মহেশখালী কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের ব্লকের কাজ চলছে জালালাবাদে

শাহিদ মোস্তফা শাহিদ, কক্সবাজার সদর:

জাইকা-এর অর্থায়নে কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি বাংলাদেশ লিঃ কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ১২০০ মেগাওয়াট ও কয়লা ভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়মের মাধ্যমে ব্লকের কাজ চলছে কক্সবাজার সদরের জালালাবাদ ইউনিয়নে। এ নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে বিরূপ মন্তব্য শুনা যাচ্ছে। জানা গেছে, মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ী মৌজার অধিগ্রহনকৃত ১৪১৪.০৫ একর ভুমিতে নির্মান হচ্ছে কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প। এ প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন উন্নয়নের কাজও চলমান রয়েছে। নির্মানের একটি অংশ ব্লকের কাজ চলছে সদরের জালালাবাদ ইউনিয়নের ফরাজী পাড়া এলাকায় জেডএমবি ও টিকে ব্রিক ফিল্ডে।

স্থানীয়রা জানায়, মহেশখালী উপজেলায় ব্লক তৈরীর স্থান না থাকায় এবং নির্মাণ সামগ্রী সেখানে নিয়ে তৈরী করলে খরচ বেশি পড়ার আশংকায় সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার কাজে অনিয়ম করার মন মানসিকতায় ৩০ কিলোমিটার দূরে এসে এ ব্লক গুলো তৈরী করছে। কাজের ম্যানুয়াল অনুযায়ী তৈরীকৃত ব্লকে সিলেটের পাথুরে কংকর ব্যবহারের নিয়ম থাকলেও ব্যবহার করা হচ্ছে স্থানীয় ব্রিক ফিল্ডের ইটের লাল কংকর, ১নং বালি ব্যবহারের নিয়ম থাকলেও ব্যবহার করা হচ্ছে ঈদগাঁও নদীর অপরিষ্কার বালি। যা উক্ত কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পে ব্যবহার করা হলে দীর্ঘস্থায়ী হবে না বলে মত প্রকাশ করেন স্থানীয় জিয়াউল হক, নাছির উদ্দীন, সাজেদুল করিমসহ অনেকে। সরেজমিন ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, ১০/১২ জন শিশু শ্রমিক উক্ত ব্লক তৈরীতে নিয়োজিত রয়েছে। একদিকে ব্লক তৈরী হলেও অন্যদিকে তৈরীকৃত ব্লকে ফাটল ধরেছে।

খোঁজ খবর নিয়ে জানা গেছে, উক্ত প্রকল্পের আওতায় ৪০ হাজার ব্লক নির্মান কাজের টেন্ডার হয়েছে। ইতিপুর্বে ৪/৫ হাজার ব্লকের কাজ শেষ হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার প্রকল্প কর্মকর্তার যোগসাজশে প্রতিষ্ঠানের তদারক মাতারবাড়ী এলাকার আনচার নামের এক ব্যক্তি এসব অনিয়মে জড়িত বলে জানা গেছে। এসব বিষয়ে জানতে আনচারের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানায়, কোথাও লিখা নাই সিলেটি পাথর ও ১নং বালি ব্যবহারের। যেমন মনে হয় তেমন ব্যবহার করা যাবে। এ ব্যাপারে মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল কালামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানায়, প্রকল্পটি আমাদের অধীনস্থ নয়, তাদের নিজস্ব কোম্পানির নিয়োজিত ঠিকাদাররা তদারকি করে থাকে কাজগুলো। জালালাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইমরুল হাসান রাশেদ বলেন, ফরাজী পাড়া এলাকায় কিছু ব্লক নির্মানের কাজ চলছে বলে শুনছি। তবে অনিয়মের বিষয়টি এখনো জানি না। খোঁজখবর নিয়ে অনিয়মের প্রমান পাওয়া গেলে সংশ্লিদের অবহিত করা হবে। তবে যে কোন ব্লক নির্মাণে স্থানীয় ইটের কংকর ব্যবহার করলে কাজের টেকসই হবে না বলে অভিমত ব্যক্ত করেন তিনি।

উল্লেখ্য, সরকারের মেগা প্রকল্পের আওতায় মহেশখালী মাতারবাড়ী মৌজার অধিগ্রহনকৃত ১৪১৪.০৫ একর ভূমি গত ১৪/০৮/১৪ সালে প্রত্যাশী সংস্থাকে দখল হস্থান্তর করা হয়। উক্ত প্রকল্পটি ৩৬ হাজার টাকার বিনিময়ে অনুমোদন করে সরকার। সেই সময় বাংলাদেশ সরকারের তরফ থেকে বলা হয়েছিল এই প্রকল্পে ২৯ হাজার কোটি টাকা দেবে জাইকা এবং বাংলাদেশ সরকার ৫ হাজার কোটি টাকা। স্থানীয়রা জানায়, অনিয়মের মাধ্যমে তৈরী হওয়া সমস্ত ব্লক পুনরায় তৈরী ও কাজের গুনগত মান বজায় রাখতে সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

কক্সবাজার নিউজ সিবিএন’এ প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।

সর্বশেষ সংবাদ

পেকুয়ায় যাত্রীবাহী বাস খাদে, নিহত-১ আহত-২

বৃহত্তর ঐক্যের বড় বাধা বিএনপিতেই!

আল্লাহর বন্ধু হবেন যেভাবে

মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আইসিসির তদন্ত শুরু

‘যৌনতায় অপটু’ ট্রাম্প

রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে হুমকির মুখে কক্সবাজারের জীববৈচিত্র্য

প্রাথমিক শিক্ষা শক্তিশালীকরণ

পেকুয়া বড়ভাইকে কুপিয়ে নগদ টাকা লুটে নিলো ছোটভাই

পেকুয়ায় ইয়াবা সহ যুবক আটক

পেকুয়া শিলখালি টাইগার স্টার ক্লাবের ফুটবল ফাইনাল খেলা সম্পন্ন

চকরিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ‘সততা স্টোর’ উদ্বোধন

চকরিয়া আ’লীগ এসএম মনজুর চৌধুরী আর নেই, আজ সকাল ১১টায় জানাজা

রামুতে ওবায়দুল কাদেরের আগমনে প্রস্তুতি সভা ও স্বাগত মিছিল অনুষ্ঠিত

‘সড়ক পথে নির্বাচনী প্রতিটি পথসভা জন সমুদ্রে পরিণত হবে’

শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের আদর্শে মানব সেবায় ব্রতী হতে হবে : বিনায়ক চক্রবর্তী

মহেশখালী শাপলাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্টিত

উখিয়ায় বজ্রপাতে নিহত ১ আহত ২

বিএনপি নেতা হাবিব-উন-নবী খান সোহেল গ্রেফতার

রামুর গর্জনিয়ায় বজ্রপাতে একই পরিবারের নারীসহ আহত ৫

কক্সবাজারে প্রথম নির্মিত হচ্ছে সবচেয়ে বড় ব্যাগ ও প্যাকেট তৈরির প্রতিষ্ঠান