অার্তমানবতার কান্না এবং লোহাগাড়ার মানবদরদীদের তৎপরতা

ডাঃ মোহাম্মদ লোকমান :

“আমার যদি টাকা থাকত! উন্নত চিকিৎসার মাধ্যমে আমার ছেলেটাকে বাঁচাতে পারতাম!”
“টাকা নেই বলেই আমাদের মা’টাকে এভাবে বিনাচিকিৎসায় মরতে হল!”
এধরনের আফসোস প্রায়ই শুনা যায়, যদিওবা বর্তমান সভ্য সমাজের জন্যে এটি অত্যন্ত বেমানান।
হায়াত মউতের মালিক একমাত্র আল্লাহ্‌। কার কিভাবে কখন মৃত্যু হবে, তা তিনি ছাড়া কেউ জানেনা।
সুস্থ থাকা যেমন আল্লাহ্‌র নেয়ামত, রোগব্যাধিও তেমন দুনিয়াতে মানুষকে পরীক্ষা করার মাধ্যম। তিনি রোগবালাই যেমন দিয়েছেন, নিরাময়ের চিকিৎসা ব্যবস্থাও তেমন দিয়েছেন। কিন্তু এটি চিরন্তন সত্য যে, ডাক্তার, হাসপাতাল, ওষধ এগুলো অসুস্থ মানুষের সুস্থ হওয়ার উসিলা মাত্র। একজন অসহায় অসুস্থ ব্যক্তি সুস্থতা ফিরে পেতে এসব অবলম্বনের ধারস্থ হয়।
কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে, শুধুমাত্র টাকার অভাবেই অনেক আদম সন্তান যথাযথ চিকিৎসা সুবিধা হতে বঞ্চিত। অর্থাভাবেই অনেক মানুষ বাঁচার আশা ছেড়ে দিয়ে বিছানায় চটপট করতে করতে মৃত্যুর প্রহর গুণে।
মানব সমাজের জন্যে এধরনের দৃশ্য বড়ই বেমানান এবং লজ্জাজনক। দশের লাঠি একের বোঝা। প্রতিবেশী মানুষ গুলো যারযার সাধ্যমত অসহায় রোগাক্রান্ত মানুষের পাশে দাঁড়ালে, টাকার অভাবে বিনাচিকিৎসায় অন্তত কাউকে মরতে হবেনা।

আলহামদুলিল্লাহ্‌! অসহায় বনি আদমের করুন আর্তনাদ শুনে, অার্তমানবতার ডাকে সাড়া দিতে শান্তিপ্রিয় লোহাগাড়ার একদল তরুন সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। লোহাগাড়া মজিদার পাড়ার টিউমার ক্যান্সারে আক্রান্ত তৈয়বুলকে দিয়েই শুরু করল তাদের মিশন।
আলোড়ন সৃষ্টকারী এই মিশনে তারা সফলও হল।
দলমত নির্বিশেষে অসংখ্য মানুষ শরীক হল সেই মিশনে। বিশেষ করে প্রবাসী ভাইয়েরাই যোগান দিল সিংহভাগ অর্থের। গঠিত হল প্রায় ১৭ লক্ষ টাকার বিশাল একটি তহবিল। সেই তহবিলের উপর ভর করে উন্নত চিকিৎসার জন্যে তৈয়বুলকে পাঠানো হল মাদ্রাজে। আলহামদুলিল্লাহ্‌! সে এখন সুস্থ হওয়ার পথে, যে একসময় বাঁচার আশা ছেড়ে দিয়েছিল।
তৈয়বুলের চিকিৎসা সহায়ক তহবিল গঠনে মানবদরদী ভাইদের ইতিহাস সৃষ্টিকারী তৎপরতা দেখে অনেক আশাহত মানুষ নতুন আশায় বুক বেঁধেছে।
এরপর মানবদরদী ভাইদের সহযোগিতায় বহু অসহায় মানুষ চিকিৎসা সেবা পেয়েছে।
হার্টে ছিদ্র নিয়ে জন্ম নেয়া সুখছড়ি গ্রামের এতিম শিশু ইয়াছিন এবং চুনতির চান্দার কুল নিবাসী দিনমজুর এনামুল হকের একমাত্র সন্তান আদিলের ব্যয়বহুল অপারেশন সুসম্পন্ন হয়েছে ঢাকার ইব্রাহীম কার্ডিয়াক হাসপাতালে, সম্পূর্ণ মানবদরদীদের আর্থিক সহযোগিতায়। আল্লাহ্‌র রহমতে দুজনেই এখন সুস্থ।
ব্লাডক্যান্সারে আক্রান্ত কলাউজানের মণিমুক্তা এখন না ফেরার দেশে। তার জন্যেও আমাদের প্রচেষ্টার কোন অন্ত ছিলনা। তাকে বাঁচানো না গেলেও তার মা-বাবার আক্ষেপটা অন্তত ঘোচাতে সক্ষম হয়েছি আমরা। অন্তত টাকার অভাবে বিনাচিকিৎসায় সে মারা যায়নি। এটাই আমাদের বড় প্রাপ্তি।
থ্যালাসেমিয়াতে আক্রান্ত দক্ষিণ হরিণার শিশু জুবায়েরের প্লিহা অপারেশন হয়েছে মালুম ঘাট ক্রিস্টান মেমোরিয়াল হাসপাতালে, তাও মানবতাবাদীদের আর্থিক সহযোগিতায়।
ফুসফুসে ক্যান্সারে আক্রান্ত বড় হাতিয়ার আক্তার হোসেন এবং জানে আলম, দুজনেই মানবিক সহযোগিতায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় চিরবিদায় নিয়েছেন আমাদের কাছ থেকে। এছাড়া লিভার ক্যান্সারে আক্রান্ত কলাউজানের কলিম উদ্দিন, সুখছড়ি শীল পাড়ার সহদেব শীল,
ডায়াবেটিক ফুটে আক্রান্ত লোহার দিঘীর পাড়ের আবদুস শুক্কুর সহ অনেকেই চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছে এবং পাচ্ছে শুধুমাত্র জনদরদী ভাইদের আর্থিক সহযোগিতায়।
বোন ক্যান্সারে আক্রান্ত বড় হাতিয়ার আবদুল মোমেন বর্তমানে চিকিৎসাধীন আছে মহাখালী জাতীয় ক্যান্সার হাসপাতালে, তা ও মানবদরদীদের জোগানো টাকায়।
ইতিমধ্যে কয়েক লক্ষ টাকা তার জন্যে খরচ হয়েছে।
আলহামদুলিল্লাহ্‌ সে এখন অনেকটাই সুস্থ, তবে চিকিৎসা এখনো অনেকটা বাকী।

আমাদের মানবিক কার্যক্রমের খবর সমুহ ফেসবুকের মাধ্যমে জানতে পেরে অসংখ্য অসহায় মানুষ আমাদের সাথে যোগাযোগ করছে, যারা টাকার অভাবে ডাক্তারের পরামর্শ মত চিকিৎসা নিতে পারছেনা। আমরাও সাধ্যমতো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি এসব অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস যারযার সাধ্যমতো সবাই এগিয়ে আসলে কোন মানুষকে অন্তত টাকার অভাবে চিকিৎসা না পেয়ে মরতে হবেনা। হযরত আলী (র:) বলেছেন “অল্প দান করিতে তোমরা লজ্জিত হইওনা
কেননা এটি একেবারে দান না করার চাইতে অনেক উত্তম)।
তাই অল্প হলেও নিয়মিত দান করার অভ্যাস করতে হবে আমাদের। আমাদের মিশন হচ্ছে- টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে না পারার আক্ষেপ নিয়ে কোন আদম সন্তানের যেন মৃত্যু না হয়। এই মিশন এগিয়ে নেয়ার প্রচেষ্টা আজীবন অব্যাহত থাকুক। মহান আল্লাহ্‌র দরবারে এটাই কামনা করি সবসময়। নিশ্চয়ই সামর্থ্যবানদের সম্পদের উপর গরীব অসহায়দের অধিকার রয়েছে। আসুন তাদের সেই অধিকার ফিরিয়ে দেয়ার মানসিকতা তৈরি করি। অসহায় মানুষকে দান করা বা সাহায্য করাটা একটি অভ্যাসের ব্যাপার। এধরনের ভালকাজে অভ্যস্ত হতে পারার মধ্যেই মানুষ হিসেবে জন্ম নেয়ার আসল সার্থকতা।
আল্লাহ্‌ যেন সবার মাঝে মানবতাবোধ জাগ্রত করেন, অার্তমানবতার পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতা দান করেন।

লেখক: মেডিকেল অফিসার, চকরিয়া, পৌরসভা, কক্সবাজার।

কক্সবাজার নিউজ সিবিএন’এ প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।

সর্বশেষ সংবাদ

তাহলে কী জাফর-আশেক-কানিজ-বদি পাচ্ছেন নৌকার টিকেট!

ইসলামাবাদে যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় যুবক নিহত

‘নেতানিয়াহু, ট্রাম্প ও বিন সালমান শয়তানের ৩ অক্ষশক্তি’

উখিয়ায় অপহৃত যুবক উদ্ধার, দুই অপহরণকারী আটক

চ্যানেল কর্ণফুলীর কক্সবাজার প্রতিনিধি সেলিম উদ্দীন

‘পারস্পরিক কল্যাণকামিতার মাধ্যমেই সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গঠন সম্ভব’

ধানের শীষে নির্বাচন করবে জামায়াত!

কুতুবদিয়ায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক মহড়া অনুষ্ঠিত

কক্সবাজারে আয়কর মেলা, তিনদিনে ৫৯ লাখ টাকা রাজস্ব আদায়

পোকখালীতে চিংড়ি ঘেরে ডাকাতির চেষ্টা, মালিককে কুপিয়ে জখম

মহেশখালীতে ৩দিন ব্যাপী কঠিন চীবর দানোৎসব শুরু

ইন্টারনেট সুবিধার আওতায় কক্সবাজার প্রেসক্লাব

আওয়ামীলীগ ভাওতাবাজিতে চ্যাম্পিয়ন : ড. কামাল

সত্য বলায় এসকে সিনহাকে জোর করে বিদেশ পাঠানো হয়েছে: মির্জা ফখরুল

সাতকানিয়ায় মাদকসহ আটক ২

কক্সবাজারে হোটেল থেকে বন্দী ঢাকার তরুণী উদ্ধার

৩০০ আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত ইসলামী আন্দোলনের

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে খেলনা বেলুনের সিলিন্ডার বিস্ফোরণে আহত ৯

চকরিয়া আসছেন পুলিশের আইজি, উদ্বোধন করবেন থানার নতুন ভবন

না ফেরার দেশে গর্জনিয়ার জমিদার পরিবারের দুই মহিয়সী নারী