নামাজ পড়তে যদি পেছন সারি থেকে বাচ্চাদের হাসির আওয়াজ না আসে তাহলে…..

ওমানের মসজিদে নামাজ আদায় করার সুযোগ হয়েছে আমার, প্রায় সবখানে দেখলাম বাচ্চারা মসজিদে মোটামুটি উপস্থিত থাকে। তাদের যেখানে ইচ্ছা খেয়াল খুশী মতো কাতারে দাঁড়ায়। বড়রা কিছু বলে না, এমনকি অনেক সময় দেখলাম নামাজের সময় বাচ্চারা পেছনে বা সামনে কোন কাতারে হই হুল্লোড় করছে, নামাজ শেষে ইমাম, মুসল্লি কেউ কিছু বলে না। আমি একদিন একজনকে জিজ্ঞেস করলাম, “এর কারন কি?”

তিনি বললেন, “বাচ্চারা হলো ফেরেস্তার মতো এরা এখানে আসবে একটু দুষ্টামি করবে কিন্তু দেখতে দেখতে এটাতে অভ্যস্ত হয়ে পড়বে। দুষ্টামির ব্যাপারটা বয়স বাড়ার সাথে সাথে ঠিক হয়ে যাবে; সেটা কোন ব্যাপার না। কিন্তু এখন যদি ওদের মসজিদে হুমকি দামকি দেওয়া হয়, মারা হয়, তাহলে সে তো আর এইখানে আসতে-ই চাইবে না, একটা ভয় নিয়ে বেড়ে উঠবে এটা তো ঠিক না।”

কি সুন্দর যুক্তি! আর ঠিক উল্টো চিত্র দেখবেন আমাদের বাংলাদেশে। আমি এমনও দেখেছি নাতীকে মসজিদে নিয়ে আসার কারনে নানার সাথে আরেকজনের মারামারি লেগে গিয়েছিলো। আর এলাকার সিজনাল মুরব্বিরা তো মসজিদে গলা বড় বড় মোল্লা হয়ে যায়, সামনের কাতারে ছোটদের দাঁড়াতে দেই না, বাচ্চারা আওয়াজ করলে চড় থাপ্পর এসব তো আছেই। হুজুরেরাও এটাকে এড়িয়ে যায় বা বাচ্চাদের মসজিদে আনতে না বলে।

বুখারী শরীফে এসেছে- রাসুল (সাঃ) তার নাতনী হযরত উমামা বিনতে যায়নাব (রাঃ) কে বহন করে (কোলে কিংবা কাঁধে) নামাজ আদায় করতেন। যখন তিনি দন্ডায়মান হতেন তখন তাকে উঠিয়ে নিতেন আর সিজদাহ করার সময় নামিয়ে রাখতেন ।
আমরা একদা যুহর কিংবা আসর নামাজের জন্য অপেক্ষা করতেছিলাম। বেলাল (রাঃ) রাসুল (সাঃ) কে নামাজের জন্য ডাকলেন। রাসুল (সাঃ) তার নাতনী হযরত উমামাহ (রাঃ) কে কাঁধে করে নিয়ে আমাদের কাছে আসলেন। রাসুল (সাঃ) ইমামতির জন্য নামাজের স্থানে দাড়ালেন আমরা তার পিছনে দাঁড়িয়ে গেলাম অথচ, সে (উমামাহ রা.) তার স্থানে তথা রাসুল (সাঃ) এর কাধেই আছে। রাসুল (সাঃ) নামাজের তাকবির দিলেন আমরাও তাকবীর দিলাম। রাসুল (সাঃ) রুকু করার সময় তাকে পাশে নামিয়ে রেখে রুকু ও সিজদাহ করলেন। সিজদাহ শেষে আবার দাড়ানোর সময় তাকে আগের স্থানে উঠিয়ে নিতেন। এভাবে নামাজের শেষ পর্যন্ত প্রত্যেক রাকাতেই তিনি এমনটি করে যেতেন।
(সুনান আবু দাউদ ৯২০)

এ ছাড়াও রাসুল (সাঃ) এর খুতবা দেয়ার সময় তার নাতি হাসান ও হুসাইন (রাঃ) আসলে তিনি খুতবা দেয়া বন্ধ রেখে তাদেরকে জড়িয়ে ধরে আদর করতেন, কোলে তুলে নিতেন চুম্বন করতেন আর বলতেন খুতবা শেষ করা পর্যন্ত আমি ধৈর্য ধারণ করতে পারব না। তাই, আমি খুতবা দেয়া বন্ধ করেই এদের কাছে চলে এসেছি। (নাসায়ী শরীফ)

মুহাম্মাদ সঃ নিজে বাচ্চাদেরকে কোলে রেখে নামায পড়িয়েছেন। আর আমাদের বুজুর্গ-মুসল্লিরা মসজিদেই তাদের উপস্থিতি সহ্য করতে পারেন না।

রাসুলুল্লাহ সঃ বলেছেন, যে আমাদের ছোটদেরকে স্নেহ করে না এবং বড়দেরকে সম্মান করতে জানে না সে আমার দলভুক্ত নয়। (আবু দাউদ, তিরমীজি, মুসনাদে আহমদ)

তো এই ব্যাপারে তরুনদের সতর্ক হওয়া দরকার।মুরব্বিদেরকে তাদের এইসব বুঝানো দরকার। আমাদের হুজুরদের বয়ানে এইসব স্পষ্ট করা দরকার।তাহলে বাচ্চারা মসজিদমুখী হতে আগ্রহী হবে।

©লেখক ও পরিচালক-তালীমুল ইসলাম ইনষ্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার, ঢাকা।

সর্বশেষ সংবাদ

ইসরাইল প্রতিরোধে আসছে এরদোগানের ‘ ইসলামিক আর্মি’

মেয়েদের ধনী হওয়ার প্রধান মাধ্যম বিয়েঃ মার্কিন গবেষক

চকবাজারে অক্ষত সব কোরআন-হাদিসের বই

ডাকসুর জন্য শীর্ষ নেতাদেরই বেছে নিচ্ছে ছাত্রলীগ

এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছেন ‘এমএ পাস’ ওসি

চকবাজারের ঘটনায় রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হবে : প্রধানমন্ত্রী

ডুলাহাজারার সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবদুর রহিমের পিতা ইন্তেকাল

জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন যেন গণতন্ত্রের নির্ভেজাল চর্চা

চট্টগ্রামে আজ মহেশখালী পেশাজীবি সমিতির সংবর্ধনা অনুষ্ঠান

নির্বাচনী প্রচারণায় সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল আরজু

আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা ঢাকায়

কক্স সোসাইটির জেলা ভিত্তিক প্রতিযোগিতা মার্চে

চকবাজারের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের শোক

ফাহিম কাঁদছে রোগের ঘোরে, হৃদয়বানরা চোখ মেলে চাও

টেকনাফে দুর্বৃত্তদের গুলিতে রোহিঙ্গা নিহত

মদ পানে ৩২ জনের মৃত্যু

আজ বার্ন ইউনিটে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

ঢাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ব্যাপক প্রাণহানিতে ইসলামী ছাত্রসমাজের শোক

উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ শুরু

জার্মান সাংবাদিকদের ক্যামেরা পাসপোর্টসহ ছিনিয়ে নেওয়া মালামাল উদ্ধার