(একরামের কন্যাদের জন্য উৎসর্গকৃত)
– আকতার নুর

নেটংপাহাড় থেমে গেছে নাফে, মাথিনের প্রেমে পড়ে;
ধীরাজ বাবু পালিয়ে গেছে কবে-ই, সুখহরণী ঝড়ে!
হাজার স্মৃতির এই যে বেলাভূমি, দ্বীপের শাহপরী-
শাহ সুজার সেই পরীবানু, শত বছর মরছে হুহু করি!
জিঞ্জিরাটার কতকথা জানো? দ্বীপ না দ্বীপান্তর-
সবুজ সবুজ নারিকেলের সারি, পাথর-যে অন্তর!

হুহু করেই কাঁদছে কারা ঐ- চোরাবালির তীরে?
কার কণ্যার এত দরদ সই; অশ্রুনেমে ঝর্ণা হয়ে ঝরে!

হাজার বছর ধরে চলছে মাতম, চলছে শোকের ধারা;
এই সমুদ্র এত নিটুর আহা- প্রাণের দিব্যি করে সর্বহারা!
কোথা থেকে আসে এত স্রোত, কীসের আহবানে-
প্রাণের মানুষ কেড়ে নিলে কেহ, প্রাণে নাহি মানে!
“তুমি যাচ্ছো কোথা বাবা; তোমার ফিরতে দেরি হবে?
তুমি যাচ্ছো কোন সমুদ্রে? তুমি আসবেনা আর তবে!”

হুহু করেই কাঁদছে কারা ঐ- চোরাবালির তীরে?
কার কণ্যার এত দরদ সই- অশ্রুনেমে ঝর্ণা হয়ে ঝরে!

সব চিৎকার মিথ্যে হলো মিথ্যে, কসম রক্তজবার;
করছি কসম অশ্রুনামের জলের, কসম মিথ্যুক বাবার!
“কেমন করে কান্না লুকাও বাবা, বলো- ‘ মাগো ঘুমাও’
কেমন করে মিথ্যে বলো বাবা, বাবা একটু তাকাও…
আব্বু তুমি মিথ্যে বললে শেষে, রক্তে যাচ্ছে ভীজে;
আব্বু তুমি কই?- আব্বু তুমি কান্না করতেছো যে!”

হুহু করেই কাঁদছে কারা ঐ- চোরাবালির তীরে?
কার কণ্যার এত দরদ সই- অশ্রুনেমে ঝর্ণা হয়ে ঝরে!

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •