ যাতে ভেঙে না যায় তার নখ। এ এক কঠিন তপস্যা। নখ রক্ষা করতে শ্রীধরকে খেলাধুলা বন্ধ করে দিতে হয়। কারণ, খেলতে গেলে নখ ভেঙে যেতে পারে, তাই নখ বাঁচাতে খেলাধুলা এড়িয়ে চলা শুরু করেন শ্রীধর।

নখ যতো বাড়তে থাকে, ততো বাধা আসতে থাকে তার। এক পর্যায়ে নিজের খুটিনাটি কাজ করার জন্যও অন্যের সহযোগিতা নিতে হতো শ্রীধরকে। কিন্তু ধৈর্য্য হারাননি তিনি। নানা বাধা-বিপত্তি পায়ে ঠেলে এগিয়ে যান তিনি। নখ যখন কয়েক ফুট লম্বা হয়ে যায় তখন বাইরে কাজ করতেও সামাজিক নানা সমস্যায় পড়তে হয়েছে তাকে।

এই লম্বা নখ নিয়ে শ্রীধর চিল্লাল চলতি মাসের ১১ জুলাই যান নিউইয়র্কে। অবশেষে ১২ জুলাই নিউইয়র্কের অভিজ্ঞ ডাক্তারের সহায়তায় কাটা হয় শ্রীধর চিল্লালের নখ।

পৃথিবীর সবচেয়ে দীর্ঘ এই নখগুলোর দেখা মিলবে নিউইয়র্কের রিপ্লেস বিলিভ ইট অর নট এর সংগ্রহশালায়।
-collected

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •