cbn  

আহমদ গিয়াস:
উখিয়ার কুতুপালং বাজারের আশেপাশেই বাস করছে মিয়ানমার থেকে বাস্তচ্যুত রোহিঙ্গাদের অধিকাংশ জনগোষ্ঠী। আর এই অসচেতন জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য বানিয়েই এ বাজারে দেদারছে চালানো হচ্ছে মেয়াদোত্তীর্ণ ও অত্যন্ত নি¤œমানের খাদ্যপণ্য। বলতে গেলে বাজারটি এখন অস্বাস্থ্যকর ও অত্যন্ত নি¤œমানের খাদ্যপণ্যের ‘ডাম্প স্টেশন’। গত কয়েকদিন ধরে বাজারের বিভিন্ন দোকানে ঘুরে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

বিগত ৯১ সালে রোহিঙ্গা ঢলের সময় কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের পাশে গড়ে ওঠে বাজারটি। ওই সময় থেকে এখানে রেজিস্টার্ড রোহিঙ্গাদের একটি ক্যাম্প গড়ে ওঠেছে। বর্তমানে এই ক্যাম্পকে কেন্দ্র করে বসবাস করছে মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের অধিকাংশ জনগোষ্ঠী। বর্তমানে প্রায় ছয় লাখ জনগোষ্ঠীর এই বাজারটিতে প্রতিদিন বিভিন্ন সাহায্য সংস্থার প্রতিনিধি ও সরকারি- বেসরকারি চাকরীজীবীসহ শত শত মানুষ আসা যাওয়া করেন। ফলে উখিয়া-টেকনাফের সবচেয়ে জমজমাট ও জনবহুল স্টেশন হয়ে ওঠেছে কুতুপালং। কিন্তু এই বাজারের ক্রেতাদের অধিকাংশই রোহিঙ্গা ও অশিক্ষিত লোকজন হওয়ায় তারা অসাধু ব্যবসায়ীদের হাতে প্রায় ঠকছে।

কুতুপালং এলাকার বাসিন্দা ডা. জাকির হোসেন (এমবিবিএস) বলেন, কুতুপালং বাজার থেকে মেয়াদযুক্ত পাউরুটি, কেকসহ অন্যান্য খাদ্যদ্রব্য পাওয়া খুব দুষ্কর। নিজে দেখেশুনে না কিনলে ঠকতে হয়। প্রায় দোকানে বিক্রি হয় মেয়াদোত্তীর্ণ ও অত্যন্ত নি¤œমানের খাদ্যপণ্য। বেশিরভাগ দোকানে মেয়াদযুক্ত খাদ্যপণ্য পাওয়া যায় না।
একই কথা জানান গতকাল কুতুপালং ঘুরতে আসা শিল্পী নূর-ই আকবর চৌধুরী।

গতকাল মঙ্গলবার কুতুপালং স্টেশন সংলগ্ন বাজারের বেশ কয়েকটি দোকানে পাউরুটি ও কেক খুঁজতে গিয়ে দেখা যায়, দশটি দোকান ঘুরে মাত্র একটিতেই মিলে মেয়াদযুক্ত মাত্র এক প্যাকেট কেক। বাকী প্যাকেটগুলো মেয়াদোত্তীর্ণ। রোহিঙ্গারা এসব খাদ্যদ্রব্য না বুঝেই কিনছে। আবার বিএসটিআই’র অনুমোদনবিহীন অত্যন্ত নি¤œমানের খাদ্যদ্রব্যও বিক্রি হতে দেখা যায় এই বাজারে। এছাড়া কেমিক্যাল রঙ মিশানো খাদ্যদ্রব্যও এখানে প্রকাশ্যে বিক্রি হতে দেখা গেলেও প্রশাসনের কোন প্রতিক্রিয়া দেখা যায় না।

স্থানীয় অধিবাসীরা অভিযোগ করেন, কুতুপালং স্টেশন সংলগ্ন বাজারের কয়েক শত দোকান গড়ে ওঠেছে সরকারি জায়গায়। আর এসব দোকানগুলোতেও দেদারছে বিক্রি করা হচ্ছে অত্যন্ত নি¤œমানের পণ্য।

এবিষয়ে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসাইনের কাছ থেকে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যপণ্য বিক্রি করা অত্যন্ত গর্হিত ও দন্ডযোগ্য একটি কাজ। খুব শীঘ্রই সেখানে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে অভিযান চালিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •