হোটেলের সামনে ময়লা ফেলে পৌরকর আদায়ের চেষ্টা: ফেসবুকে প্রতিক্রিয়া

সিবিএন:

কক্সবাজার শহরের কলাতলী এলাকার কিছু আবাসিক হোটেলের পৌরকর বকেয়া রাখার অভিযোগে হোটেলের সামনের সড়কে ময়লা-আবর্জনা ফেলে কর আদায়ের জন্য চাপ প্রয়োগ করেছে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ।

বুধবার (২ মে) দুপুর দেড়টার দিকে কলাতলীর হোটেল জামাল, সি ওয়েভ, কক্স ভ্যালি ও সি পয়েন্ট রিসোর্টের সামনে ময়লার স্তূপ জমা করতে দেখা যায় পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের। যদিওবা পরে সরিয়ে নিয়েছে।

কক্সবাজার পৌরসভা কর্তৃপক্ষ অবশ্য ইতিবাচক চিন্তা নিয়ে কাজটি করেছে।

এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম সংবাদও করেছে।

ঘটনাটি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে যার মতো প্রকাশ করছে। কেউ পক্ষে, আবার কেউ বিপক্ষে। অধিকাংশের মত, পৌর কর্তৃপক্ষ কাজটি ভাল করেনি।

কারণ, কক্সবাজার একটি প্রথম শ্রেনীর পর্যটন এলাকা। কর আদায়ের কৌশল এটি নয়। কর পরিশোধ না করলে আইন তো আছে। সে পথে না গিয়ে চলাচলের রাস্তায় এভাবে ময়লা-আবর্জনা রেখে বকেয়া ভ্যাট আদায়ের চেষ্টা ভাল হয়নি।

কয়েকজনের ফেসবুক স্ট্যাটাস তুলে ধরা হলো:
ওয়াহিদুর রহমান রুবেল:
পৌরকর পরিশোধ না করায় কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র (ভারপ্রাপ্ত) মাহবুবুর রহমানের নির্দেশে হোটেলের সামনে ময়লা পেলে প্রতীকী প্রতিবাদ জানালেন পৌরকর্তৃপক্ষ। প্রতিবাদের জন্য ধন্যবাদ জানাই পৌর মেয়রকে। তবে এমন একটি সময় ময়লাগুলো ফেলে প্রতিবাদ জানানো হলো, যখন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শত শত লোক কক্সবাজারে অবস্থান করছে। রোহিঙ্গা ইস্যুর কারণে উন্নত বিশ্ব আজ কক্সবাজার নজরে রেখেছেন। যা আমাদের জন্য সুখকর নয়। তাদের কাছে আমাদের মাথা হেড হয়ে যাবে। যদি হোটেলগুলো ভ্যাট না দেয়, তবে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া যেত। ময়লা ফেলে শুধু কি হোটেলকে শাস্তি দেয়া হলো ? সাধারণ মানুষ বা পর্যটকরা কি ভোগান্তিতে পড়েনি ? নিশ্চিয় ভাবতে হবে। একই সাথে পৌরবাসি ভ্যাট দেয়ার পরও কি নাগরিক সুযোগ সুবিধা পাচ্ছে ? টমটমের কারণে শহরে চলাচল করা দায় । ছিনতাই, চুরি নিত্য দিনের ঘটনা, পানি সরবরাহ নেই বললে চলে। পাবলিক টয়লেট অকার্যকর। প্রধান সড়ক ময়লায় সয়লব। নালা দখল উচ্ছেদ নেই। বাঁকখালী দখল উচ্ছেদ নেই। শুধু নেই আর নেই। তাই জনগণের সেবা নিশ্চিত করা পৌর কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। আমি/আমরা আশবাদী হতে চাই জনগণের জন্য কাজ করছে পৌর প্রশাসন। একই সাথে যারা বা যেসব প্রতিষ্ঠান কর ও ভ্যাট দেবে না তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিবেন।

ম. ন. আবছার
ওটা প্রতীকী প্রতিবাদ ছিল বললে ভুল হবে রুবেল। ভ্যাট না দিলে নিজের ইচ্ছামত আইন তৈরি করে কাউকে শাস্তি দেওয়ার ক্ষমতা রাষ্ট্র দেয়নি কোন ব্যক্তিকে। এখন জনপ্রতিনিধি হিসাবে এটা কখনওই কাম্য ছিল না। ক্ষমতার দাম্ভিকতা, ব্যক্তিগত বিরোধিতা কখনো প্রাতিষ্ঠানিক নিয়মে ফেলা যায় না। ১৬ টা সিরিয়াল কিল করেও রসুকে সুস্থ শরীরে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারক। যতক্ষণ দেশে আইন আছে ততক্ষণ আইন নিজের হাতে তুলে নেয়া যায় না। যারা এই কর্মকাণ্ড সাপোর্ট করছে তারা কি বুঝে একটা নোংরা মানসিকতাকে সাপোর্ট করছে তা আমার বোধগম্য নয়। পর্যটক না থাকুক তারপরও কোন বাসার সামনে বা হোটেলের সামনে ময়লা ফেলা খুবই নোংরা রাজনীতির ইংগিত দেয়। আমি আইন না মানলে আমার জন্য আইন আছে, শাস্তি আছে। কিন্তু পুলিশ ত আর আমাকে আদালতে না পাঠিয়ে সে আইনের রক্ষক বলে আমাকে শাস্তি দিতে পারেনা!! পুরো ব্যপারটা খুবই অপরিপক্ব এবং বিব্রতকর অবস্থার সৃষ্টি করেছে। সরকারের ভাবমুর্তি নষ্ট করার কোন ষড়যন্ত্র কিনা সেটাও খুঁটিয়ে দেখা দরকার। নির্বাচনের ঠিক আগের মুহুর্তে এভাবে নিত্যনতুন সমালোচনার জন্ম দেয়া আদৌ দলের মঙ্গল বয়ে আনবে না।

এটা প্রতিবাদ হলে যারা বাসার হোল্ডিং ট্যাক্স দিচ্ছেনা বছরের পর বছর তাদের বাসায় কি গু মারাও প্রতিবাদ? সরকারী প্রতিষ্ঠান বিএডিসি তে পৌর কর বকেয়া আছে ১০ লাখ টাকার উপর। তাদেরকে নালার ভিতর চুবিয়ে রাখলে সেটাও কি প্রতিবাদ হবে?

একটা টমটম লাইসেন্স এর বর্তমান বাজার মূল্য ৪০ থেকে ৫০ হাজার। সেই সোনার ডিম পাড়া হাস কি এত সহজে মেরে ফেলবে কর্তারা? আপনারা আইনের মানুষ। ভাল-মন্দ আপনারা জানেন, বুঝেন। কাল আপনাকে পছন্দ না হলে আপনার বাসায় গিয়ে পচা ডিম ছুড়ে মেরে বলবে- ”নোমান সাহেব দুর্নীতিবাজ তাই ডিম ছুড়েছি”… আসলে রাজনীতি মানেই নোংরামি, ক্ষমতা মানেই নগ্ন উল্লাস। ক্ষমা করবেন ভুল হলে।

Nazim Uddin 
ভুঁয়া প্রতিবাদ,
আবর্জনাময় প্রতিবাদ।
ময়লাযুক্ত প্রতিবাদ।

Moazzem Riad 
ককসবাজার পৌরসভা (ক) তালিকার ( প্রথম শ্রেনীর পৌরসভা) অন্তর্ভুক্ত হল কি করে ?
এত দীন হীন প্রতিষ্টান, যার ভ্যাট টেক্স আদায় করতে পর্যটন এলাকার হোটেল মোটেল জোনের হোটেলের রিসিপশনের সামনে আবর্জনার স্তুপ করে শাস্তি দিবেন ? তবে কি তার ভ্যাট টেক্স মাফ হয়ে গেল ?
জনগনের প্রতক্ষ্য ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি কখনো এধরনের নোংরা কাজ করতে পারেন না।
ভ্যাট টেক্স অনাদায়ী হলে সরকারের প্রচলিত আইন অনুসারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিন কিন্তু যে হোটেলে দেশ বিদেশের পর্যটকরা অবস্তান করছে সে হোটেলের সামনে ময়লা আবর্জনা স্তুপ করে রাখবেন তা কতটা যৌক্তিক ?
এত জনপ্রতিনিধি দেখলাম পৌরসভা কে পরিচালনা করতে তাদের কাউকে তো এ ধরনের অরুচিকর, আইন হাতে তুলে নেবার শামীল কাজ করতে দেখিনি।
ককসবাজার পৌরসভার আয় এত করুন অবস্তা হবার কথা নয় যতটা জানি। দয়া করে কারো প্ররোচনাতে ব্যক্তিগত ক্ষোভ প্রসুত ইন্ধনে এ ধরনের স্ট্যেপ আপনার ইমেজ নষ্ট হতে পারে।
মোয়াজ্জেম রিয়াদ আরো লিখেছেন-একটি পৌরসভার প্রধান আয়ের উৎস পৌরকর, যা দিয়ে সকল উন্নয়ন কর্মকান্ড পরিচালিত হয় সেটি সবার জানা। তবে বিগত সময়ে কতিপয় পৌর চেয়ারম্যান পৌর কর না নিয়ে অরাপর উৎস থেকে সকল উন্নয়ন কর্মকান্ড পরিচালনা করত এবং নিজেদের জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে ও জনগনের বিরাগভাজন না হতে কখনো পৌরকর আদায়ের বিষয়টি মুখেও আনতনা। যার কারনে একশ্রেনীর পৌরবাসীর গাত্রদাহ হতেই পারে পৌর কর চাইলে। তবে সরকার বিভিন্ন রুলস রেখেছে কর আদায়ের ক্ষেত্রে যা পৌর মেয়র চাইলে ফলো করতে পারত !
কিন্তু ময়লা আবর্জনা রেখে কর আদায়ে বাধ্য করার মত বিশ্রী বিষয়ে সুনামের চেয়ে দূর্নাম হচ্চে বেশি। যারাই পরিচ্ছন্ন পরিকল্পিত পরিবেশ বান্ধব নগরীর গড়বে তারা যখন অপরিচ্ছন্নতা সৃষ্টি করে অস্বাস্তকর পরিবেশ তৈরী করে তখন যে কর ফাঁকি দেয়নি তারও কিন্তু স্বাস্তগত ঝুকি রয়েছে। সেই স্বার্থে বলব ময়লা আবর্জনার নোংরা সংস্কৃতি থেকে সরে আসতে।
১৯৮২ সালে সম্ভবত চট্রগ্রামের সুইপারদের একটি আন্দোলন হয়েছিল সুইপারদের নিরাপদ আবাসনের দাবীতে যা ভয়াবহ পরিস্তিতির কারনে সরকার তাদের দাবী মেনে নিতে বাধ্য হয়েছিল। কিন্তু লজ্জাকর পরিস্তিতিতে ছিল চট্রগ্রাম সিটি কর্পোরেশন।

Imam Khair
হেটেল মালিকের টেক্স ফাঁকির অভিশাপ পথিক, পর্যটক, সাধারণ ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের ভোগ করতে হলো।

Sarder Shariful Islam
ট্যাক্স না দিলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা আছে৷ কিন্তু কতটা রুচিহীন হলে এই কাজ করা সম্ভব৷

এ বি ছিদ্দিক খোকন
এখন থেকে আমরাও স্ব স্ব এলাকা থেকে ময়লা আবর্জনা তুলে পৌরসভার সামনে রাখব। জনতা জেগে উঠ।

তুষার তুহিন
তুমি কেমন জ্ঞানী। তুমি কেমন সচেতন নাগরিক। তুমি কেমন ভোটার। যে তুমি সেবা চাইবে কিন্তু কর ফাকি দিবে। তোমাকে বারবার জানানোর পর ও পৌরকর পরিশোধ করবে না।
যদি তোমার চরিত্র এমন হয় তবে পৌরসভা জনসম্মুখে তোমার মুখোশ ভালভাবেই খুলে দিল।

মোঃ নোমান হোসেন প্রিন্স 

মহামান্য হাই কোর্ট এর নির্দেশনার অালোকে যদি কক্সবাজার পৌরসভা সকল অবৈধ টমটম/ইজিবাইক এর বিষয়ে একই রকম কঠোর সিদ্ধান্ত নিতো…
ফ্যাক্টঃ কক্সবাজার পৌরসভা কর্তৃক ভ্যাট অাদায়ের স্বার্থে বিভিন্ন তারকা মানের হোটেল এর সামনে “ময়লা” ফেলে প্রতিবাদ। ফেইস বুক এ ভাইরাল।
বিঃদ্রঃ ইহা একটি অাবেদন মাত্র। কারো পক্ষে বা বিপক্ষে মতামত নয়।

ম. ন. আবছার 

এটা প্রতিবাদ হলে যারা বাসার হোল্ডিং ট্যাক্স দিচ্ছেনা বছরের পর বছর তাদের বাসায় কি গু মারাও প্রতিবাদ? সরকারী প্রতিষ্ঠান বিএডিসি তে পৌর কর বকেয়া আছে ১০ লাখ টাকার উপর। তাদেরকে নালার ভিতর চুবিয়ে রাখলে সেটাও কি প্রতিবাদ হবে? একটা টমটম লাইসেন্স এর বর্তমান বাজার মূল্য ৪০ থেকে ৫০ হাজার। সেই সোনার ডিম পাড়া হাস কি এত সহজে মেরে ফেলবে কর্তারা? আপনারা আইনের মানুষ। ভাল-মন্দ আপনারা জানেন, বুঝেন। কাল আপনাকে পছন্দ না হলে আপনার বাসায় গিয়ে পচা ডিম ছুড়ে মেরে বলবে- ”নোমান সাহেব দুর্নীতিবাজ তাই ডিম ছুড়েছি”… আসলে রাজনীতি মানেই নোংরামি, ক্ষমতা মানেই নগ্ন উল্লাস। ক্ষমা করবেন ভুল হলে।

কক্সবাজার নিউজ সিবিএন’এ প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।

সর্বশেষ সংবাদ

রামুতে শহীদ লিয়াকত স্মৃতি বৃত্তি পরীক্ষা-২১ সেপ্টেম্বর

সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের টাকা পেলেন কক্সবাজারের ৬ সাংবাদিক

মানবতার মূর্ত প্রতীক শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র : মেয়র মুজিবুর রহমান

উদীচী, কক্সবাজার জেলা সংসদের দ্বিতীয় সম্মেলন বৃহস্পতিবার

বঙ্গবন্ধু জাতীয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্ণামেন্টে চকরিয়া-মহেশখালী ফাইনালে

মাদকে জড়িতদের বিরুদ্ধে আরো কঠোর হতে হবে -পুলিশ সুপার

সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে উখিয়ায় প্রশাসনের ব্যাতিক্রমধর্মী উদ্যোগ

২৩ সেপ্টেম্বর জনসভা সফল করতে নাজনীন সরওয়ার কাবেরীর গণসংযোগ

কবি আমিরুদ্দীনের পিতার মৃত্যুতে কক্সবাজার সাহিত্য একাডেমীর শোক

কক্সবাজারে নবাগত পুলিশ সুপারের সাথে জেলা শ্রমিকলীগ নেতৃবৃন্দের সাক্ষাত

হোপ ফিল্ড হসপিটাল ফর উইমেন এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন বৃহস্পতিবার

মাদাম তুসোর মিউজিয়ামে স্থান পেল সানি লিওন!

এবার বয়ফ্রেন্ডও ভাড়া পাওয়া যাবে!

হোপ ফাউন্ডেশন একদিন বাংলাদেশের ‘রোল মডেল’ হবে- ইফতিখার মাহমুদ

সুপ্ত ভূষন ও দিপংকর পিন্টু’র জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও ডিসি’র সাথে সৌজন্য সাক্ষাত

লামায় পাহাড় কাটার দায়ে শ্রমিককে ১ লাখ টাকা জরিমানা

নতুন জেলা জজ কর্মস্থলে যোগ দিতে এখন কক্সবাজারে

‘সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সবার সচেতনতা প্রয়োজন’

টেকনাফে ঘুর্ণিঝড় প্রস্তুতিমূলক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

চট্টগ্রামে ছিনতাইকারী ধরতে ফায়ার সার্ভিস!