সাতকানিয়ায় চুলার আগুনে পুড়ল ২৪ বসতঘর ও গবাদি পশু, ক্ষয়ক্ষতি ১ কোটি টাকা

মোঃ নাজিম উদ্দিন, দক্ষিণ চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:

দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় এক ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে ২৪টি বসতঘর পুড়ে ছাই হয়েছে। এতে অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা গেছে গৃহপালিত ২টি গবাদি পশু। ১৪ এপ্রিল শনিবার দিবাগত রাত ১টার সময় উপজেলার নলুয়া ইউনিয়নের পূর্ব গাটিয়াডাঙ্গা বিল্লা পাড়া সৈয়দ চকিদারের বাড়ি এলাকায় এ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গভীর রাতে রান্না ঘরের চুলা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে মুহুর্তের মধ্যে টিনের চালা বেড়ার ঘরগুলি পুড়ে ছাই হয়ে যায়। শত চেষ্টা করেও এলাকাবাসীর পক্ষে বসতঘরগুলি রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দা মো. আবু তাহের জানান, বসতঘরগুলি টিন ও বাঁশের বেড়ায় নির্মিত হওয়ার কারনে উপর-নীচ এবং চতুর্দিক হতে আগুনের লেলিহান শিখা বের হওয়ার ফলে কেউ কাছে যেতে পারেনি। কোন রান্না ঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত সে বিষয়ে কেউ কিছু বলতে না পারলেও অনেকে ধারনা করছেন মোস্তাক ও ইদ্রিসের বসতঘরের দিক হতে আগুন উঠতে দেখা গেছে, সে কারনে এ দু’জনের মধ্যে যে কোন একজনের রান্না ঘরের চুলা থেকে আগুনের সূত্রপাত।

ক্ষতিগ্রস্ত আবদুল হাফেজ জানান, রাতে অগ্নিকান্ডের কারনে কেউ কিছু বের করতে পারেনি, পড়নের কাপড়ে প্রাণ নিয়ে বেরিয়ে পড়ি এমনকি গোয়ালের গরুটি পর্যন্ত বের করার সুযোগ হয়নি। যার কারনে আমার ১টি ৫০ হাজার টাকা দামের ষাড় এবং আবদুল মান্নানের ১টি বাচুর পুড়ে মারা গেছে। এ সময় আগুন নেভাতে গিয়ে মো. মোরশেদসহ ৩ জন আহত হন।

অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত হলেন, আবদুর রহিম, আবদুল হাফেজ, আবদুল মান্নান, মোস্তাক আহমদ, ছগির আহমদ, মোহাম্মদ হানিফ, মো. ইসমাইল, মো. মিজানুর রহমান, সিরাজুল ইসলাম, মোহাম্মদ ইদ্রিস, জসিম উদ্দিন, আবদুর রহিম,মো. সরওয়ার হোসেন, মো. মোরশেদ আলম, মোহাম্মদ মামুন, আবদুল আলম, মোহাম্মদ সাইমুন, নাজিম উদ্দিন, হারুন অর রশিদ, নজির হোসেন, বদি আলম, হাসনত আরা বেগম, আবদুল আলম ও নুরুল ইসলাম প্রকাশ নুরু সওদাগর।

ক্ষতিগ্রস্ত ও স্থানীয়রা জানান, নগদ অর্থ, স্বর্নালঙ্কার, ইলেকট্রনিক্স মালামাল, আসবাব পত্র ও মূল্যবান কাপড় চোপড়সহ সব মিলিয়ে আনুমানিক প্রায় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

খবর পেয়ে সাতকানিয়া ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছলেও তার আগেই সব কিছু পুড়ে শেষ হয়ে যায়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আবু সালেহ বলেন, আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা প্রস্তুত করেছি, তা ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলায় নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট প্রেরন করা হবে।

সাতকানিয়া রাস্তার মাথা ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. ইদ্রিচ জানান, চুলার আগুন থেকে অগ্নিকান্ডের সূত্রপাত হয়েছে। বৈদ্যুতিক সঞ্চালন লাইনে আগুন ধরে যাওয়ার কারনে কেউ কাছে যেতে পারেনি। আগুন লাগার ১ ঘন্টা পরে আমাদের কাছে খবর আসে। ফায়ার সার্ভিসের লোকজন যাওয়ার পর কোন রকমে আগুন নেভাতে সক্ষম হই। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমান এখনো নির্ধারন করতে পারিনি পরবর্তীতে তদন্ত সাপেক্ষে নির্ধারন করা হবে।

সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোবারক হোসেন বলেন, নলুয়ায় অগ্নিকান্ডে বেশ কিছু বাড়ি পুড়েছে। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে তালিকা করার জন্য বলে দিয়েছি। তালিকা পেলে ডিসি স্যারকে জানানো হবে।