নিজস্ব প্রতিবেদক:

পেকুয়ায় বাক প্রতিবন্ধী এক যুবতীর রহস্যজনক মৃত্যুর দায় নিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে তাহমিনা আফরোজ ও নুরুল হোসেন নামের নিরহ ভাইবোন। এ মৃত্যুকে ঘিরে তাদের হয়রানী করা হচ্ছে বলে দাবী করেছেন পরিবারের সদস্যরা।

স্থানীয়রা জানান, একবছর আগে পেকুয়া সদর ইউনিয়নের বিলহাছুরা এলাকার মৃত আহমদুর রহমানের ছেলে নুরন্নবীর সাথে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় বারবাকিয়া ইউনিয়নের মাতবর পাড়া এলাকার জালাল আহমদের মেয়ে তাহমিনা আফরোজের। বিয়ের পর থেকে স্বামীর সংসারে শাশুড়ি ও এক ননদীকে নিয়ে সুখেশান্তিতে দিনযাপন করে আসছিল সে।

তাদের পরিবারের সদস্যরা বলেন, গত ১৪মে রাতে পরিবারের অগোচরে বিষপানে আত্মহত্যা চেষ্টা করে বাক প্রতিবন্ধী যুবতী রিনা আক্তার। এসময় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে ১৬মে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় এইযে, এ অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুকে ঘিরে ফায়দা লুঠতে মরিয়া হয়ে উঠে একটি চক্র। তারা এ মৃত্যুকে পুঁজি করে নিহতের ভাবী তাহমিনা আফরোজ ও তার ভাই নুরুল হোসেনের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেন।

তাহমিনা আফরোজের ভাই কামাল হোসেন বলেন, সংবাদপত্রে দেয়া বক্তব্যে এবং মামলার এজাহারে নিহতের পরিবারের সদস্যরা দাবী করেছেন রিনা আক্তারকে পানির সাথে বিষ মিশিয়ে পান করিয়েছে আমার বোন তাহমিনা। কিন্তু একজন বাক প্রতিবন্ধীকে পানির সাথে বিষ মিশিয়ে পান করানো কতটুকু বিশ্বাসযোগ্য। কারণ, বাক প্রতিবন্ধীদের কথা বলার বা শোনার শক্তি সৃষ্টিকর্তা না দিলেও ঘ্রাণশক্তি দিয়েছেন প্রচুর। তাছাড়া যে বিষ রিনা পান করেছে তা বাড়িতে নিয়ে যায় বলে স্বীকারোক্তি দিয়েছে আমার বোনের স্বামী নুরুন্নবী।

তার ভাইবোন ষড়যন্ত্রের শিকার দাবী করে তিনি আরো বলেন, আমার বোন তাহমিনার পরকিয়া আসক্ত স্বামী নুরন্নবী দীর্ঘদিন ধরে নানা অজুহাতে তাকে নির্যাতন করে আসছিল। এরই ধারাবাহিতায় অসৎ উদ্দেশ্যে হাসিলে তার আত্মহত্যাকারী বোনের মৃত্যুর দায় আমার বোনের উপর তুলে দিয়ে তাকে ঘরছাড়া করেছে।

এদিকে নিহতের ভাই ও তাহমিনার স্বামী মোঃ নুরুন্নবী বাড়ীতে বিষ কিনে নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমার স্ত্রী তাহমিনা আমার কর্মস্থল চট্টগ্রামে তাকে নিয়ে আসার জন্য আমাকে মানসিকভাবে চাপপ্রয়োগ করে আসছিল। কিন্তু এতে আমি সম্মত না হওয়ায় সে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

স্থানীয় ইউপির সদস্য আরিফুল ইসলাম বলেন, বিষ পান করিয়ে রিনা আক্তারকে হত্যা করা হয়েছে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে দাবী করা হয়। পরে আমরা বিষয়টি থানা প্রশাসনকে জানাই। তারা আইনগত ব্যবস্থা নিয়েছেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ পরিদর্শক (এসআই) আশিকুর রহমান বলেন, মরদেহের সুরতহাল এবং চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকের প্রতিবেদন অনুযায়ী বাক প্রতিবন্ধী যুবতী রিনা আক্তারের মৃত্যু বিষক্রিয়ার কারণে হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে বিষ সে নিজে পান করেছিল কিনা অথবা অন্যকেউ পান করিয়েছিল কিনা তা ভিসেরা রিপোর্ট পেলে জানা যাবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •