শূন্য পড়ে আছে রাখাইনের ট্রানজিট ক্যাম্প, ফিরছে না একজন রোহিঙ্গাও

বিদেশ ডেস্ক:
মিয়ানমার-বাংলাদেশ প্রত্যাবাসন চুক্তি অনুযায়ী রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে রাখাইনে প্রস্তুত করা হয়েছে ট্রানজিট ক্যাম্প। সেই ক্যাম্পে মিয়ানমারের অভিবাসন কর্মকর্তারা যেমন আছেন, সাংবাদিকরাও আসছেন প্রত্যাবাসন সংক্রান্ত প্রতিবেদনের খোঁজে। তবে চুক্তি অনুযায়ী যাদের বাংলাদেশ থেকে ফিরবার কথা, সেই রোহিঙ্গাদেরই কেবল দেখা মেলে না। প্রতিদিন দেড়শ জন রোহিঙ্গাকে গ্রহণের প্রতিশ্রুতি ছিল মিয়ানমারের। তবে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, এ পর্যন্ত বড়জোর ২০০ জনের প্রত্যাবাসন সম্পন্ন হয়েছে। নেপিদো অনেক রোহিঙ্গাকে এরইমধ্যে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে দাবি করলেও এরইমধ্যে এ সংক্রান্ত ২ টি সাজানো ঘটনা ধরা পড়েছে তাদের। বাংলাদেশের দাবি, আসলে প্রত্যাবাসন শুরুই হয়নি।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে নির্মিত ট্রানজিট ক্যাম্পকয়েক প্রজন্ম ধরে রাখাইনে বসবাস করে আসলেও রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব স্বীকার করে না মিয়ানমার। গত বছরের আগস্টে রাখাইনে নিরাপত্তা বাহিনীর তল্লাশি চৌকিতে হামলার পর রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে পূর্বপরিকল্পিত ও কাঠামোবদ্ধ সহিংসতা জোরালো করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। খুন, ধর্ষণ ও অগ্নিসংযোগের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা। কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরে মানবেতর জীবনযাপনে বাধ্য হওয়া এসব রোহিঙ্গাদের ফেরাতে বাংলাদেশ ও জাতিসংঘের সঙ্গে মিয়ানমার চুক্তি স্বাক্ষর করলেও এখনও শুরু হয়নি প্রত্যাবাসন।

বাংলাদেশের সঙ্গে স্বাক্ষরিত প্রত্যাবাসন চুক্তি অনুযায়ী দিনে ১৫০ রোহিঙ্গাকে গ্রহণ করার কথা ছিল মিয়ানমারের। এজন্য ট্রানজিট ক্যাম্পও প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে এএফপির এক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বেশিরভাগ সময়ই খালি পড়ে থাকে ক্যাম্পগুলো। মিয়ানমারের অভিবাসন কর্মকর্তারা কাগজপত্র নিয়ে এই ট্রানজিট ক্যাম্পে অপেক্ষা করেন। প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করেন সাংবাদিকরা। কেবল রোহিঙ্গাদের দেখা মেলে না সেখানে।

মিয়ানমারের অভিবাসন বিষয়ক কর্মকর্তা উইন খাইং বলেন, ‘জানুয়ারি থেকেই আমরা তাদের গ্রহণ করতে প্রস্তুত।’ তবে এএফপি জানিয়েছে, রোহিঙ্গারাও নিরাপত্তার অভাবে মিয়ানমারে ফিরতে রাজি হচ্ছেন না। মিয়ানমারও নিরাপত্তা নিশ্চিতের শক্তিশালী কোনও আশ্বাস দিতে পারছে না। তাদের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে এলেও মাত্র ২০০ জনের প্রত্যাবাসন সম্পন্ন হয়েছে। এরপরও মিয়ানমার বেশ কয়েকবার দাবি করেছে যে অনেক রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তারা জানায়, মিয়ানমার থেকে নৌকায় করে পালানোর চেষ্টা করা রোহিঙ্গাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে তাদেরকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের সঙ্গে এক করতে নারাজ বাংলাদেশ। বাংলাদেশি শরণার্থী কমিশনার মোহাম্মদ আবুল কালাম বলেন, প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া এখনও শুরু হয়নি।

রোহিঙ্গা নারীরা জানান, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা ধর্ষণ চালায়। তারা চোখের সামনে দেখতে পান ভয়াবহ নিধনযজ্ঞ। জাতিসংঘ এই ঘটনাকে জাতিগত নিধনযজ্ঞের ‘পাঠ্যপুস্তকীয় উদাহরণ’ বলে উল্লেখ করে।

গত এপ্রিলে পাঁচজন রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নিয়েছে বলে খবর প্রকাশিত হলেও পরে মিয়ানমারের মিথ্যাচার ধরা পড়ে। তবে পরে জানা যায় যে এটা স্রেফ প্রচারণা ছিল। শুক্রবার সাংবাদিকদের সামনে ৯জন কথিত প্রত্যাবাসিত রোহিঙ্গাকে হাজির করা হলেও অল্প সময় পরেই জানা যায়, এরা বাংলাদেশ থেকে ফিরে যায়নি। প্রত্যাবাসন বিলম্বিত হওয়ায় বাংলাদেশ-মিয়ানমার সম্পর্কও খারাপ হয়েছে। দেরীর জন্য দুইপক্ষই পরষ্পরকে দোষারোপ করে। এরইমাঝে মিয়ানমার রাখাইনে উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে। রোহিঙ্গা বসতি ভেঙে নগরায়ন করছে কর্তৃপক্ষ।

জাতিসংঘ জানিয়েছে, রাখাইনের পরিস্থিতি এখনও রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের জন্য নিরাপদ ও সহায়ক নয়। তবু পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য মিয়ানমারের সঙ্গে জাতিসংঘ একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। অ্যামনেস্টি জানিয়েছে মানবতাবিরোধী অপরাধের জড়িত মিয়ানমারের সেনা কর্মকতাদের বিরুদ্ধে বিচার করা উচিত। সর্বশেষ মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের টিআইপি প্রতিবেদনেও দেখা গেছে মানবপাচারে শীর্ষে রয়েছে মিয়ানমার। এসব পাচার ঠেকাতে যথাযথ ভূমিকাও নেয়নি তারা।

কক্সবাজার নিউজ সিবিএন’এ প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।

সর্বশেষ সংবাদ

পোকখালীতে চিংড়ি ঘেরে ডাকাতির চেষ্টা, মালিককে কুপিয়ে জখম

মহেশখালীতে ৩দিন ব্যাপী কঠিন চীবর দানোৎসব শুরু

ইন্টারনেট সুবিধার আওতায় কক্সবাজার প্রেসক্লাব

আওয়ামীলীগ ভাওতাবাজিতে চ্যাম্পিয়ন : ড. কামাল

সত্য বলায় এসকে সিনহাকে জোর করে বিদেশ পাঠানো হয়েছে: মির্জা ফখরুল

সাতকানিয়ায় মাদকসহ আটক ২

কক্সবাজারে হোটেল থেকে বন্দী ঢাকার তরুণী উদ্ধার

৩০০ আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত ইসলামী আন্দোলনের

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে খেলনা বেলুনের সিলিন্ডার বিস্ফোরণে আহত ৯

চকরিয়া আসছেন পুলিশের আইজি, উদ্বোধন করবেন থানার নতুন ভবন

না ফেরার দেশে গর্জনিয়ার জমিদার পরিবারের দুই মহিয়সী নারী

চকরিয়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে যুবকের মৃত্যু

চকরিয়ায় ৪০শতক জমিতে দরিদ্র কৃষকের ক্ষেতে দুবৃর্ত্তের তান্ডব

পিসফুল ইউনাইটেড ক্লাবের অগ্নিদগ্ধে মৃত রায়হানের স্বরণ সভা ও দোয়া মাহফিল 

১০ নম্বরি হলেও নির্বাচন বয়কট করবো না : ড. কামাল

প্রকৃত নেতা মাত্রই পল্টিবাজ : ইমরান খান

ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে অধিনায়ক সাকিব, ফিরেছেন সৌম্য

বিজয় ফুল তৈরী প্রতিযোগিতায় চট্টগ্রাম বিভাগে প্রথম উখিয়ার নওশিন

চকরিয়ার রুবেল বাঁচতে চায়

দূর্নীতির দায়ে চট্টগ্রামের কারা ডিআইজি প্রিজন ও জেল সুপারের বদলী