চা বিক্রেতা থেকে ৩৩৯ কোটি রুপির মালিক

সিবিএন ডেস্ক:
মাত্র ১১ বছর বয়সে বেঙ্গালুরু শহরে ঢোকেন অনিল। দিনে বিভিন্ন জায়গায় ঘোরাঘুরির পর রাতে দোকানপাট বন্ধ হলে তার সামনে খোলা আকাশের নিচে ঘুমাতেন। একপর্যায়ে আম বিক্রি করেছেন। পরে চা বিক্রি করতেন। চা বিক্রেতা থেকে তিনি এখন ৩৩৯ কোটি রুপির মালিক। এখন ইচ্ছা এমএলএ হওয়ার। সে ইচ্ছাতেই মনোনয়নপত্রও তুলেছেন তিনি।

তিনি পি অনিল কুমার (৪৩)। ভারতের কর্ণাটক রাজ্যে তাঁর বাড়ি। এখন বড় মাপের রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী তিনি।

অনিল কুমার কর্ণাটক বিধানসভায় নির্বাচন করার জন্য মনোনয়নপত্র তুলেছেন বোমমানাহল্লি আসন থেকে। আগামী ১২ মে অনুষ্ঠেয় এ নির্বাচনে তিনি ওই আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী। নির্বাচনী হলফনামায় নিজের সম্পদের পরিমাণ উল্লেখ করেছেন ৩৩৯ কোটি রুপি। পাশাপাশি তাঁর গাড়ির সংখ্যা ১৬ বলে উল্লেখ করেন। এর মধ্যে কয়েকটি আছে বিদেশ থেকে আমদানি করা।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, অনিল কুমারের মূল বাড়ি ভারতের কেরালা রাজ্যে। অল্প বয়সে বাবাকে হারিয়ে তিনি চরম দুর্দশায় পড়েন। তিন সন্তানের মুখে খাবার তুলে দিতে তাঁর মা গৃহকর্মীর কাজ করেছেন। স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে অনিল কুমার বলেন, ‘আমার মা মানুষের বাড়িতে থালা-বাসন ধুয়েছেন। মেঝে মুছতেন। এর বিনিময়ে তিনি কিছু খাবার পেতেন। কিন্তু তিনি আমাদের না খাইয়ে নিজে খেতেন না।’ এনডিটিভির খবরে বলা হয়—অনিল এ স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন।

দারিদ্র্যের কারণে অনিল কুমার তৃতীয় শ্রেণির বেশি পড়তে পারেননি। উপার্জনের উদ্দেশে ১৯৮৫ সালে মাত্র ১১ বছর বয়সে তিনি কর্ণাটকের রাজধানী বেঙ্গালুরুর উদ্দেশে বাড়ি ছাড়েন। অনিল কুমার বলেন, বেঙ্গালুরু ছিল তাঁর কাছে একদম নতুন শহর। সেখানে তিনি রাতে দোকান বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর সামনের খোলা রাস্তায় ঘুমাতেন। একপর্যায়ে এক ব্যক্তি তাঁকে দোকানে কাজ দেন। তাঁর কাজ ছিল এক স্থান থেকে অন্য স্থানে কার্টনভর্তি আম পৌঁছে দেওয়া।

অনিল বলেন, অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি আমের কাজটি ছেড়ে দেন এবং একটি ছোট্ট কোম্পানিতে চা বিক্রি শুরু করলেন। ১৯৯০ সালে তিনি একটি আইটি ফার্মে চা বিক্রি করেন। ওই ফার্মের আওতায় বড় একটি শোরুমও ছিল। অনিল বলেন, সেখানে তিনি প্রচুর চা বিক্রি করতে পারতেন। কারণ সেখানে অনেক লোকের সমাগম হতো। তিনি উপার্জিত অর্থের একটা অংশ সঞ্চয় করতে থাকেন।

অনিল বলেন, ভাগ্যের চাকা চূড়ান্তরূপে ঘুরতে থাকে তাঁর বিয়ের পর। বিয়ের পর এই দম্পতি বাড়ি করার জন্য একখণ্ড জমি কেনেন। কিন্তু জমি কেনার পরপরই কিছু লোক তাঁর জমিটি কেনা দামের দ্বিগুণ দামে কিনতে চায়। তিনি তা-ই করেন। জমিটি তাদের কাছে দ্বিগুণ লাভে বিক্রি করে দেন। অনিল কুমার বলেন, ‘এটিই আমাকে রিয়েল এস্টেট ব্যবসার জগতের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়। এরপর থেকে (নব্বই দশকের শেষের দিকে) আমি একের পর এক জমি কেনাবেচা করতে লাগলাম। এই রিয়েল এস্টেটের ব্যবসায়ই আমাকে ছয় বছরের মাথায় কোটিপতি করে।’

অনিল আট বছর আগে বোমমানাহল্লিতে এম জে ইনফ্রাস্ট্রাকচার নামের একটি কোম্পানি খোলেন। অনিল কুমার নিজের উপার্জিত অর্থের একটি অংশ মানবকল্যাণে ব্যয়ের পাশাপাশি গির্জা ও মন্দির স্থাপনার মতো কাজে খরচ করছেন বলে জানান।

অনিল যে আসনটিতে নির্বাচন করতে যাচ্ছেন, তা ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) প্রার্থী জি সতীশ রেড্ডির দখলে। তবে নির্বাচনে জয়ী হবেন বলে আত্মবিশ্বাসী অনিল।
খাইর/সিবিএন

কক্সবাজার নিউজ সিবিএন’এ প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।

সর্বশেষ সংবাদ

নবনির্বাচিত কক্সবাজার প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দকে টুয়াকের শুভেচ্ছা

বিএনপি নেত্রী নিপুন রায় ও বেবী নাজনীন আটক

চবিতে ফক্সি পরীক্ষায় ভর্তি, মহেশখালীর শিক্ষার্থী আটক

শেরপুরে সম্মাননা পেলো কক্সবাজারস ব্লাড ডোনার সোসাইটি

পরীক্ষা শেষ, রেজাল্ট দেখে যেতে পারেনি মিশুক

কক্সবাজার সৈকতের বালিয়াড়িতে দিবারাত্রির বীচ-কাবাডি শুরু

শাহজাহান চৌধুরীর দলীয় মনোনয়নপত্র জমা

খাশোগি হত্যায় ৫ জনের মৃত্যুদণ্ড চায় সৌদি আরব

সূর্য, তারা, গামছা ছেড়ে ধানের শীষে আস্থা

আবু বকরসহ মহেশখালীর ৩ নেতা ঢাকায় গ্রেফতার

মুখ খুললেন বিএনপির ‘সংস্কারপন্থি নেতা’ ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ সহিদুজ্জামান

কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সভাপতি মাহবুবর রহমান সম্পাদক আবু তাহের চৌধুরী

বালুখালির লাকড়ি বেপারি সরওয়ার রাতারাতি কোটিপতি!

রোহিঙ্গাদের বিক্ষোভে আটকে গেলো প্রত্যাবাসন

Our AIM Foundation Medical & Humanitarian Mission Trip

জামিন পেলেন শহিদুল আলম

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় মৃত্যু ঝুঁকিতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

কক্সবাজার-৩ আসনে আ’লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী নাজনীন সরওয়ার কাবেরী

নয়া পল্টনে বিএনপির নাশকতা জাতির জন্য অশনি সংকেত: মেয়র নাছির

সুষ্ঠু নির্বাচন বনাম অসুস্থ মনোনয়ন!