‘মাদক যুদ্ধে’ সহযোগিতা করুন কক্সবাজারবাসী 

আব্দুল আলীম নোবেল

চলে যায় যুদ্ধে মাদকের বিরুদ্ধে এই শ্লোগানকে সামনে রেখে অভিযানে নেমেছে র‌্যাবসহ আইন শৃঙ্খলা বাহিীনি। ফেইসবুক দুনিয়া(সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে) মাদকের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের যে পজেটিভ সাড়া মেলেছে খুবই দারুণ। এত বুঝা যায়, এই দেশে থেকে মাদকের নির্মূল চায় জনগণ। সারা দেশে ইয়াবার মতো সর্ব নাশা মরণঘাতি মাদক ঢুকে পড়ার টার্নিং পয়েন্ট কক্সবাজার। কক্সবাজারের মানুষের চোখে সামনে দিবারাত্রি কোটি কোটি ইয়াবা চালান দেশে ছড়িয়ে পড়ছে। আর আমরা নানা কারণে দেখেও না দেখার ভান করে আছি। পিঠ যখন দেওয়ালে ঠেকে গেছে আর বসে থাকার সুযোগ নেই। এখন আমাদের সাথে দেশের এলিট ফোর্স র‌্যাব বাহিনী রয়েছে তাদেরকে সহযোগিতা করুন মাদক নিমূর্লে। অপরাধী যত শক্তিশালী হোক তারা অপরাধীই। ভেঙ্গে পড়বে তাদরে কালো হাত। আশা করি কক্সবাজারবাসীর সহযোগিতা পেলে বেশি দিন লাগবে না মুখতুবুড়ে পড়বে আপনার পায়ে তাদের মাদক সা¤্রজ্য। অভিভাবকরা আতঙ্কিত, উৎকণ্ঠিত কখন মাদকের নেশার জালে আটকা পড়ে তাদের প্রিয় সন্তান।

সর্বনাশা মাদক এখন দেশব্যাপী আরো ছড়িয়ে পড়েছে। সর্বগ্রাসী এ মরণ নেশার কারণে দেশের লাখ লাখ মানুষ বিশেষ করে তরুণ ও যুব সমাজ বিপথগামী হয়ে পড়ছে। তবে শুধু তরুণরা নয়, এখন কিশোর, এমনকি কিশোরীরাও মাদকাসক্ত হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে মিয়ানমার থেকে সড়ক ও নৌ পথে ইয়াবাসহ নানা মাদকদ্রব্য দেশে ঢুকছে। সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ছড়িয়ে পড়ে ধ্বংস করে দিচ্ছে আমাদের তরুণ ও যুব সমাজকে। মাদকের বিষাক্ত ছোবলে অকালে ঝরে পড়ছে তাজা প্রাণ। শূন্য হচ্ছে মায়ের বুক।

এখন সবচেয়ে ভয়ংকর মাদক হচ্ছে ইয়াবা। শারীরিকভাবে এর ক্ষতি মারাত্মক। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি কেউ দীর্ঘদিন ব্যবহার করলে তার মধ্যে মানবিক গুণাবলি বলে কিছু অবশিষ্ট থাকে না। খুন-খারাবিসহ এমন কোনো অপকর্ম নেই, যা তারা করতে পারে না। অথচ ভয়ংকর মাদক ইয়াবা এখন প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলেও সহজলভ্য হয়ে উঠেছে। এর নেশা যেভাবে ছড়িয়ে পড়ছে তাতে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি কোন পর্যায়ে যায় তা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন অনেকেই। এ ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে সন্তানকে রক্ষার জন্য অভিভাবকদের সঙ্গে পুরো জাতি আজ শঙ্কিত।

বর্তমানে দেশে সহজলভ্য হয়ে উঠেছে এই মাদক। নানা কৌশলে বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে প্রচুর মাদক ঢুকছে। দেশের বিভিন্ন পয়েন্টে প্রতিদিন হেরোইন, আফিম, প্যাথেডিন, ইয়াবা, গাঁজাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক বিক্রি হয়। এই ইয়াবা আসে মূলত মিয়ানমার থেকে। সীমান্তে তার চোরাচালান আমরা আটকাতে পারছি না। যে কারণে ঢাকাসহ সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে এটি দ্রুত। এর খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

কিন্তু সমাজ, দেশ ও জাতিকে সুস্থ রাখতে হলে সর্বনাশা এ কারবার জরুরিভিত্তিতে বন্ধ করা প্রয়োজন। মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে হলে মাদকদ্রব্যের প্রাপ্তি যাতে সহজলভ্য না হয় সেটি নিশ্চিত করতে হবে। যে কোনো মূল্যে ঠেকাতে হবে মাদকের অনুপ্রবেশ। দেশেও যাতে মাদকদ্রব্য উৎপাদন হতে না পারে সে ব্যাপারেও পদক্ষেপ নিতে হবে। দুঃখজনক হচ্ছে, মাঝে-মধ্যে ছোটখাট মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকের চালান ধরা পড়লেও কুশীলবরা থেকে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে। অন্যদিকে মাদক ব্যবসায় যুক্ত থাকার অভিযোগে যাদের আটক করা হয়, তারাও কয়েক দিনের মধ্যেই জামিনে বেরিয়ে এসে আবার ওই কারবারে যুক্ত হয়। অভিযোগ রয়েছে, সমাজের প্রভাবশালী অনেক ব্যক্তি এসব সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত থাকায় তাদের টিকিটি স্পর্শ করতে পারে না আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। এই অবস্থার পরিবর্তন জরুরি। মাদকের ভয়াল থাবা থেকে দেশকে বাঁচাতে হবে। মাদক সিন্ডিকেট যতই শক্তিশালী হোক তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।

মাদক তথা মাদকাসক্তি প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হচ্ছে মাদকদ্রব্য ও মাদকাসক্তির বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা গড়ে তোলা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত মাদকদ্রব্যের অনুপ্রবেশ সম্পূর্ণ বন্ধ করা, মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা। যে যুদ্ধে নেমেছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী তা মাদকের সা¤্রাজ্য শেষ না হওয়া পর্যন্ত চালিয়ে যেতে হবে। এছাড়া বেকারদের কর্মসংস্থান ও স্কুল-কলেজে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি মাদকাসক্তির কুফল সম্পর্কে শিক্ষা দান এবং মাদকাসক্তদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা। তাই দেশের স্বার্থে, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষায় অবশ্যই পদক্ষেপ নিতে হবে আমাদের।

cbn
কক্সবাজার নিউজ সিবিএন’এ প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।

সর্বশেষ সংবাদ

ক্রোয়েশিয়ার বুকে শান্তির প্রতীক রিজেকা মসজিদ

গভীর রাতে জেলা প্রশাসকের ২ শতাধিক কম্বল বিতরণ

চকরিয়ায় হুফ্ফাজুল কুরআন ফাউন্ডেশনের হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতা সম্পন্ন

বাংলাদেশের প্রথম পতাকা উত্তোলন হয় কক্সবাজারে

কোনো সংবাদপত্র প্রকাশিত হয়নি একাত্তরের এই দিনে

উসকানি ঠেকাতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নজরদারি করবে সরকার

তিনি মহাশক্তিধর, পাহাড় কেটে বহুতল ভবন সরকারি কর্মকর্তার

রোহিঙ্গাদের জন্য রাখাইনে ৫০টি বাড়ি দিল ভারত

দক্ষিণ রুমালিয়ার ছরার মমতাজ ড্রাইভার আর নেই

নির্বাচনে ১৫ হাজার পর্যবেক্ষকের অর্থায়ন করবে যুক্তরাষ্ট্র

বঙ্গবন্ধুর কবর জিয়ারতে প্রচার শুরু করছেন শেখ হাসিনা

হাইকোর্টে ধানের শীষ পেতে আপীল গৃহীত হয়নি : হামিদ আযাদ ইতিহাস সৃষ্টি করলো!

নারী অধিকার ও খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে ধানের শীষে ভোট দিন-শিরিন রহমান

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ত্রানের চাল নিয়ে সংঘর্ষ, আটক ৬

হ্নীলায় ইয়াবাসহ যুবক আটক

রামু উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদকসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা

কক্সবাজার-১ : জাফর আলমের পক্ষে নৌকায় স্ত্রীর ভোট প্রার্থনা

‘হারিয়ে যাওয়া স্বজনের খোঁজ পেতে রেডক্রিসেন্টের সহযোগিতা নিন’

সিংহ নিয়ে ভোটে নামছেন হিরো আলম

হ্নীলায় ৪০শতক সরকারী জমি উদ্ধার