ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ারদের কাছে কেন সিভিল ব্যুরোক্রেসি জনপ্রিয় হয়ে উঠছে?

মোহাম্মদ ওমর ফারুক

৩৭তম বিসিএসে ইইই(ইলেক্ট্রিক্যাল ইলেক্ট্রনিক্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং) আর মাইক্রোবায়োলজির ছাত্র যথাক্রমে প্রশাসন ক্যাডার আর ফরেন ক্যাডারে প্রথম হওয়াতে অনেকেই গোস্যা হয়েছেন এবং এই গোস্যাকে শক্তিতে পরিণত করে শতশত লাইক কুড়ানো স্ট্যাটাস প্রসব করছেন! অনুসন্ধান করা দরকার, রাষ্ট্রের বিগ বাজেটের বিশেষায়িত শিক্ষায় শিক্ষিত মেধাবীরা কেন স্ব স্ব ক্ষেত্রভিত্তিক ক্যাডার বাদ দিয়ে ফরেন, পুলিশ আর প্রশাসন ক্যাডার পছন্দ করছে!

১) আমাদের দেশের পারস্পেক্টিভ হল, ক্লাশের সর্বোচ্চ মেধাবীরাই বুয়েট এবং মেডিকেলে পড়ার সুযোগ পায়। বুয়েট আর মেডিকেল থেকে বের হয়ে সর্বোচ্চ মর্যাদাপূর্ণ সরকারি চাকরি ক্যাডার সার্ভিসে প্রকৌশল ক্যাডার আর স্বাস্থ্য ক্যাডার হিসেবে জয়েন করে তারা এক প্রকার হতাশায় নিমজ্জিত হয়! কেননা, প্রথম পোস্টিং থেকেই তাদেরকে বশ্যতা স্বীকার করে নিতে হয় প্রশাসন ক্যাডারের। অথচ ক্লাশে ‘প্রশাসন ক্যাডার’ প্রাপ্ত বন্ধুটি ছিল বরাবরই ব্যাক বেঞ্চার! এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে অধিকতর সহজ ডিসিপ্লিনে পড়ে প্রশাসন ক্যাডার প্রাপ্ত হয়ে ‘ব্যাক বেঞ্চার’ বন্ধুটি তাদের উপর ছড়ি ঘুরাচ্ছে!

২) জেনারেল ক্যাডারের (এডমিন, ফরেন, পুলিশ, ট্যাক্স, কাস্টমস, ইত্যাদি) উপসচিব লেভেলের কর্মকর্তাকে ২৫-৩০ লাখ টাকা দামের প্রাইভেট গাড়ি প্রদান করা হয় এবং সেই গাড়ির মেইনটেনেন্স খরচ হিসেবে মাসিক ৪০ হাজার টাকা দেয়া হয়! অপরদিকে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রকৌশল ক্যাডারের সমপর্যায়ের কর্মকর্তার জন্য এ ধরনের কোন ব্যবস্থা রাখা হয়নি!

৩) মন্ত্রণালয়ের কার্যকরী প্রধান হলেন সচিব। তাকে কেন্দ্র করেই একটি মন্ত্রণালয়ের সফলতা-ব্যর্থতা নির্ণিত হয়। এজন্য ক্ষেত্রভিত্তিক বিশেষজ্ঞ কর্মকর্তা হিসেবে শিক্ষা সচিব হবেন একজন শিক্ষক, স্বাস্থ্য সচিব হবেন একজন ডাক্তার, এমনটিই হওয়ার কথা ছিল না? কিন্তু ঔপনিবেশিক শাসন-শোষনের সিলসিলাপ্রাপ্ত আমাদের সিভিল সার্ভিসের সিস্টেম তা মানতে রাজি নয়! আমাদের সিস্টেমের একটাই কথা, এডমিন ক্যাডাররাই সব কাজের কাজি!

তাই, ভাইলোক, ত্বকি আর শাকিল এডমিন আর ফরেন ক্যাডার হওয়াকে আপনারা যারা বিশেষজ্ঞ ইস্যুতে রাষ্ট্রের অর্থের অপচয় দেখছেন, আশাকরি আপনারা মন্ত্রণালয়ের সচিব পদে ডেপুটেশনে বিশেষজ্ঞ কর্মমকর্তা নিয়োগের জন্যও আওয়াজ তুলবেন।

আমিও বিশ্বাস করি, ত্বকি আর শাকিলের আমলা হওয়াটা মেধার অপচয়। কিন্তু বাস্তবতা হল, যতদিন না সিভিল সার্ভিসে প্রশাসন ক্যাডারের দৌরাত্ম্য কমবে, জেনারেল ক্যাডারের মত প্রফেশনাল ক্যাডারেও সমান সুযোগ সুবিধা এবং কার্যকর মর্যাদা নিশ্চিত হবে, ততদিন পর্যন্ত ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়াররা স্ব স্ব ক্ষেত্র বাদ দিয়ে আমলা, কূটনীতিক কিংবা পুলিশ হওয়াটাকেই প্রিফারেবল মনে করবে!

লেখক : প্রভাষক , রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগ , কক্সবাজার সিটি কলেজ।

সর্বশেষ সংবাদ

বদরমোকাম হেফজখানার প্রধান শিক্ষক শামশুল আলম আর নেই

জনপ্রিয় তামিল সঙ্গীত পরিচালক কুরালারাসানের ইসলাম গ্রহণ

শনিবার জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন

যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে পাকিস্তান, খালি করা হচ্ছে হাসপাতাল

মুসলিম উম্মাহর বন্ধন হোক সুদৃঢ়

মেসির চেয়েও কঠিন এমবাপেকে আটকানো : মার্সেলো

কেমিক্যালের কারণে ছড়িয়েছে আগুন: তদন্ত কমিটি

কক্সবাজার সদর থানা পুলিশের অভিযানে গ্রেফতার-১৮

চার জেলায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ৫

চকবাজারে আগুনের ঘটনায় মামলা

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন

নাইক্ষ্যংছড়ি হাজি কালাম সরকারি কলেজে অমর একুশে পালিত

উখিয়ার এড. আবদুর রশিদ আর নেই : মাগরিবের পর জানাজা

টেকনাফে বিজিবির সাথে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মাদক ব্যবসায়ী নিহত, চার হাজার ইয়াবা উদ্ধার

কক্সবাজার সিটি কলেজে যথাযোগ্য মর্যাদায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপিত

কক্সবাজার ব্লাড ডোনেটিং ক্লাব উদ্যোগে বিনামুল্যে ৩শ রক্তের গ্রুপ নির্ণয়

রাস্তার পর্যটকদের রাত্রিযাপনের ব্যবস্থা করলো কক্সবাজার ছাত্রলীগ

চকরিয়ায় একুশের প্রথম প্রহরে শহীদ বেদিতে এমপি জাফর আলমের শ্রদ্ধাঞ্জলি

কক্সবাজার সরকারি কলেজে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন

একুশের প্রথম প্রহরে শহীদ বেদীতে টেকনাফ পৌর প্রেসক্লাবের পুষ্পমাল্য অর্পণ