গর্জনিয়া বাজারে অতিরিক্ত হাসিল আদায়, ব্যবসায়ীরা দিশেহারা 

হাবিবুর রহমান সোহেল, নাইক্ষ্যংছড়ি:
রামু উপজেলার গর্জনিয়া বাজারে অতিরিক্ত হাসিল আদায় সহ অসৌজন্যমুলক আচরণ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অতিরিক্ত হাসিল ও ইজারাদারদের বেপরোয়া ব্যবহারে বাজারে আসা ক্রেতা বিক্রেতা সহ সকলে দিশেহারা অবস্থায়।
গত সোমবার দুপুরে গর্জনিয়া বাজারের অলিতে গলিতে ঘুরে দেখা গেছে,  ইজারাদারের নিয়োগ করা করা বেপরোয়া ও উশৃংখল যুবক কর্তৃক হাসিল আদায় কে কেন্দ্র করে ক্রেতা বিক্রেতাদের উপর চড়াও হওয়া ঘঠনা অহর অহর।
কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের তিতার পাড়ার তরকারী বিক্রেতা নুরুল আজিম ও মাছ বিক্রেতা জাহেদ জানান, আগের বছরের তুলনায় বর্তমান ইজারাদার এম সেলিম বাজারের প্রতিটি জিনিস থেকে ৩/৪ গুন বেশি টাকা আদায় করছে। আর তাদের নিয়োগ করা বেপরোয়া যুবক কর্তৃক দাবীকৃর্ত টাকা না দিলে সৃষ্টি হচ্ছে নানা ঝগড়া ঝাটি সহ বড় ধরনের ঘটনা। কালি বাড়ির সামনে এক লিচু বিক্রেতা জানান, ফাক্রির কাটার এমদাদ মিয়া নামের এক বেপরোয়া যুবক বাজারে অসহায় নিরহ ও দুর দুরান্তে থেকে আসা বিক্রেতাদের কাছে থেকে জোর করে পেশি শক্তির ভয় দেখিয়ে ৩/৪ গুন বেশি দামে হাসিল আদায় করছে। যার কারনে বাজারে দিন দিন ক্রেতা বিক্রেতার সমাগম কমছে। এই ভাবে চলতে থাকলে গর্জনিয়া বাজারে ক্রেতা থাকলেও বিক্রেতা থাকবে না বলে ধারনা করছেন বাজারে আসা হাজারও ক্রেতা বিক্রেতা। মাছ বাজারের সাগর নামের এক মাছ বিক্রেতা জানান, আগের তুলনায় এখন তাদের ৩/৪ বেশি হাছিল দিতে হচ্ছে।
তার কারন হিসেবে বেশি মুল্যে বাজার ইজারা নেওয়ার যুক্তি দেখান বলে জানান এক গরু ব্যবসায়ী। জানা যায়, গেল অর্ধ মাস আগে ওই অতিরিক্ত হাসিল আদায় কেন্দ্র করে গর্জনিয়া বাজারে বড় ধরনের ঘটনা হয়েছিল। যার কারনে তৎকালিন রামু উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহাজান আলীর নির্দেশে কচ্ছপিয়ার তহসিলদার ও গর্জনিয়া পুলিশ ফাড়িঁর আইসি পরিদর্শক কাজি আরিফ উদ্দিনের নের্তৃতে বাজারে এক দিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত সকল প্রকার হাসিল তোলা বন্ধ করে দেয়। পরে অবশ্য উপজেলা প্রশাসনের কাছে তারা অতিরিক্ত হাসিল নিবে না বলে মোছলেকা দিয়ে, বিকেল থেকে আবার হাসিল তুলেন। এলেকার সচেতন মহল বাজারে অতিরিক্ত হাসিল আদায় বন্ধ সহ অনাকাংখিত ঘঠনা এড়াতে উপজেলা প্রশাসনের বাজার মনিটরিং সহ বাজারে সকল প্রকার পন্যের হাসিলের মুল্য তালিকা লটকানোর দাবী জানান।
বাজারে অতিরিক্ত হাসিল নিয়ে কথা বলতে গর্জনিয়া বাজার ইজারাদার যুবলীগ নেতা এম সেলিমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তার প্রতি পক্ষের লোক জন তার বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করছে।
এই বিষয়ে কথা বলতে রামু উপজেলার নবাগত নির্বাহী অফিসার লুৎফুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তিনি এই বিষয়ে খোজ খবর নিয়ে ব্যবস্থা নিবেন।