প্রধানমন্ত্রীর অভিমান মানায় না

প্রভাষ আমিন :
আন্দোলনকারীরা বাতিল চায়নি, সংস্কার চেয়েছিল। তারা কামান চেয়েছিল, কিন্তু পেয়ে গেছে ট্যাংক। সেই ট্যাংক দেখে তারা এখন ভয় পাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর দান নেওয়ার সাহস তারা পাচ্ছে না। প্রধানমন্ত্রী যে খুব আনন্দের সঙ্গে কোটা বাতিলের ঘোষণা দিয়েছেন, তা নয়। কোটা সংস্কারের মূল দাবি ছিল, কোটার জন্য যেন পদ শূন্য রাখা না হয়। সরকার অনেক আগেই এ দাবি মেনে নিয়েছে। ৩৩তম বিসিএস-এ সাধারণ তালিকা থেকে নিয়োগ পেয়েছিল প্রায় ৭৮ ভাগ। কোটার জন্য কোনও পদ আটকে থাকবে না—এই সিদ্ধান্তের পর আন্দোলনকারীরা আর কী সংস্কার চাচ্ছিল, আমার মাথায় ঢোকেনি। ভুল বুঝিয়ে তরুণ প্রজন্মকে মাঠে নামানো হয়েছিল। না বুঝে তারা কোটা ১০ শতাংশে নামিয়ে আনার আন্দোলন করছিল। ৫৫ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনার দাবি আসলে বাতিলের মতোই। প্রধানমন্ত্রী ঠিকই করেছেন।
তবে এটা ঠিক রবিবার রাতে পুলিশ আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা করে পরিস্থিতিতে জটিল করে তোলে। কিন্তু মধ্যরাতে ভিসির বাসায় তাণ্ডব চালিয়ে আন্দোলনকারীদের একটি অংশ বুঝিয়ে দেয়, তাদের লক্ষ্য কোটা সংস্কার নয়, অন্যকিছু। ছড়ানো হয় মৃত্যুর গুজব। প্রধানমন্ত্রী পেছন থেকে কলকাঠি নাড়া, ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চাওয়া অংশের বাড়া ভাতে ছাই ঢেলে দিয়েছেন।

সোমবার সকালে মন্ত্রিসভার বৈঠকে কোটা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী দাবি-দাওয়া পরীক্ষা-নিরীক্ষার নির্দেশ দিয়েছিলেন। বিকালে আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। সে বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে ৭ মে পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত থাকবে। এই সময়ের মধ্যে সরকার পুরো বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখবে। প্রতিনিধি দল আন্দোলন ৭ মে পর্যন্ত স্থগিত করার ঘোষণাও করে আসে। কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীরা প্রতিনিধি দলের সিদ্ধান্ত মানছিলেন না। তারা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে। আন্দোলন আরও ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে আসেন। অচল হয়ে যায় ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা। সুনির্দিষ্ট তারিখ দিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার ঘোষণার পরও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কোনও যৌক্তিকতা ছিল না। এরপর চিলের পেছনেই যেন দৌড়াচ্ছিলেন আন্দোলনকারীরা।

একমাস সময়ের ঘোষণায়ও সন্তুষ্ট না হওয়ার পর আসলে প্রধানমন্ত্রীর এ ধরনের ঘোষণা ছাড়া আর কিছু করার ছিল না। কোটা বাতিল ছাড়া তাৎক্ষণিক আর কী সিদ্ধান্ত হতে পারতো?

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পুরোটা জুড়েই ছিল অভিমান। দ্রুত পরীক্ষা-নিরীক্ষার সিদ্ধান্তের পরও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ায় এ অভিমান। তার ওপর আস্থা না রাখার অভিমান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসায় তাণ্ডব চালানোর অভিমান। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রে অভিমান। কিন্তু আমি মনে করি, দেশের প্রধান নির্বাহীর কণ্ঠে এ ধরনের অভিমান মানায় না। বিভ্রান্ত তারুণ্যের দাবির মুখে এ ধরনের সিদ্ধান্ত বঞ্চিত করবে অনগ্রসর জনগোষ্ঠীকে।

লেখক: হেড অব নিউজ, এটিএন নিউজ

কক্সবাজার নিউজ সিবিএন’এ প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।

সর্বশেষ সংবাদ

আবদুর রহমান বদি কি নির্বাচন করতে পারবেন ?

পুলিশের আইজি এখন কক্সবাজারে

খরুলিয়ায় পিক-আপ সিএনজি ও বাসের ত্রিমুখী সংঘর্ষ

টেকনাফে কথিত বন্দুকযুদ্ধে একজন নিহত

দেশে ১৬৬৬ জন মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত কয়েদীর ফাঁসি হাইকোর্টে অনুমোদনের অপেক্ষায়

বিএনপি’র মনোনয়ন প্রার্থীদের সাক্ষাতকার আজ রোববার থেকে শুরু

দুবাইয়ে সেরা গীতিকারের সম্মাননা পেলেন নাটোরের মেয়ে সোহানী

আজ চকরিয়া আসছে আইজিপি ড. জাবেদ পাটোয়ারী

পেকুয়ায় বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে প্রেমিকার অনশন!

তাহলে কী জাফর-আশেক-কানিজ-বদি পাচ্ছেন নৌকার টিকেট!

ইসলামাবাদে যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় যুবক নিহত

‘নেতানিয়াহু, ট্রাম্প ও বিন সালমান শয়তানের ৩ অক্ষশক্তি’

উখিয়ায় অপহৃত যুবক উদ্ধার, দুই অপহরণকারী আটক

চ্যানেল কর্ণফুলীর কক্সবাজার প্রতিনিধি সেলিম উদ্দীন

‘পারস্পরিক কল্যাণকামিতার মাধ্যমেই সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গঠন সম্ভব’

ধানের শীষে নির্বাচন করবে জামায়াত!

কুতুবদিয়ায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক মহড়া অনুষ্ঠিত

কক্সবাজারে আয়কর মেলা, তিনদিনে ৫৯ লাখ টাকা রাজস্ব আদায়

পোকখালীতে চিংড়ি ঘেরে ডাকাতির চেষ্টা, মালিককে কুপিয়ে জখম

মহেশখালীতে ৩দিন ব্যাপী কঠিন চীবর দানোৎসব শুরু