শশাঙ্ক থেকে শেখ মুজিব

কৃষিবিদ কাইছার উদ্দিন আহামদ :

সমৃদ্ধ জীবন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ আমাদের কাম্য । বাংলাদেশের ইতিহাস চমৎকার একটি ইতিহাস। প্রাচীন রোমের প্রথম খ্রিষ্ট পূর্বাব্দের ইতিহাসবিদ টাইটাস লিভি নিজের কাছে অঙ্গীকার করেছিলেন, তার রোম সম্ম্রাজের গৌরব গাঁথা লিখবেন। কারন ঐ সময়ে রোম অত্যন্ত বড় একটি শক্তি, গৌরবান্নিত শক্তি। সে জন্য ৪৬ বছর পরিশ্রম করে ১৪২ খণ্ডের History of Rome লিখেছেন। তার অনেক কটা খণ্ড হারিয়ে গেছে, কিছু খণ্ড আছে যেখানে তার প্রেরণার ও কর্মের দ্যুতি ছড়ানো আছে । বাংলা ও বাঙ্গালীর ইতিহাস অনেক সমৃদ্ধ কিন্তু আমাদের মধ্যে টাইটাস লিভি নেই, এমন করে বাংলা ও বাঙ্গালীর

গৌরবগাঁথা ধারন করেনি কেউ । পেশাদার ইতিহাসবিদ পেশার প্রয়োজনে কিছু লিখেছেন। কিন্তু গৌরবের গাঁথা গুলো সমন্বিত করে প্রণোদিত করার জন্য পাঠক কূলের সামনে হাজির করা; ব্য্যাপারটা ঘটেনি । হ্যাঁ, নিহার রঞ্জন রায় বাঙ্গালীর ইতিহাস লিখেছেন, তিনি আনুপূর্বিক সাদা মাটা একটা বর্ণনা করেছেন এবং তিনি আমাদের কাছে অত্যন্ত একজন সম্মানিত ইতিহাসবিদ । রামেশ চন্দ্র মজুমদার বা যদোনাথ সরকার অনেক কাজ করেছেন। কিন্তু একজন টাইটাস লিভি এখনো বাংলাদেশে হয়নি । যেভাবে বাংলাদেশের ইতিহাস উপস্থাপন করার কথাছিল, সেভাবে হয়নি। ঘঠনার আনুপূর্বিক বর্ণনা

আছে কিন্ত অন্তর্নিহিত ব্যাখ্যা, বিশ্লেষণ, চেতনা ও দর্শন অনেকটাই অনুপস্থিত।। এত অল্প পরিসরে বিস্তারিত লেখা সম্ভব নয়, তবুও ইতিহাসের কতগুলো পর্ব থেকে তুলে আনব আমাদের ইতিহাস কত সমৃদ্ধ । বাঙালি কত সমৃদ্ধ জাতি । ১০ ই জানুয়ারি ১৯৭১ বঙ্গবন্ধু যখন পাকিস্তানের কারাগার থেকে ফিরে এলেন তখন কবিগুরু রবিন্দ্রনাথ ঠাকুর কে কঠাক্ষ করে বলেছিলেন- “কবিগুরু তুমি দেখে যাও বাঙালি আজ মানুষ হয়েছে”। কবিগুরুর আক্ষেপ ছিল- “সাত কোটি সন্তানের হে মুগ্ধ জননী রেখেছ বাঙালি করে মানুষ করনি” এবং আরো বলেছেন- “পতনে-উত্তানে, পূণ্যে-পাপে মানুষ হইতে দাও তোমার সন্তানেরে”। রবীন্দ্রনাথ ৭২ বছর লিখেছেন; টাইটাস লিভি ৪৬ বছর কিন্তু রবিন্দ্রনাথ বাঙালি নিয়ে একটি কথা ও লিখেন নি । হয়ত বাঙালি সম্পর্কে তার ইতিবাচক ধারনা ছিলনা । অথচ বিদেশীরা বাঙালি সম্পর্কে অনেক উচু ধারনা পোষণ করেন, যা তাদের লিখনিতে পাওয়া যায়।

শশাঙ্ক থেকে শেখ মুজিব– বাপারটা কি? ৫৯৪ খ্রিষ্টাব্দে শশাঙ্ক ব্রাহ্মণ রাজা আজকের মুর্শিদাবাদ তখন গৌড় নামে পরিচিত ছিল প্রথম স্বাধীন রাজ্য প্রতিস্ঠা করলেন; এর আগে মৌর্য এবং গুপ্ত আমলে বাংলা দখল হয়ে গিয়েছিল । শশাঙ্ক বাঙ্গালির প্রথম স্বাধীন রাজা যিনি শতভাগ বাঙাল, স্বাধীন একটি রাজ্য প্রতিস্ঠা করলেন। স্বাধীনতার চেতনা বাঙ্গালির ঐ ৫৯৪ হতে শুরু; আর পূর্ণাঙ্গ রূপ পেল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের আমলে ১৯৭১ সালে; দীর্ঘ একটা ইতিহাস আছে। স্বাধীনতা মানে সমৃদ্ধতা, স্বাধীনতা না হলে মানুষের অস্তিত্তের বাস্তব বহিঃপ্রকাশ প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যায়স । স্বাধীনতাই সমৃদ্ধ বাংলাদেশের অন্য নাম।

১৯১১ সালে ইংলেন্ডের রাজা ৫ম জর্জ দিল্লিতে এসেছেন; কারন বঙ্গভঙ্গ রদ ঘোষনা করবেন । এই সময়ে ভারতের জাতীয়তাবাদী নেতা গুকেল কে তিনি প্রশ্ন করলেন; আচ্ছা তোমরা স্বাধীনতা চাও কেন? গুকেল কাল বিলম্ব না করে উত্তর দিয়েছিলেন “স্ব্বাধীন হতে চাই এই জন্যে, আমাদের আত্নমর্যাদা হবে” । বাঙ্গালির আত্নমর্যাদা স্বাধীনতার মধ্য দিয়ে এসেছে।

শশাঙ্ক অত্য্যাচারী রাজা ছিলেন, জনগণ তাকে পছন্দ করত না । বড় কথা তিনি একটি স্বাধীন রাজ্য গড়েছিলেন । কিন্তু মজার ব্যাপার হল, তার রাজ্য আজকের পশ্চিম বাংলার মাঝেই সীমাবদ্ধ ছিল; পূর্ববাংলায় তিনি নজর দেননি; দিতে সাহস করেন নি; যেটা আজকের বাংলাদেশ, কেন? রাজা যখন সিংহাসনে বসতেন, রাজ্য জয় করতেন, যত বড় রাজ্য তত বেশি ক্ষমতা, তত বেশি সম্পদ, সেখান থেকে বিরত থাকলেন শশাঙ্ক; ব্যাপারটা কি? উত্তরটা হল এই, পূর্ব বাংলায় তখন অসংখ্য রাজাছিল একে অপরের সাথে লড়াই করছিল কে বড় রাজা হবে । তখন ছিল অস্থিতিশীল পরিবেশ।

৬৩৭ এ লুকান্তরিত শশাঙ্ক। তারপরে ৬৩৭-৭৫০ দুই বাংলায় কোন বড় রাজা হন নি; এই সময়টা অত্যন্ত অরাজক সময় ইতিহাসবিদরা এই সময়টাকে মাৎসন্যায় বলছিলেন। যার অর্থ বড় মাছ ছোট মাছকে খেয়ে ফেলে সমাজে আইন শৃংঙ্খলা বলতে কিছু ছিলনা, জীবন অনিশ্চিত, সংশয়, শংখার মধ্যদিয়ে মানুষের যাপিত জীবন। এই সময়টা প্রায় ১২০ বছর চলেছিল অন্ধকার যুগ । তারপরে ৭৫০ এ একটা বড় পরিবর্তন হয়ে গেল, তাহল এমন পরিস্থিতির মধ্যে সমাজের নেতা গুছের যারা তারা সংগ বদ্ধ হল, বলা হল “প্রকৃতি পুঞ্জ”। চমৎকার একটি বিষয়। প্রকৃতি পুঞ্জকে আমরা বলতে পারি বর্তমানের Civil Society যারা সরকারের সঙ্গে নেই, জনগণের সঙ্গে নেই, মাঝামাঝি অবস্থানে থেকে দেশ ও জনগণের জন্য কাজকরেন ও ভাবেন এবং civil society, সুশীল সমাজ বা নাগরিক সমাজ যাই বলিনা কেন; কোন রাজনৈতিক আনুগত্য থাকলে সুশীল সমাজ হয়না । তাই প্রকৃতি পুঞ্জ ঠিক করলেন যারা রাজা হতে চায় তাদের রাজা করলে আমাদের কাজ হবে না, কারন যার যোগ্যতা কম সে তদবির করে, আর যে যোগ্যতা সম্পর্কে আত্নবিশ্বাসী সে তদবির করেনা । এমন একজন লোক দরকার যে রাজা হবার মত, শাসক হবার মত গুনাবলী ধারন করে এবং তাকে খোজঁ করে বের করতে হবে, অনেকটা আমাদের চার্চ কমিটির মত, প্রকৃতি পুঞ্জ খুঁজতে খুঁজতে পেয়ে গেল গোপাল নামে একজন মানুষকে যিনি চরিত্রে, কর্ম কাণ্ডে সকলের শ্রদ্ধাভাজন ছিল। প্রকৃতি পুঞ্জ বলল, তো্মাকে রাজা হতে হবে ; রাজা হতে বললে কে না খুশী হয়, গোপাল ও খুশী হয়ে ছিল। তবে শর্ত একটা সুশাসন দিতে হবে । যদি দিতে না পার , তোমার রাজত্ব থাকবেনা । তখন এ রকম একটি civil society এর ধারনা পশ্চিম দুনিয়ার মাথায় ছিলনা । তারপরে ও বিদেশী পণ্ডিত অধ্যাপকরা এসে আমাদের ওয়াজ নসিহত করে যান- সুশাসন তোমাদের নেই, আমাদের কাছ থেকে শিখ । সুশাসনের ধারনা আমাদের যখন ছিল পাশ্চাত্যের ছিলনা। আর একটি কথা বলে রাখি, গোপালকে নির্বাচন করা হল নাকি, মনোনয়ন দেয়া হল এটা বিতর্ক আছে। তখন ত নির্বাচন কমিশন ছিলনা । অভিমত তাকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছিল। বিষয়টি অনেকটা গণতান্ত্রিক; গণতন্ত্রের মূল কথাটা কি? যারা শাসিত; জনগন,তারা তাদের শাসক নির্বাচন করে দিবে; আমরা ভোট দিই কেন, আমাদের শাসক নির্বাচন করার জন্য । সে কাজটি বাঙ্গালিরা ঐ সময়ে করেছে । এই যে, গণতান্ত্রিক বৈশিস্ট্য বাঙ্গালির রাজনীতিতে আছে তা ইতিহাসে আছে, তবে তার ইতিহাস টা আরো গভীরতর । ইতিহাস থেকে পাচ্ছি, খ্রিষ্ট পূর্ব ৬ শতকে এই বাংলা অঞ্চলে তথা উপমহাদেশের দক্ষিন-পূর্বাঞ্চলে মানে বাংলা-বিহার-উডিষ্যা-আসাম ইত্যাদি এলাকা ছোট ছোট বৌ্দ্ধ গন রাজ্য ছিল। গন রাজ্য গুলো রাজা শাসিত কিন্ত রাজারা বংশ পরস্পরায় রাজা হতেন না । প্রত্যেকটি রাজ্যে এক একটি করে পরিষদ ছিল, যে পরিষদ রাজা নির্বাচন করত রাজারা ততদিন ক্ষমতায় থাকতেন যতদিন ঐ পরিষদ তার উপর আস্থা রাখতেন । পরিষদ যখন আস্থা হারাতেন রাজা বিদায় নিত । ১৯৫৭ সালে মৌ্লানা ভাসানি পাকিস্তান কে যেমন আসলামু আলাইকুম বলেছিলেন। চমৎকার ব্যাপার! পাশ্চাত্যের ইতিহাসবিদরা বলেন গণতন্ত্র নাকি প্রাচিন গ্রীসে ছিল, সত্যকথা , খ্রিষ্ট পূর্ব ৫ শতকে অর্থাৎ একশত বছর পরে অদের যাত্রা শুরু , তাদের ১শত বছর পূর্বে এ দেশে গণতন্ত্রের শিকড় দেখতে পাচ্ছি । সেই গণতান্ত্রিক চর্চা দেখছি গোপালের সময় । গোপাল রাজা হলেন এবং সারা ভারত বর্ষে বাংলা রাজ্য ঘুরে দাঁড়ালেন, উঠে দাঁড়াল, বাংলা রাজ্যটি অত্যন্ত সম্পদশালী ও শক্তিশালী হয়ে উঠল।

১১৬১ সাল পর্যন্ত চলল পাল আমলের শাসন । চমৎকার স্বর্ণযুগ,পালরা কিন্ত শতভাগ বাঙালি( Son of the soil)। তারা বৌদ্ধ রাজা ছিলেন কিন্ত প্রজাদের উপর তাদের ধর্ম চাপিয়ে দেননি । পাল রাজারা বৌদ্ধ ধর্ম কে রাষ্ট্র ধর্ম করেনি। তারা অনেক মন্দির গড়ে ছিলেন যেন হিন্দুরা প্রার্থনা করতে পার । ধর্মীয় সহিঞ্চুতার উজ্জল দৃষ্টান্ত । এই সময় বাংলা সাহিত্যের আদি পর্ব চর্যাপদ রচিত হচ্ছিল । তবে বাঙালি শব্দটি চর্যাপদে তুচ্ছ অর্থে ব্যাবহার হয়েছিল ।

১১৬১-১২০০ সাল দক্ষিনাথ্য থেকে সেন রাজারা এসে বাংলা দখল করে নিলেন, যখন পালরা দুর্বল হয়ে পড়ছিল। সেন রা কট্টর ব্রাহ্মণ; তারা এসে দেখলেন এদেশে হিন্দুরা অনেকটা শিথীল হয়ে গেছে তাদেরকে ভাল হিন্দু বানাতে হবে, যেমন পাকিস্তানিরা ১৯৭১ এ নয় মাস আমাদেরকে ভাল মুসলিম বানাতে চেয়েছিল । সেনরা উত্তর ভারত থেকে অনেক ব্রাহ্মণ আমদানী করলেন এবং বাংলার বিভিন্ন জায়গায়/ প্রান্তে নিয়োগ দিলেন, আমাদের দেশে ভাল হিন্দু নেই, তাদের কে ভাল হিন্দু হওয়া শিখাও; কাজেই হিন্দু ধর্মের নতুন করে চর্চা এবং জাতিভেদ প্রথার প্রাতিস্টানিক চর্চা শুরু হল এবং এর ফলে শাসক ও শাসিতের মধ্যে একটা দুরত্ব হয়ে গেল।

যার ফলে মসুলমানরা বাহির থেকে এসে অতি সহজে ১২০৪ সালে বখতিয়ার খলজি বাংলা দখল করে নিলেন । ১২০৪ থেকে ১৩৩৬ পর্যন্ত আমাদের বাংলা দিল্লির দুরবর্তী একটি পরাধীন প্রদেশ হিসাবে শাসিত হল।

১৩৩৬ সালে একটি মজার ঘটনা ঘটে গেল; হঠাৎ করে একজন ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ পূর্ব বাংলায় নিজেকে স্বাধীন ঘোষনা করলেন এবং রাজধানী করলেন সোনার গাঁয় । একেই সময়ে তার জ্ঞাতিভাই আলাউদ্দিন আলি শাহ গৌড়ে অর্থাৎ মুরশিদাবাদে আর একটা রাজ্য গড়লেন দুইটি মুসলিম সালতানাত হয়ে গেল বাংলায় । যারা স্বাধীন, দিল্লির অধীনতা মানলনা । ১৩৩৬- ১৫৩৮ এই ২০২ বছর বাংলা দিল্লির কোন আধীনতা মানেনি । বিরাট ব্যাপার !! বাংলার সম্পদ বাহিরে যায়নি । আমরা যে ১৯৭১ এ স্বাধীনতা এনেছি তার পটভূমি এই ভাবে দেখার চেষ্টা করি । তাই ইতিহাসের হেড লাইন দিয়েছি- শশাঙ্ক থেকে শেখ মুজিব ।

১৩৪২ সালে শামশুদ্দিন ইলিয়াছ শাহ দুই বাংলাকে একত্রিত করলেন এবং রাজধানী সোনার গাঁ । তিনিই প্রথম সুলতান যিনি বাঙ্গালি শব্দটি কে একটি সম্মানজনক সম্প্রদায়গত সম্মোদন হিসাবে ব্যাবহার করলেন । এর আগে বাঙ্গালি মানে নিচু জাতের মহিলা, চর্যাপদ অনুযায়ী। আর এখন বাঙ্গালিরা একটি সম্প্রদায় এবং তিনি উপাধি নিলেন শাহী বাঙ্গালিয়ান ও সুলতানি বাঙ্গালা। আগে কিন্তু বাংলা গৌড় নামে প্রচলিত ছিল, বাংলা এবং বাঙ্গালি শব্দটির জন্য আমরা শামশুদ্দিন ইলিয়াছ শাহ এর কাছে ঋণী গিয়াস উদ্দিন আজম শাহ তিনি আরও বড় কাজ করলেন , তিনি দেখলেন বাংলা অনেক ছোট রাজ্য দিল্লি আনেক বড় রাজ্য; তাই যখন তখন দিল্লি বাংলা দখল করে নিতে পারে। তিনি ছিলেন ছোট রাজ্যের বা বর্তমানের ছোট রাষ্ট্রের কূটনীতি বা small

State Diplomacy এর জনক। তিনি দেখলেন তার দু পাশে দুটি বড় রাজ্য চীন ও পারশ্য এবং তিনি তাদের সাথে দুত বিনিময় শুরু করলেন, কারন দিল্লির সুলতান কে দুর্বল করা। একটি চমৎকার বিষয় !! তখনো ইউরোপে রাষ্ট্রদূত বা রাজ্যদূত বিনিময়ের কোন প্রচলন শুরু হয়নি যাহা ১৪৪০ পর্যন্ত বলবৎ ছিল। ১৪১০ এ তিনি লুকান্তরিত হয় । চিনারা বাংলা থেকে চিনে ফিরে গিয়ে অনেকে আত্নকথা লিখেছেন, তাতে দেখা যায়, চিনারা বাঙ্গালিকে দুটি সার্টিফিকেট দিয়েছেন – বাঙ্গালিরা মিথ্যা কথা বলেনা এবং কারো সাথে প্রতারণা করেনা, কী চমৎকার বিষয়!! আমরা দেখেছি চিনারা যা

বলেন তা mean করেন; চিনারা হালকা কথার মানুষ না, গিয়াস উদ্দিন আজম শাহ চিনের সাথে করলেন রাজনৈতিক সম্পর্ক, পারষ্যের সাথে করলেন সাস্কৃতিক(cultural diplomacy) সম্পর্ক, ঐ সময়ে পারশ্যের বিখ্যাত কবি এবং গজল রচয়িতা কবি হাফিজ কে তিনি আমন্ত্রণ করলেন কিন্ত তিনি আসতে পারলেননা আসুস্থতার কারনে, তবে গিয়াস উদ্দিন আজম শাহ কে নিয়ে একটি আসাধারন গজল রচনা করলেন এবং বিখ্যাত হয়ে গেলেন তার কাছে দিল্লির সুলতানের ও কোন পাত্তা ছিলনা।

মক্কা-মদিনার সাথে রচনা করলেন ধর্মীয় কূটনীতি , কি করলেন? মক্কা- মদিনায় আনেক মাদ্রাসা নির্মাণ করেদিলেন গরীব সন্তানেরা যেন পড়তে পারে । তৈ্রী করে দিলেন অসংখ্য মাদ্রাসা বাংলার অর্থে, যাকে বলা হত গিয়া শিয়া মাদ্রাসা । তিনি পাঠিয়ে দিলেন ৩০ হাজার স্বর্ন মুদ্রা গরীব মিছকীনদের মধ্যে বিতরনের জন্য, আর নাহারে যোবাইদা, যেটা খলীফা হারুন উর রশিদ সুপেয় পানির জন্য তৈরি করেছিলেন তা সংস্কার করলেন। অর্থাৎ ত্রিমুখী কূটনীতি চালালেন তিনি।

১৫৩৯ এ বাংলার শেষ স্বাধীন সুলতান শের শাহ মোগল সাম্রাজ্য দখল করে নিয়ে বাংলাকে পদানত করেন তার বংশদররা ১৫৪৬ –পর্যন্ত দিল্লীতে রাজত্ব করেছিল। ১৫৬৩-১৫৭৬ পর্যন্ত আবার বাংলা স্বাধীন। আবার দিল্লী থেকে বিচ্ছিন্ন। এ সময়ে সুলেমান কাররানি ও দেওয়ান খানঁ কাররানি এরা দু জনে মিলে বাংলাকে স্বাধীন করলেন এবং দু জনেই আফগানী ছিলেন। ১৫৭৬ -এ বাংলাকে আবার দখল করে নিল মোগল সম্রাট আকবর এবং বাংলাকে বলা হল “সোবাহ বাঙ্গালা” বাংলা প্রদেশ।

১৭৫৭ সাল পর্যন্ত চলল মুসলিম শাসন। আনেক কথা এর মধ্যে, ১৭৫৭ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত বাংলা আবার পরাধীন। ইংরেজরা দখল করে নিল । কিন্তু মনে রাখতে হবে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বিরুদ্ধে যত প্রতিরোধ হয়েছে তার সিংহভাগই বাংলা অঞ্চলে। সুপ্রকাশ শাহের “ ভারতের কৃষক বিদ্রোহ ও গণতান্ত্রিক সংগ্রাম” বই তে দে খা যাচ্ছে ২০০ টির ও বেশী প্রতিরোধ আন্দোলন করেছে বাঙ্গালীরা ইংরেজদের বিরুদ্ধে স্বাধীনতার স্পৃহা থেকে।

সম্মৃদ্ধতম অধ্যায়টি হচ্ছে আমাদের মুক্তিযুদ্ধ । ৯ মাসের মূক্তিযুদ্ধ নয়, ৮ মাস ২১ দিন। ইতিহাসে ১ ঘণ্টার হেরফেরই অনেক কিছু হয়ে যায়। পৃথিবীর ইতিহাসের সংক্ষিপ্ততম মূক্তিযুদ্ধ আমরা করেছি এ আমাদের গৌরব। একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর ৪ টা ৩১ মিঃ, সে দিন পাকিস্তান সেনা বাহিনী আত্নসমর্পণ করেছিলেন। বঙ্গবন্ধু ফিরে আসার পরে, যে সাড়ে তিন বছর সেটি ছিল এক উজ্জল গৌরবময় সময় । এর পরে ছেদ পড়েছে, বর্তমানে মিশ্র আনুভূতি, ১৯৫৫ সালে ২৫ শে আগস্ট করাচিতে

পাকিস্তান গণপরিষদে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান (যার রাজনৈতিক জীবন ১৯৫৫-১৯৭৫ )বলেছিলেন-

Sir, you will see that they want to place the word “East Pakistan” instead of “East Bengal”. We have

demanded so many times that you should use Bengal instead of Pakistan. The word BENGAL has a

history, has a tradition of its own. You can change it only after the people have been consulted. If you

want to change it then we have to go back to Bengal and ask them whether they accept it. So far as

the question of one –unit is concerned it can come in the constitution. Why do you want it to be taken

up just now? What about the state language, Bengali? What about joint electorate? What about

autonomy? The people of East Bengal will be prepared to consider One-Unit with all these things. So,

I appeal to my friends on that side to allow the people to give their verdict in any way, in the form of

referendum or in the form of plebiscite.

হাজার বছরের শ্রেষ্ট বাঙ্গালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান , যিনি বাংলা ও বাঙ্গালির ইতিহাসের আকাশে এক দ্বীপ্ত সূর্য যিনি বাঙ্গালির মর্যাদা ও আত্নসম্মান ছিনিয়ে এনেছেন যার কাছে আমরা ঋণী । বাংলাদেশের গৌ্রব গাঁথা নিয়ে এখনো ইতিহাস লেখা হয়নি। ঘঠনা ভিত্তিক ইতিহাস আছে কিন্ত সমন্বিতভাবে ইতিহাস নেই সেটাই আমাদের আক্ষেপ। টাইটাস লিভি ৪৬ বছর কাজ করে ১৪২ খণ্ডের History of Rome লিখেছেন কিন্ত বাংলাদেশে ৪৭ বছর ইতিহাস নাড়াচাড়া করেও কোন অধ্যাপক, গবেষকের পক্ষে সম্ভব হয়নি। আমরা কি আশা করতে পারিনা? বাংলা ও বাঙ্গালির গৌ্রব গাঁথা নিয়ে টাইটাস লিভির মত লেখা কোন ইতিহাস ? আমরা কি আশা করতে পারিনা? হাজার বছরের শ্রেষ্ট বাঙ্গালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক এক উজ্জল সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ ?

কৃষিবিদ কাইছার উদ্দিন আহামদ ,ডেভেলপমেন্ট এডভাইজার (এগ্রো বিজনেজ), এ কে খাঁন গ্রুপ । ব্যবস্থাপনা পরিচালক, কক্স এগ্রো ভিসন লিমিটেড ।

কক্সবাজার নিউজ সিবিএন’এ প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।

সর্বশেষ সংবাদ

মহেশখালীতে মামলা গোপন করে আসামী চালান

বিএনপির তান্ডবের প্রতিবাদে চবি ছাত্রলীগের বিক্ষোভ

কৃষক লীগের সহসভাপতি বিএনপিতে

বৃহস্পতিবার রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন হচ্ছেনা !

ওয়ালটন বীচ ফুটবল: বৃহস্পতিবার ফাইনালে লড়বে ইয়ং মেন্স ক্লাব বনাম ফুটবল ক্লাব

গর্জনিয়া মাঝিরকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পিএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা

রামু ফাতেমা রশিদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পিইসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা

রামুর অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক শের আহমদের ইন্তেকাল, বৃহস্পতিবার বাদ যোহর জানাযা

শক্তিশালী হুন্ডি সিন্ডিকেট সক্রিয়

রামুতে ডাকাত সর্দার আনোয়ার ও শহিদুল্লাহ গ্রেফতার

কে.এস রেড ক্রিসেন্ট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পিইসি পরীক্ষার্থীদের বিদায়

ইয়াবা ব্যবসায়ীর হাত ধরে পালিয়েছে ২ সন্তানের জননী

চকরিয়া-পেকুয়া আসনে এনডিএমের একক প্রার্থী ফয়সাল চৌধুরী

হাইকোর্টে হাজির হয়ে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন কক্সবাজারের ডিসি-এসপি

চট্টগ্রামে ২ ভুঁয়া সাংবাদিক আটক

আ’লীগ ও জাতীয় পার্টির মনোনয়ন ফরম কিনেছেন সেনা কর্মকর্তা মাসুদ চৌধুরী

মনোনয়নে ছোট নেতা, বড় নেতা দেখা হবে না : শেখ হাসিনা

মহেশখালীতে অগ্নিকান্ডে ৬ দোকান ভস্মিভূত, ১০ লক্ষ টাকার ক্ষতি

নয়াপল্টনে সংঘর্ষ : মামলা হবে ভিডিও ফুটেজ দেখে

নিম্ন আদালতের সাজা উচ্চ আদালতে স্থগিত না হলে প্রার্থিতা বাতিল হবে

এমপি মৌলভী ইলিয়াছকে চ্যালেঞ্জ আরেক প্রার্থী সামশুল আলমের