মাইক্রোবায়োলজির ছাত্র কেন পররাষ্ট্র ক্যাডার হবে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের শিক্ষার্থী থাকতে?

তানভিরুল মিরাজ রিপন :

বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার ফিক্সড কোন মিশন ছিলো না, এখনো নাই।সরকার বদলের সাথে সাথে ইতিহাসকে নিজেদের মতো করে তৈরী করে পাঠ্য আবশ্যক করে দেওয়া ছাড়া।এরপর হয় একটা সময় পর ভুল ইতিহাস পড়ুয়া এবং আসল ইতিহাস পড়ুয়া দুই দলে বিভক্ত হয়ে যায়।পাশমুখী শিক্ষাব্যবস্থা কখনো আবিষ্কার এবং উদ্ভাবনি বা গবেষনার কাজকে এগিয়ে নেওয়ার মিশন হতে পারে না।দেশে যতসংখ্যক পাশের হার বাড়ে ততো সংখ্যক মেধাবী বাড়ে কি না সন্দেহ খুব।এখানে মেধাবীর সংজ্ঞার তারতম্য আছে।এই বাংলাদেশে আর্টস পড়ুয়াদের মোটেও মেধাবী মনে করা হয় না,বাংলা পড়ুয়া,রাষ্ট্র বিজ্ঞান পড়ুয়াদের, দর্শন,সর্বোপরি কলা অনুষদের কোন বিষয়ের ছাত্র ছাত্রীকে মোটেও মেধাবী মনে করেন না। তারই কারনে আমাদের অভিভাবকরা জোর করে সন্তানদের বিজ্ঞান বিভাগে পড়ান-অনেকে স্বাচ্ছন্দবোধ থেকে পড়েন।এস এস সিতে যতোটা বিজ্ঞান পড়ুয়ার তাকে,অতোটা এইচএসসি কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক পর্যায়ে থাকে না। সুতরাং এই দেশের মিশনটাকে উদ্ভটও বলা যাবে না, আবার শিক্ষামিশন বলাটা হবে গর্হিত অপরাধ।এই শিক্ষাব্যবস্থা জাতিকে মেধা ও প্রগতির দিকে নিয়ে যাওয়ার কথাটা কাগজে কলমে থাকলেও তাত্ত্বিকতা নির্ভর অক্ষম জাতি গঠনে খুবই ভূমিকা রাখে।

এইচ এস সি ফলাফলের পর হুমড়ি খেয়ে পড়ে প্রতিবছর পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে একটা আসন পাওয়ার জন্য।না পেলে অনেকে আত্মহত্যা করে।প্রতিটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন বিষয়ে স্নাতক,মাস্টার্স; চালু আছে । বেশিরভাগ শিক্ষার্থী গ্রাজুয়েট হয়ে চাকরি খোজেন। স্নাতক শেষে সবারই পছন্দ বিসিএস দিয়ে প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তা হওয়া।প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় বিভিন্ন বিষয়ে অনার্স;মাস্টার্স গ্র্যাজুয়েশন প্রদান করলেও কোনভাবে যে কর্মক্ষেত্রে সম্পৃক্ত হওয়ার মতো দক্ষ জনবল তৈরী করতে পারছে না।অনেকে বলে থাকেন বিশ্ববিদ্যালয় চাকরি খোজে দেওয়ার কাজ করে না।আমার কথা হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় কোন ভাবে জব এজেন্সি নয়;তবে কর্মঠ – সৃষ্টিশীল মানুষতো তৈরী করে।কিন্তু করেছে কোথাও?দুচারটা অস্বাভাবিকতা যেগুলো ঘটে সেগুলো হলো ন্যচারাল-প্রতিনিয়ত যদি অস্বাভাবিকতা গুলো স্বাভাবিকের মতো ঘটতে থাকে সেগুলো স্বাভাবিক এবং সফলতা।আদৌ বাংলাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলো তেমন স্বাভাবিকতা আনতে পারেনি।

৩৭ তম বিসিএস এর ফলাফল ঘোষনা করা হলো। যে ফলাফল হয়তো প্রমান করে অনেক কিছু কিন্তু এটা আবারও প্রমান করে দিলো বাংলাদেশের প্রতিটি কাঠামোতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার মানুষের অভাব খুব বাড়ছে।পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে পেশাদ্বারিত্ব আনার জন্যই তো বিভিন্ন অনুষদে, বিভিন্ন বিভাগে ভিন্ন ভিন্ন বিষয়ে অনার্স কোর্স চালু করেছে।কিন্তু বিসিএস ফলাফল দেওয়ার পর দেখা যায়-পেশা ও বিষয় সম্পূর্ন ভিন্ন ৩৭ তম বিসিএস-এ বুয়েট থেকে ইইই নিয়ে পড়ে পেশা হিশেবে পছন্দ করেছে অথচ তিনি হলেন প্রশাসন ক্যাডারে প্রথম;এবং যিনি মাইক্রোবায়োলজি নিয়ে পড়েছেন তিনি হলেন পররাষ্ট্র ক্যাডারে প্রথম।কেনো? দেশে এই একটা ক্ষেত্রে কি পেশাগত নির্দিষ্টতা এবং বিষয়গত নির্দিষ্টতা রাখা যায় না?তাহলে কেনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে লোক প্রশাসন বা জন প্রশাসন পড়ানো হচ্ছে?কেনো আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ খুলে পড়ানো হচ্ছে?কেনো বুয়েট থেকে এসে লোক প্রশাসনের পদ দখল করবে?ওটা অযোগ্যতা,নিয়মগতও অযোগ্যতা।

দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে আর বিষয়ভিত্তিক ভিন্নতা না থাকুক,না থাকুক স্পেশালিষ্ট ও বিষয়ভিত্তিক যোগ্যতাসম্পন্ন কোন পদ। হ-য-ব-র-ল নিয়মের মধ্য দিয়ে সবকিছুই চলুক।কি দরকার? আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ চালু রাখবে, পড়াবে অথচ-মাইক্রো বায়োলজির কেউ এসে সে পদ দখল করবে;হোক না সেটা মেধার মধ্য দিয়ে কিন্তু সেটা কাঠামোগত বৈষম্য।বুয়েটের মতো প্রতিষ্টানে সরকার লাখ লাখ টাকা খরচ করে একজন বুয়েটের ছাত্রের ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার পেছনে-ইইই’তে পড়ে একজন ছাত্র যখন প্রথম পছন্দ প্রশাসন ক্যডারকে নির্ধারন করে তখন লোক প্রশাসন বিষয়টির মোটেও দরকার থাকে না।এই রাষ্ট্রের আসলে ভবিষ্যৎ কাঠামোটা কি এখনো উদ্ভট নিয়মের ভেতরে নির্মান হবে?

সর্বশেষ সংবাদ

সেন্টমার্টিন বি এন স্কুলে কলেজ শাখার পাঠদানের অনুমোদন

৩০ এপ্রিলের মধ্যে শপথ না নিলে বিএনপি এমপিদের আসন শূন্য

ঈদগাঁওতে ঘন ঘন দিবারাত্রী লোডশেডিং

রাঙামাটি থেকে গ্রেফতার হলো নুসরাত হত্যা মামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারি রানা

অসহায় প্রতিবন্ধী পরিবারের আর্তনাদে আকাশ বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে

সামিটের এলএনজির জাহাজ এখন মহেশখালীতে

শনিবার রাত থেকে ইন্টারনেটের গতি ধীর হতে পারে

আজ পবিত্র শবে বরাত

ঈদের পর সরকারকে ১০ নম্বর হুঁশিয়ারি!

এবার খুরুশ্কুল আশ্রয়ণ প্রকল্পের সড়কের জমিতে ভবন নির্মাণ

মাতামুহুরী ব্রীজে ফের দেবে গেছে,  দূর্ঘটনার আশঙ্কা

চকরিয়ায় মাংসের মূল্য নির্ধারণ করলেন প্রশাসন

ভালুকিয়া যুব কল্যাণ সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাশেমের অকাল মৃত্যু

সব ধর্মের অনুসারীদের নিজ ধর্ম পালনের সমান সুযোগ নিশ্চিত করেছে সরকার-ধর্ম প্রতিমন্ত্রী

শহরের বায়তুশ শরফ এলাকা থেকে ৪ দিন ধরে কন্যা শিশু নিখোঁজ

সীতাকুণ্ডে কক্সবাজারের ‘ইয়াবাপ্রেমী’ দুই প্রেমিক যুগল আটক,২০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার

‘ধারালো দা’সহ আটক হামলাকারীর বিরুদ্ধে মামলা নেয়নি পুলিশ’

স্বপ্নজালের জরুরী সভা অনুষ্ঠিত

জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে মানববন্ধন

লামায় প্রান্তিক কৃষকের তামাক লুটের অভিযোগ, মারধরে আহত ৭