`বারো হাত কাঠালের তের হাত বিচি’

চকরিয়ায় একদিনে এক লাখ চারা রোপন!

এম.আর মাহমুদঃ

পুথির ভাষায় বলতে হয় “লাখে লাখে সৈন্য মরে, কাতারে কাতার; শুমার করিয়া দেখা গেল, সতের মাজার” ছোট বেলায় প্রবীনদের পুথি পাঠের আসরে এমন একটি বাক্য শুনে আনন্দিত হলেও তার অর্থ খুজে পাইনি। বয়সে পরিপূর্ণ হওয়ার পর “লাখে লাখে সৈন্য মরে, কাতারে কাতার; শুমার করিয়া দেখা গেল, সতের মাজার” এর অর্থ বুঝতে পেরেছি। তারপরও এসব কথা না বলা ভাল। কারণ বোবার কোন শত্র“ নেই। এনালক যুগের পুথির কথা ডিজিটাল যুগে কোন কাজে আসবে বলে আমারও মনে হয়না। তারপরও অতীতকে একেবারে বাদ দিয়ে ভবিষ্যৎ রচনা করা যায়না বলে পুরানো কথা গুলো বলতে হচ্ছে। বিশেষ করে কক্সবাজারের চকরিয়ার দুটি অংশে বিভক্ত। পশ্চিমাংশ- উপকূল, পূর্বাংশ- পাহাড় ও সমতল। উপকূল জুড়ে ছিল প্যারাবন, লবন, চিংড়ী ও শষ্য ভান্ডার। পূর্বাংশ ছিল বনজ সম্পদে ভরপুর, খাদ্য ভান্ডারে পরিপূর্ণ। বর্তমানে দুটি অংশই বনাঞ্চল নেই বললে চলে। প্রতিদিনই পরিবেশ বিপর্যয় হচ্ছে। আন্তর্জাতিক ভাবে পরিবেশ রক্ষায় বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। গত ৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালিত হয়েছে। সে দিবস উপলক্ষ্যে চকরিয়া উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আলোচনা সভা, র‌্যালী ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বৃক্ষ রোপন কর্মসূচী পালিত হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সরকারী-বেসরকারী দপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তারা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক শিক্ষার্থী এ কর্মসূচীতে উপস্থিত থেকে বৃক্ষ রোপন করেছেন। ক্রেল সুত্রে জানাগেছে, ওইদিন পুরো উপজেলার ১৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা, সবকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এক লাখ চারা রোপন করা হয়েছে। যে কথাটি কারো কারো কাছে বিশ্বাসযোগ্য হলেও অধিকাংশ মানুষের মতে একদিনে এক লাখ গাছের চারা রোপন যেন অবিশ্বাস্য ‘অনেকটা বারো হাত কাঠালের তের হাত বিচির মত’। প্রতি বছর জুন মাস আসলেই সরকারী ভাবে বন বিভাগের উদ্যোগে সংরক্ষিত বনাঞ্চলে বনায়ন কর্মসূচী বাস্তবায়ন করা হয়। সম্প্রতি দেশকে পরিবেশ বিপর্যয় থেকে রক্ষার জন্য সামাজিক বনায়নের মতো কর্মসূচী হাতে নিলেও কতটুকু সফল হয়েছে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট বন বিভাগ ভালোই জানে। সু-সংবাদ হচ্ছে চকরিয়ায় একদিনে এক লাখ চারা রোপন হয়ে থাকলে তার ২০ ভাগ গাছ বাচলেও চাট্টি-খানি কথা নয়। কারণ নাই মামার চাইতে কানা মামা ভাল। প্রবীনদের মতে- ৬ মাসের জন্য কিছু করতে হলে চাষাবাদ কর। এক যুগের জন্য কিছু করতে হলে বৃক্ষ রোপন কর। আর সারা জীবনের জন্য কিছু করলে ছেলে মেয়েদের সু-শিক্ষায় শিক্ষিত করো। কথাটি অত্যন্ত যুক্তি সংগত ও চিরন্তন সত্য। একটি প্রবাদ আছে- আল্লাহ্ গ্রাম সৃষ্টি করেছে, মানুষ সৃষ্টি করেছে শহর; মানব সভ্যতার যুগে শহর সৃষ্টি করতে গিয়ে আল্লাহ্ প্রদত্ত প্রাকৃতিক সম্পদ ধ্বংস করতে হয়েছে। বিশেষ করে বনজ সম্পদ। প্রতিদিনই বেদখল হয়ে যাচ্ছে পাহাড়ী ভূমি। যে কারণে পাহাড়ে বন্য প্রাণীর শোর-চিৎকার শুনা যায়না। অনেক বন্য প্রাণী ইতিমধ্যে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। এসব কারণে প্রতিনিয়তই পরিবেশের বারোটা বাজছে। এমন অবস্থা থেকে রক্ষার জন্য বন বিভাগের মাধ্যমে ন্যাড়া পাহাড়ে পুণরায় বনায়ন কর্মসূচী হাতে নিয়েছে। এতে কিছু কিছু ক্ষেত্রে সামান্য সফলতা আসলেও ব্যর্থতার পরিমাণই বেশী। যেখানে বন বিভাগ প্রশিক্ষিত একটি সরকারী দপ্তরের পক্ষে প্রতি বছর রোপিত বৃক্ষের অর্ধেক রক্ষা করা কষ্টসাধ্য ব্যাপার হয়ে দাড়িয়েছে। সেখানে শুধু একদিনে এক লাখ চারা রোপন করে তা রক্ষণাবেক্ষণ করা কিভাবে সম্ভব মাথায় আসেনা। আবার প্রতি বছর এ দিবসটি পালন করতে হয় কিছু কিছু গাছের চারাও রোপন করতে হয়। একদিনে যদি এক লাখ চারা রোপন করা হয় পরবর্তী সময়ে বৃক্ষি রোপনে ভুমি সংকট দেখা দিতে পারে। ছোট একটি চুটকি অবতারনা করে একদিনে এক লাখ চারা রোপনের বিষয়টি ইতি টানব। কোন এক সময় এক শিক্ষিত যুবক বেকারত্বের কষাঘাতে জর্জরিত হয়ে কলকাতা সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের কাছে গিয়ে আর্জি পেশ করলেন, আমার একটি চাকুরী দরকার। চাকুরী না হলে পরিবার পরিজন নিয়ে বাচা সম্ভব নয়। পরে মেয়র মহোদয় মানবিক কারণে ওই শিক্ষিত যুবককে বলে দিলেন- সিটি কর্পোরেশনে কোন শূণ্য পদ নেই। আছে শুধু বে ওয়ারিশ কুকুর নিধনে একটি শূণ্য পদ। বেকার যুবকটি বললেন আমি এ পদে চাকুরী করবো। বেশ হয়ে গেল তার চাকুরী। বেকার যুবকটি প্রতিদিন বেশুমার বেওয়ারিশ কুকুর নিধন করতে শুরু করল। সে মনে করছিল বেওয়ারিশ কুকুর নিধন শেষ হলে তার চাকুরী অন্য পদে পদায়ন হবে কিন্তু দুর্ভাগ্য অল্প সময়ে সিটি কর্পোরেশনের সব বেওয়ারিশ কুকুর নিধন করে মেয়র মহোদয়ের কাছে গিয়ে বললেন হুজুর কলকাতা সিটি কর্পোরেশনে আর কোন বেওয়ারিশ কুকুর নেই। আমি সব নিধন করে ফেলেছি। তখন মেয়র সাহেব হতাশ হয়ে বললেন- কি যে করলা প্রতিদিন ১-২টি করে কুকুর নিধন করলে তোমার চাকুরীটা থাকতো। এখন যেখানে বেওয়ারিশ কুকুর নেই সেখানে তোমার চাকুরীও নেই। হিসাব শাখা থেকে হিসাব করে বেতন গুলো নিয়ে যাও। তোমার আর চাকুরী নেই। অতএব মন্তব্য নিষ্প্রয়োজন।

সর্বশেষ সংবাদ

অবশেষে ইয়াবা ডন শাহাজান আনসারির আত্মসমর্পণ

বামপন্থী থেকে ইসলামী ধারা: আল মাহমুদের অন্য জীবন

ইয়াবা ব্যবসায়ীদের নিস্তার হবে না হবে না হবে না- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নতুন দুই মামলায় কারাগারে যাবে আত্মসমর্পণকারীরা

জামায়াত ভাঙছে, তারপর কী?

কক্সবাজারে মালয়েশিয়া পাচারের সময় ১৭ রোহিঙ্গা আটক

বিশ্বের ২৭২৯টি দলকে হারিয়ে নাসার প্রতিযোগিতায় বিশ্বচ্যাম্পিয়ন শাবি

আত্মসমর্পণ করেছে ১০২ ইয়াবা ব্যবসায়ী

আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে তালিকাভুক্ত ইয়াবা কারবারিরাও!

আত্মসমর্পণ করছে তালিকাভুক্ত ৩০ ইয়াবা গডফাদার

মঞ্চে আত্মসমর্পণকারী ইয়াবাকারবারিরা

৯ শর্তে আত্মসমর্পণ করছে ইয়াবা ব্যবসায়ীরা

শুরু হচ্ছে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের আত্মমসমর্পণ অনুষ্ঠান

জনপ্রিয় হয়ে উঠছে পার্চিং পদ্ধতি

ঈদগড়ের সবজি দামে কম, মানে ভাল

রক্তদানে তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে

যে মঞ্চে আত্মসমর্পণ

লামার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইসমাইল আর নেই

আজ আত্মসমর্পণ করবে টেকনাফের ১০২ ইয়াবা ব্যবসায়ী

আত্মসমর্পণের উদ্যোগের মধ্যেও ঢুকছে ইয়াবার চালান