চাঁদাই পেকুয়া এখন চাঁদনী

সাইফুল ইসলাম বাবুল

পেকুয়া একটি ছোট উপজেলা, সাজগোজ ঠিকটাক। বলতে গেলে সৌন্দর্য্যরে কমতি নেই কোন অংশে। কিন্তু যার আশায় আমরা অপেক্ষমান তাকে এখনো দেখি নাই। তাই সেই বিখ্যাত গানের কথা মনে পড়ে যায “কি আশায় বাধিঁ খেলা ঘর বেদনার বালুচরে।” আজ আমাদের বসবাস যোগ্য এ এলাকা বেদনার বালুচর। খোলা চোখে দেখলে শান্তির দেখা মিলবেনা, কেন ? এই কেন এর সদুত্তুর পাওয়া যাবেনা । ঘরে, সমাজে, এলাকায় অশান্তি চোবল নিত্যনৈমিতিক ব্যাপার।

একসময় একটা কৃষক পরিবার দু’কানি জমির হাল চাষ করে। দৈনন্দিন কাটিক শ্রমে তাদের সুখের দিনাতিপাত চলত একটা অবস্থাপন্ন পরিবার। পারিবারিক কাজকর্ম নিয়ে অনেকটা সুখেই ছিল। সমাজে ছিল পরস্পর সমীহ করার রীতি। ঝগড়া বিবাদ হলে সামাজিক ভাবে সুরাহা হত। হত্যা, নির্যাতন, মামলা জেলঝুলুম ছিলনা কিছুই। মানুষে জীবিকা ছিল কৃষি, নিবিঘœ ব্যবসাবানিজ্য, সৎ জীবন যাপনের ইচ্ছা। এখন যেন মনে হয় আমাদের শরীরে চর্বি অধিক্য। কেউ রাজনৈতিক নেতা , কেউ বড় গোষ্টির সন্তান, কেউ উঠতি মস্তান, কেউ পয়সা ওয়ালা, এ সবের মিলনে সমাজে দুর্বৃত্তায়ান বেড়েছে।

প্রশাসন ! সেতো চলতি নায়ের মাঝি, ফাওয়ারীর ভূমিকায় নেই, ভান্ডারের দিকে খেয়াল, তাই তারা আজ ভান্ডারী, হুসজ্ঞান কম। ছয় মাসের ব্যাবধানে দুটি হত্যাকান্ড। তাও ক্ষমাতাসীন দলে। আবার দেখা যায় গৃহবধু নির্যাতন এবং হত্যা, অনধিকার প্রবেশ জোর দখল নিত্যসঙ্গী। থানায় বসে কিছু হলেও হল, না হয় দায়সারা গোছের মামলা। প্রতিরোধের ব্যাবস্থা নেই। প্রশাসনের রন্দ্রে প্রবেশ করেছে দুর্বৃত্ত। ক্ষমতাসীনরা বহুধা বিভক্ত । সেই সুযোগে পূর্বের ক্ষমতা ত্যাগিরা প্রশাসনের নিয়ন্ত্রন ভার নিয়েছেন। তাদের ইসারায় চলে- থানা, ভূমি অফিস, উপজেলার বিভিন্ন দপ্তর। আইন শৃঙ্খলা রেজেুলেশনে সীমাবদ্ধ বাস্তবায়ন নাই।

প্রথমে আসি ক্ষমতাসীন দলের কথায়। জাকঝমক পূর্ন কাউন্সিলের মাধ্যমে আওয়ামীলীগের কমিটি হয়েছিল। সভাপতি সম্পাদক ছাড়া অন্য পদের কোন স্থায়িত্ব ছিল না। একেক সময় একেক জনকে পদায়ন করা হয়। তাই জেলা কমিটি বিভিন্ন অভিযোগের কারনে অনুমোদন দেয় নাই। আবার সভাপতি সাহেবের অকাল মৃত্যু ঘটনায় সম্পাদক সাহেব একা হয়ে যান। তাই রাজনীতি থেকে প্রশাসন নিয়ন্ত্রনের যে রীতি তা কখনো হযে উঠেনাই। তাই বির্তকিত ব্যবস্থায় চলে ক্ষমতাসীনরা , তাদের নেই কোনো যথাযত কর্মসূচী। দলে সমর্থক গোষ্ঠি অসহায়। ইউনিয়ন কমিটি গুলো বিভিন্ন উপদলীয় সমর্থনে গঠিত হয় ফলে সেখানেও নেই কর্মসূচী। এমনও দেখা যায় ইউনিয়ন সভাপতি ও সম্পাদকের পরিবারে তিনি একজনই এ দলের সমর্থক অন্যরা অন্যদল করে। ফলে স্থানীয় প্রভাব প্রতিপত্তির জন্য তারা অন্যায়ের কাছে গা ভসিয়ে দিয়েছেন। প্রশাসনের কাছে গেলে স্বাভাবিক ভাবে প্রশ্ন আসে, আপনি কোন গ্রুপ ? দু’চার জন যারা পোষ্ট পদবি নিয়ে সক্রিয় তারা আঁখের গোছাতে ব্যাস্ত। তারা মনে করে টাকাই সত্য, বাকি সব মিথ্যা !

ন্যায় ভাবনা তাদের মন থেকে চলে গেছে অনেক আগে। দলমত নির্বিশেষে বলতে গেলে পেকুয়াতে মাদক বিক্রেতার চাইতে ক্রেতা বেশী। কারন সিংহ ভাগ যুব সমাজ মাদকাকাসক্ত, তারা আবার বিভিন্ন নেতাদের ছত্রছায়ায়। এমন ভদ্র ছেলেও দেখা যাবে, সে আসক্তে। আসক্তি দূর করার জন্য তাদের উপর প্রশাসনিক চাপ জরুরী। ব্যবসা করতে চাঁদা, ঘর করতে চাঁদা। বাউন্ডারী দিতে চাঁদা, তদবীরের জন্য চাঁদা। যেন চাঁদাই পেকুয়ার চাঁদনী এখন। খোলামেলা ভাবে বললে ঠোঁট কামরানো শুরু হবে। তাই পারত পক্ষে সবাই নীরব।

বিরোধী দল বলতে ক্ষমতাসীন বিরোধী দল যারা আছে তারাতো ব্যস্ত সরকারী বরাদ্দ বন্টনে। কাজ ছাড়া সামান্য কাজে প্রকল্প শেষ। রাষ্ট্রীয় টাকা ভাগ কিংবা ভাগিতে ব্যস্ত। সাংসদের এখতিয়ারাধীন বিষয়গুলো তারা বিকিকিনি করে। বিভিন্ন প্রশাসনিক কমিটিতে থাকার বৌদলতে তারা টু পাইচ কামাই করছে। তাদের শারীরিক গঠন এখন বেশ রিষ্টপুষ্ট। আর ক্ষমতাহীন বিরোদী দল তারা দিনের বেলায় বিরোধী দল রাতের বেলায় নেতার বাড়ীতে। টাকা দিয়ে ক্ষমতাসীনদের ভিতর থেকে প্রভাব বলয় সৃষ্টি করে নানা রূপ আকামে জড়িত হুন্ডি ব্যাবসা, টেন্ডার বানিজ্য সব তাদের নিয়ন্ত্রনে। ক্ষমতাসীনদের অনেকের ঠিকাদারীর লাইসেন্স নেই। তাই ক্ষমতাসীনরা তাদের লাইসেন্স ব্যাবহার করে।

এখনো প্রকাশ্যে উপজেলায় বিভিন্ন কাজকর্ম চলে সেই আমলের দুইজন ঠিকাদার দিয়ে। ক্ষমতাসীনরা তাদের হেউয়ো দেয়। কারন তাদের পারন্সেন্টেজ নির্ধারিত। শুনছি পেকুয়া উপজেলা দুর্নীতি দমন প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি শহরে থাকেন, এদিকে সম্পাদক সাহেব ও তদবীর বাণিজ্যে নেমে পড়েছেন। ঐ পদের দোহায় দিয়ে বিভিন্ন সরকারী বেসরকারী দপ্তরে ফোন করে যেখানে মুটিভেশনের কথা সেখানে হুমকি দেন। তাহলে “সর্ব অঙ্গে ব্যথা ঔষুধ দিব কোথা।” তাই এখন প্রয়োজন অর্থগেন্ধু দুনীতি পরায়ন রাজনীতিকে না বলা, তদবীর বাণিজ্য প্রতিরোধ। যে দলেরই হোক চোরে চোরে মাসতুত ভাই খেলা বন্ধ করা।

ধরেন, যে কেউ ক্ষমতায় আসতে পারে তবে এ অবস্থা চলতে থাকলে তারাই সমাজে চলমান থাকবে। ঘুরেফিরে মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ। অন্যায় ও অসঙ্গতি দেখলে প্রতিরোধ করতে না পারেন ঘৃনা করুন, তাদের প্রশংসা করলে তারা মনে করবে তারাই সঠিক।

হে ক্ষমতাসীনরা জনতা আপনাদের দিকে চেয়ে আছে একটুু স্বস্তির আশায়। মিলবে কি সে স্বস্তি ?

লেখক;:কলামিস্ট ও সংবাদকর্মী, পেকুয়া, কক্সবাজার।

cbn
কক্সবাজার নিউজ সিবিএন’এ প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।

সর্বশেষ সংবাদ

চকরিয়া পৌরসভায় ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ছয়টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্ভোধন

পেকুয়ার ইটভাটা থেকে বিদ্যালয়ে ফিরলো ১২ শিশুশ্রমিক

কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির ভবন বর্ধিতকরণে দেড় কোটি টাকা বরাদ্দ

রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে জলবসন্ত রোগের প্রাদুর্ভাব

টেকনাফে ইয়াবাসহ রামুর নুর আটক

পেকুয়া বিএনপির ১১ নেতাকর্মী কারাগারে

চবি ছাত্রের কোটি টাকা উৎস ইয়াবা ব্যবসা!

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নতুন আতঙ্ক আরাকান আর্মি

মুসলিম উম্মাহকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

চট্টগ্রামে কাভার্ড ভ্যান চাপায় কলেজছাত্রীর মৃত্যু

২৭ ফেব্রুয়ারি বন্ধ হচ্ছে ৭ দিনের নিচের নেট প্যাকেজ

পেঁপে চাষে ভাগ্য বদল!

পেকুয়ায় পুকুরে পড়ে দুই সন্তানের জননীর মৃত্যু

উচ্ছেদ আতঙ্কে পশ্চিম বাহারছড়ার ৫০০ পরিবার

পেকুয়ার চেয়ারম্যান ওয়াসিমসহ ৭জন কারাগারে

জীবনে সফল হতে চান? আজ থেকেই পবিত্র কোরআনের চার পরামর্শ মেনে চলুন

প্রাথমিক-ইবতেদায়ির বৃত্তির ফল মার্চের প্রথম সপ্তাহে

আইসিসির নতুন প্রধান নির্বাহী ভারতীয় মানু সনি

জামায়াতের মনোযোগ সংগঠনে

কী ঘটতে যাচ্ছে ব্রিটেনে?