বাশার আল-আসাদ কেন এখনও সিরিয়ার ক্ষমতায়?

বিদেশ ডেস্ক:
 সাত বছর ধরে চলা গৃহযুদ্ধ আর পদত্যাগে ক্রমাগত আন্তর্জাতিক চাপ থাকার পরও ক্ষমতা আঁকড়ে আছেন সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ। শনিবার (১৪ এপ্রিল) সরকারি স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্রদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলাটি গোটা সিরিয়াকে নিজের নিয়ন্ত্রনে আনতে আসাদের প্রচেষ্টায় আঘাত বলে মনে করা হচ্ছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক চাপ উপেক্ষা করে কিভাবে আসাদ এতোদিন ধরে ক্ষমতায় টিকে আছেন সেটার কয়েকটি কারণ খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হয়েছে।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, আসাদ সরকারের কর্তৃত্ববাদী শাসনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেমে বিদ্রোহীরা শুরুর দিকের বছরগুলোতে বিপুল সাফল্য অর্জন করেছিল। ক্ষমতাচ্যুত আরব নেতাদের তালিকায় আসাদও যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে বিদ্রোহীরা পিছু হটছে। সিরিয়ার রাজধানী দামেস্ক ও উত্তরাঞ্চলীয় শহর আলেপ্পোতে নিজেদের শক্ত ঘাঁটি বলে বিবেচিত এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে বিদ্রোহীরা।

বিদেশি সমর্থন

২০১২ সালের গ্রীষ্মের কথা। বিদ্রোহীদের মধ্যে উত্তেজনা তখন তুঙ্গে। মধ্যাঞ্চলীয় দামেস্কতে এক বোমা বিস্ফোরণে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও আসাদের শ্যালক আসেফ শওকতসহ জ্যেষ্ঠ সিরীয় কর্মকর্তারা নিহত হন। বিদ্রোহীদের ধারণা ছিল, বিজয় সন্নিকটে। ফ্রি সিরিয়ান আর্মির কমান্ডার বাশার আল জৌবি তখন আল জাজিরাকে বলেন, ‘সিরীয় সেনাবাহিনীর কেবল ধসে যাওয়াই বাকি আছে।’

সিরিয়ায় রুশ বিমান ঘাঁটি পরিদর্শন করছেন আসাদএ সময়ে আসাদের মিত্র দেশ ইরান সিরিয়ায় হস্তক্ষেপ জোরালো করে। সিরীয় সেনাদের প্রশিক্ষণ, অভিজ্ঞ কমান্ডার পাঠানো এবং শিয়া মিলিশিয়াদের পদাতিক সেনা পাঠানো হয়। ইরানি সংবাদমাধ্যমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সিরীয় সরকারকে লাখো যোদ্ধা দিয়েছে তেহরান। ইরান-প্রশিক্ষিত ন্যাশনাল ডিফেন্স ফোর্সেস মিলিশিয়ায় ৯০ হাজার যোদ্ধা ছিল। তারা যুদ্ধের স্রোতধারাকে পাল্টে দিয়েছিল। ইরানের জন্য আসাদ এক গুরুত্বপূর্ণ মিত্র। আঞ্চলিক স্বার্থের সুরক্ষার ক্ষেত্রেও তা জরুরি। ইরান যখন সিরিয়া সরকারকে ক্রমাগত স্থল অভিযানে সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে তখন আকাশপথে সহায়তা নিয়ে হাজির হয় রাশিয়া। ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে মস্কো সিরীয় বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে বিমান হামলা শুরু করে। তাদের অভিযানে সিরিয়ার বিদ্রোহীরা ক্রমাগত তাদের শক্ত ঘাঁটি আলেপ্পো ও পূর্ব ঘৌটা ছাড়তে বাধ্য হয়।

.

শিয়া মিলিশিয়াদের পদাতিক সেনা হিসেবে পাঠায় ইরানবিদ্রোহীদের বিভক্তি

বিদ্রোহীদের নিজেদের মধ্যে বিভক্তি থাকায় আসাদ সরকার লাভবান হয়েছিল। বিদ্রোহী গোষ্ঠী ফ্রি সিরিয়ান আর্মি কয়েকটি প্রতিদ্বন্দ্বী অংশে বিভক্ত হয়ে পড়ে। কট্টনপন্থী গোষ্ঠীগুলো সরকারবিরোধী আন্দোলন শুরু করে।

বিরোধী দলগুলো শুরুতে আইএসকে সমর্থন দিলেও দ্রুতই তারা ভুল বুঝতে পারে। বিদ্রোহীরা বুঝতে পারে এ সংগঠনটি তাদের বিরুদ্ধেই লড়ছে, সম্পদ হরণ করছে এবং আসাদবিরোধী প্রচারণা রুখে দিচ্ছে। রাক্কার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত মহরগুলোতে আইএস জিতে যায় এবং সরকারবিরোধীদেরকে দেশের একটি বিশাল অংশ থেকে বিতাড়িত করে।

 

হোমসে সিরীয় সেনাদের সঙ্গে আসাদবিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো আইএস-এর কাছ থেকে কিছু এলাকার পুনঃনিয়ন্ত্রণ নেয়। কুর্দি যোদ্ধা এবং সরকারি বাহিনীর কাছ থেকে সাবেক বিদ্রোহী এলাকারও পুনঃনিয়ন্ত্রণ নেওয়া হয়।

বিদ্রোহীদের জন্য আইএসই একমাত্র কাঁটা ছিল না। বর্তমানে বেশ কয়েকটি বিদ্রোহী অংশ আছে। এরা আঞ্চলিক সংহতি, জাতিগত পরিচয়, রাজনৈতিক অবস্থান এবং ধর্মীয় সংহতির প্রশ্নে বিভক্ত।

আন্তর্জাতিক অবস্থান

পশ্চিমা, তুরস্ক ও সৌদি আরবের মতো আঞ্চলিক ক্ষমতাশক্তির দেশগুলো আসাদের বিরোধিতায় সরব হয়ে উঠলেও তাদের কেউই সিরীয় নেতা আসাদকে উৎখাত করার জন্য চূড়ান্ত কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। বিদ্রোহীদের আবেদনের পরও যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়ায় সামরিক অভিযান চালানো থেকে বিরত ছিল। অথচ লিবিয়ায় দেশটি সামরিক অভিযান চালিয়েছিল এবং এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফিকে উৎখাত করে।

 

বিদ্রোহীদের হাতে অস্ত্র পৌঁছালেও বিরোধী নেতাদের দাবি সিরিয়ার সরকারের বিমান হামলা ঠেকাতে এসব অস্ত্র পর্যাপ্ত নয়।

সরবরাহকৃত অস্ত্র আইএস-এর মতো গোষ্ঠীগুলোর হাতে চলে যাওয়া এবং পরবর্তীতে তা পশ্চিমা স্বার্থের বিরুদ্ধে ব্যবহার হওয়ার আশঙ্কায় এক সময় তা থেকে বিরত থাকে অস্ত্র সরবরাহ থেকে বিরত ছিল যুক্তরাষ্ট্র। যুদ্ধ যখন চলছিল, তখন আসাদকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়াকে গুরুত্ব দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র। ২০১৭ সালের মার্চে জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন দূত নিকি হ্যালি বলেন, আসাদ থেকে মুক্তি পাওয়াটা এখন আর মার্কিন নীতির মুখ্য লক্ষ্য নয়। দুই মাস পর ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন বলেন, শান্তিচুক্তির অংশ হিসেবে আসাদ ক্ষমতায় থেকে যেতে পারেন।

সিরীয় জনগণের মধ্যে রয়েছে আসাদের জনপ্রিয়তাঅভ্যন্তরীণ সমর্থন

ব্যাপক বিরোধিতার পরও আসাদ সিরিয়ায় উল্লেখযোগ্য মাত্রার সমর্থন ধরে রেখেছেন। নিজস্ব আলাউয়িতে সম্প্রদায়ের মানুষের বিপুল সমর্থন রয়েছে আসাদের প্রতি। সুন্নি সম্প্রদায়ের মানুষরাও তাকে সমর্থন দিয়ে থাকেন। কারণ আসাদের শাসনামলে সুন্নিরা আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন।

সর্বশেষ সংবাদ

মৃত্যুর ৩২ বছর পর কবর থেকে বেরিয়ে এলো অক্ষত লাশ

লাইট হাউজে কাউন্সিলর প্রার্থী দানু’র কর্মীর উপর হামলা, প্রতিবাদ সভা

চকরিয়ায় স্ত্রীকে নির্যাতনের মামলায় স্বামী গ্রেফতার

চকরিয়ায় বিএমচর চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর জামিনে মুক্ত

১২নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী বাবুর বিরুদ্ধে অপপ্রচারে প্রতিবাদ সভা

পিতার নির্বাচনী প্রতিপক্ষদের ইন্দনে ইয়াবা মামলায় জড়ানো হয়েছে

চকরিয়ার প্রধান শিক্ষক ৩০ হাজার ইয়াবাসহ চট্টগ্রামে গ্রেপ্তার

পেকুয়ায় শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ী খোকা আটক

শহরজুড়ে নারিকেল গাছ মার্কার সমর্থনে শ্রমিক-জনতার গণসংযোগ

বরেণ্য রাজনীতিবিদ শাহজাহান চৌধুরীর জন্মদিন পালন

মা-বাবার স্বপ্নের মৃত্যু, চলছে শোকের মাতম

৬৬ বছর পর নখ কাটলেন শ্রীধর!

জাসদ (আম্বিয়া-বাদল) কক্সবাজার জেলা শাখার শোক

ঈদগাঁওতে অন্ধ স্কুলে নৈশপ্রহরীর ইটের আঘাতে শিক্ষার্থী আহত

সম্প্রীতির শহর গড়তে নৌকায় ভোট দিন- এনামুল হক শামীম

পেকুয়ায় আনন্দ স্কুলের দেড় হাজার শিক্ষার্থীর শিক্ষা উপকরণের টাকা লুটপাট!

সমৃদ্ধ শহর গড়তে ধানের শীষকে বিজয়ী করুন- রফিকুল ইসলাম

‘ফ্রান্সকে বিশ্বকাপ জিতিয়েছে আফ্রিকান আর মুসলিমরা’

বিশ্বজয়ীদের বরণ করে নিচ্ছে ফ্রান্স

স্বামী-স্ত্রীর মনোমালিন্য দূর করার সহজ আমল