ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে লাগা আগুন নেভানোর পর সকাল বেলা উদ্ধার কাজের তৎপরতা চলছিল। তখন সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হওয়া মনিহারী পট্টির একটি দোকানে অক্ষত অবস্থায় পাওয়া গেছে পবিত্র মহাগ্রন্থ আল কোরআন।

অগ্নিকান্ডের লেলিহান শিখা পোড়াতে পারেনি মহাপবিত্র গ্রন্থ আল কোরআন। ভস্মিভূত ছাইয়ের স্তূপ সরানোর সময় সম্পূর্ণ অক্ষত অবস্থায় এ পবিত্র গ্রন্থটি উদ্ধার করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগুনের তাপে কোরআন শরীফের সাদা অংশ কিছুটা কালচে দাগ হয়েছে; তবে লেখার কোনো ক্ষতি হয়নি। আল্লাহর অশেষ মেহেরবানীতে পবিত্র এ গ্রন্থটি রক্ষা পেয়েছে। অক্ষত পাওয়া পবিত্র কোরআন শরীফটি একনজর দেখতে সাধারণ মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় জমায়।

এসময় কয়েকজন সাথে কথা হলে তারা বলেন, মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ তায়ালা পবিত্র আল কোরআন স্বয়ং নিরাপদে রাখেন সেটারই প্রমাণ পাওয়া গেলো। এই অলৌকিক ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বেশ আলোচিত হয়েছে। অনেকে ছবিটিকে ফেসবুক পেইজে এবং ছবি তুলে সংরক্ষণ করেছেন।

ভোলা শহরে স্মরণকালের সবচেয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মনিহারীপট্টি, চকবাজার, খালপাড় রোড, ঘোষপট্টিতে আগুনের লেলিহান শিখায় পুড়ে ছাই হয়ে গেলো শত পরিবারের শেষ সম্বলটুকু।

কিছুক্ষণ আগেও যেখানে ছিল হাসি, এখন সেখানে সর্বস্ব হারিয়ে ব্যবসায়ী পরিবারের নিরব আহাজারি। এসব ঘটনাস্থলে মাঝে মাঝে কিছু অলৌকিক ঘটনা ঘটে যায়। ২৮ গভীর রাতে এই ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে সব পুড়ে কয়লা হয়ে গেলেও রহমতের আলো ছড়াচ্ছে আল্লাহ পাকের পবিত্র কোরআন।

আল্লাহ তায়ালার কোরআন এর নিরাপত্তারক্ষী আল্লাহ নিজেই। এ ঘটনাই তার উজ্জল দৃষ্টান্ত। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বেশ আলোচিত হয়েছে।

জানা যায়, শনিবার রাত পৌনে ১টার দিকে স্থানীয় কিছু লোকজন ভোলা শহরের মনিহারী পট্টির একটি দোকানের সামনের অংশ ধোঁয়া উড়তে দেখে তাৎক্ষণিক ভোলা থানায় খবর দেয়।

থানা কর্তৃপক্ষ সদরের ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিলে দুটি ইউনিট এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে চেষ্টা চালায়। আগুনের লেলিহান শিখা দ্রুত চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।

খবর পেয়ে দৌলতখান, বোরহানউদ্দিন, তজুমদ্দিন, লালমোহন ও চরফ্যাশনের আরো ৬টি ইউনিয়ন আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালায়।

তাদের সাথে ভোলা জেলা পুলিশ সুপার মোঃ মোকতার হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশ বাহিনী, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, সাধারণ জনগণ আগুন নেভানোর জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালায়।

ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, সাধারণ জনগণের প্রায় ৪ ঘন্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। ততক্ষণে মুদি, স্টেশনারী, তেল, রং, মনিহারী, কারখানা, আড়ৎসহ শতাধিক দোকানঘর সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

অর্ধশতাধিক দোকানঘর আংশিক পুড়ে যায়। এতে প্রায় শত কোটি টাকা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছে।

  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •