সুন্দরী বধূও আটকাতে পারেনি মাদকের নেশা

আব্দুল আলীম নোবেল:

মাদক অভিযানের গুরুত্ব কতটুকু, যার ঘরে একজন মাদকাসক্ত আছে সেই বুঝে মাদক কতটা ভয়ংকর, কতটা নির্মম। মাদক অভিযানে মানব নয় দানবের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। মাদকই একটি সুখের সংসারকে ভেঙ্গে তচনচ করে দিতে পারে। সে রকমই একটি চোখে দেখা বাস্তব কাহিনীটি সময়ের প্রয়োজনে না লিখতে পারলাম না। (ওই পরিবারটি আমাকে মাফ করবেন) একজন সুস্থ মানুষ মাদকের নেশায়, বৃদ্ধ মা, দু সন্তান, সাজানো সাংসার, সুন্দরী বধূ কেউই তাকে আটকাতে পারেনি সে দিন। সময় ২০২০৪ সাল, কক্সবাজার টেকনাফ পৌরসভার বাজারপাড়া এলাকায় আমি দুই ছাত্রকে প্রাইভেট পড়াতে যেতাম। এই সুবাদে খুব কাছ থেকে ওই পরিবারের সকল বিষয়ে জানার সুযোগ হয়েছে আমার। এ পরিবারের প্রধানকর্তা ঢাকা লাইনে গড়ি চালক ছিলেন, যাকে আমারা ডেস্ট্রিক ড্রাইভার হিসেবে বলে থাকি। ওই হতভাগা ব্যক্তিই মাদকাসক্ত হয়ে পড়েছিলেন তৎসময়। একজন মা, দুই সন্তান ও একজন সুন্দরী স্ত্রী নিয়ে ছিল সাজানো গোছানো একটি সুখের সংসার। ওই সময় সবে মাত্র মিয়ানমার থেকে ইয়াবা আসা শুরু করেছে। ওনি প্রথম দিকে হিরোইনে আসক্ত হলেও পরে ইয়াবা নেশায় জড়িয়ে পড়ছে অন্ধভাবে। এতে দিনের পর দিন নানা অশান্তির বার্তা নিয়ে দিন কাটে এই পরিবারের। দেখেছি আমার চোখের সামনে একটি পরিবার কিভাবে ধ্বংস হয়ে যেতে। সেই দিন সেটি দেখে আমার খুব খারাপ লাগতো। প্রায় সময় দেখতাম মা আর স্ত্রীার চোখের পানি। রক্তের সর্ম্পক না হলেও অনেকটা তাদের পরিবারের সদস্যের মতো ভাবতেন তারা আমাকে। সকল কিছুই শেয়ার করতেন আমার সাথে। মাদকাসক্ত তিনি বেশির ভাগ সময়ে রাতে বেলায় বাড়ি ফিরতেন না, এদিকে তার মা আর স্ত্রী সন্তান থাকতো অস্থির। যখন বাড়ি ফিরতো না তখন মা আর স্ত্রী তাকে মাদক গ্রহণের স্পটে গিয়ে ধরে নিয়ে আসতেন, একাধিকবার আমাকেও তাদের সাথে যেতে হয়েছে। রাতের বেলায় যখন মাদক গ্রহণের বিভিন্ন স্পটে স্পটে তাকে খুঁজতে যেতেন তার মা আর স্ত্রী, কতজন কতভাবে মিন করেছে, কত নাজেহাল হয়েছে সে কঠিন সময়ের রাস্বী। সংসার মূখি এই ঘরের হতভাগা সুন্দরী বধু তিনিই একমাত্র বুঝেছেন তার মাদকাসক্ত স্বামীার জন্য কতটা ত্যাগ করতে হয়েছে তাকে। আবারোও বলছি একজন সুস্থ মানুষ মাদকের নেশায়, বৃদ্ধ মা, দু সন্তান, সাজানো সাংসার,সুন্দরী বধু কেউই তাকে আটকাতে পারেনি। কতটা অশান্তির দাবনালে জ্বলেছে ভুক্তভোগি পরিবারেই ভাল জানে। পরে তিনি কক্সবাজার নোঙ্গর থেকে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়েছে। সেই সময়ের পর থেকে আমি কক্সবাজার জেলা শহরে বসবাস করায় আজ কেমন আছেন জানি না সেই সময়ের হতভাগা পরিবারটি। বর্তমানে মাদক আগ্রাসনে ছড়িয়ে গেছে পুরো দেশ। মাদকের কালো থাবায় ধ্বংসের দ্বাপ্রান্তে আমরা। কঠিন সময় পার করছি, মাদক দুনিয়ার বিরুদ্ধে আরো বেশি শক্তহাতে আমাদের একযোগে দাঁড়াতে হবে।

চলে যায় যুদ্ধে মাদকের বিরুদ্ধে এই শ্লোগানকে সামনে রেখে অভিযানে নেমেছে র‌্যাবসহ আইন শৃঙ্খলা বাহিীনি। ফেইসবুক দুনিয়া(সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে) মাদকের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের যে পজেটিভ সাড়া মেলেছে খুবই দারুণ। এত বুঝা যায়, এই দেশে থেকে মাদকের নির্মূল চায় জনগণ। তবে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে বিনিয়নের সাথে অনুরোধ থাকবে যারা মাদকের সাথে জড়িত এবং প্রকৃত অপরাধীদের তাদেরকে আইনের আওতায় এনে কঠিন শাস্তি প্রদান করুন। এখন সবচেয়ে ভয়ংকর মাদক হচ্ছে ইয়াবা। শারীরিকভাবে এর ক্ষতি মারাত্মক। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি কেউ দীর্ঘদিন ব্যবহার করলে তার মধ্যে মানবিক গুণাবলি বলে কিছু অবশিষ্ট থাকে না। খুন-খারাবিসহ এমন কোনো অপকর্ম নেই, যা তারা করতে পারে না। এই মাদক অভিযানে সকল শ্রেণীর মানুষের সহযোগিতা পেলে বেশি দিন লাগবে না মুখতুবুড়ে পড়বে আপনার পায়ে তাদের মাদক সা¤্রজ্য। প্রতিনিয়ত অভিভাবকরা আতঙ্কিত, উৎকণ্ঠিত কখন মাদকের নেশার জালে আটকা পড়তে পারে তাদের প্রিয় সন্তান। সর্বনাশা মাদক এখন দেশব্যাপী আরো ছড়িয়ে পড়েছে। সর্বগ্রাসী এ মরণ নেশার কারণে দেশের লাখ লাখ মানুষ বিশেষ করে তরুণ ও যুব সমাজ বিপথগামী হয়ে পড়ছে। তবে শুধু তরুণরা নয়, এখন কিশোর, এমনকি কিশোরীরাও মাদকাসক্ত হচ্ছে। সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ছড়িয়ে পড়ে ধ্বংস করে দিচ্ছে আমাদের তরুণ ও যুব সমাজকে। মাদকের বিষাক্ত ছোবলে অকালে ঝরে পড়ছে তাজা প্রাণ। শূন্য হচ্ছে কত মায়ের বুক। গেল কদিন আগে চ্যানেল আইয়ের একটি টকশোতে এক বক্তা বললেন, গত বছর আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ইয়াবা আটক করেছে ৪ কোটি ৭৫ লাখ, আর চলতি বছরের কয়েক মাসে আড়াই কোটির বেশি ছাড়িয়ে গেছে। এত বুঝা যায় মাদক কতটা দ্রুত হারে আমাদের দেশে ঢুকে পড়ছে। কিন্তু সমাজ, দেশ ও জাতিকে সুস্থ রাখতে হলে সর্বনাশা এ কারবার জরুরিভিত্তিতে বন্ধ করা প্রয়োজন। যে যুদ্ধে নেমেছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী তা মাদকের সা¤্রাজ্য শেষ না হওয়া পর্যন্ত চালিয়ে যেতে হবে। তাই দেশের স্বার্থে, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষায় অবশ্যই অভিযান অব্যহত থাকুক এমনটি দাবী রাখছি।

সর্বশেষ সংবাদ

চকরিয়ায় পুলিশের হাতে ইয়াবাসহ ২ পাচারকারী আটক

বদলে গেলো কক্সবাজার সদর হাসপাতালের জরুরী বিভাগের চিকিৎসা পদ্ধতি

‘নতুন যুগে’ প্রবেশ করলো কক্সবাজার সদর হাসপাতাল

ইসলামপুরে ৫ ট্রাক লবণ জব্দ, আমদানিকারক ও মিল মালিক সমিতি মুখোমুখি

কক্সবাজারে উন্নয়নের মহাযজ্ঞ বাস্তবায়ন করছে সরকার : সাংবাদিকদের ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া

উখিয়া সংবাদকর্মীর উপর ইয়াবা ব্যবসায়ীর হামলা

ট্রাম্পের কাছে করা অভিযোগের সাথে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটের কোন সম্পর্ক নেই : ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া

দৈনিক হিমছড়ি আয়োজিত বিশ্বকাপ কুইজের পুরষ্কার বিতরণ

রাজপথে নামুন, বিজয় সুনিশ্চিত ইনশাল্লাহ : নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে কাজল

উৎসব মুখর পরিবেশে কক্সভিশন লিমিটেডের এজিএম সম্পন্ন

‘পালংখালীতে নিরীহ লোকজনকে নির্যাতন ও বাড়ি ভাংচুর চালাচ্ছে কতিপয় বিজিবি সদস্য’

সাতকানিয়ায় বন্যা দুর্গত এলাকায় ত্রাণ সহায়তা দিলো লোহাগাড়ার হিলফুল ফুযুল

যেখানে বিএনপি, সেখানেই মৃত্যূঞ্জয়ী সালাহউদ্দিন

যুবকের উপর হামলা, মহেশখালী পৌরসভার সন্ত্রাসী জয়নালের বিরুদ্ধে মামলা

লায়ন মোহাম্মদ রিয়াজ উদ্দিন তারেককে পুষ্পিত অভিনন্দন

‘ছেলেধরা সন্দেহ হলে গণপিটুনি না দিয়ে পুলিশের হাতে দিন’

‘ইসকন’ নিষিদ্ধের দাবিতে কক্সবাজার ইসলামী যুবসেনা ও ছাত্রসেনার মানব বন্ধন

সুপারিশ কমিটির হাতে শাহপরীরদ্বীপের ৫ কিলোমিটার ভাঙ্গা সড়কটির কাজ

মুক্তিযোদ্ধা সুনিল দাশ ও আরতি ধরের মৃত্যুতে জেলা পূজা কমিটির শোক

চট্টগ্রামে ভোলাইয়া গ্রুপের অজ্ঞান পার্টির চার সদস্য গ্রেফতার