প্রত্যাবাসন প্রস্তুতির ‘ভেঁপু বাজাচ্ছে’ মিয়ানমার?

বিদেশ ডেস্ক:
রাখাইনের বিভিন্ন গ্রামে সেনাবাহিনী কর্তৃক বুলডোজার চালিয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের আলামত নষ্ট, সামরিক ঘাঁটি নির্মাণসহ বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়ন এবং ‘আদর্শ বৌদ্ধ গ্রাম’ নির্মাণ চলমান থাকা সত্ত্বেও এখনও মিয়ানমার বলে যাচ্ছে, রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় তৎপরতা চলমান রয়েছে। ধাপে ধাপে কী করে রোহিঙ্গাশূন্য রাখাইন নির্মাণের কাজ এগিয়ে চলেছে তা উঠে এসেছে ১৭ মার্চ বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত ধাপে ধাপে যেভাবে নির্মিত হচ্ছে ‘রোহিঙ্গাশূন্য রাখাইন’ শিরোনামের প্রতিবেদনে। মানবাধিকার সংস্থা, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, রোহিঙ্গাদের একাংশকে ফিরিয়ে নিলেও মিয়ানমার তাদের রাখাইনে তাদের স্থায়ী আবাস নিশ্চিত করবে না। নতুন করে নির্মিত আশ্রয়শিবিরগুলোই হবে তাদের চিরস্থায়ী আবাস। তবে মংডু জেলার প্রশাসনিক কর্মকর্তা ইয়ে হটুট সাংবাদিকদের বলেছেন, রোহিঙ্গাদেরকে ওইসব শিবিরে ‘চিরতরে’ থাকতে হবে না। তাদের মূল গ্রাম কিংবা কাছাকাছি এলাকায় পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে দাবি করেন এ কর্মকর্তা। মূল গ্রামের কাছাকাছি নির্মাণাধীন তেমন একটি পুনর্বাসন কেন্দ্র সরেজমিন পরিদর্শনকালে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি দেখেছে, কাজের গতি খুব ধীর। সেখানকার কর্মকর্তারা বলেছেন, এগুলো রোহিঙ্গাদের জন্য বানানো হচ্ছে না। এএফপি মিয়ামার কর্তৃপক্ষের এই ভূমিকাকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন-প্রস্তুতির ‘ভেঁপু বাজানো’ আখ্যা দিয়েছে।

গত বছরের ২৫ আগস্ট রাখাইনের কয়েকটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার পর পূর্ব-পরিকল্পিত ও কাঠামোবদ্ধ সহিংসতা জোরালো করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। হত্যা-ধর্ষণসহ বিভিন্ন ধারার সহিংসতা ও নিপীড়ন থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রায় ৭ লাখ মানুষ। তারা কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নিয়েছে। আন্তর্জাতিক চাপের মুখে পালিয়ে আসা বাংলাদেশ-মিয়ানমার প্রত্যাবাসন চুক্তি সম্পন্ন হলেও তা কার্যকরের বিষয়টি এখনও প্রক্রিয়াধীন। কেবল গত বছর আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত ৭ লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে এলেও এখন পর্যন্ত কেবল ৩৮৮ জনকে ফেরত নেওয়ার প্রক্রিয়া চালু রাখার কথা জানিয়েছে মিয়ানমার। এই অবস্থাতেই গ্রামগুলোতে বুলডোজার চালিয়ে আলামত নষ্ট, বিপুল সামরিকায়ন, উন্নয়ন প্রকল্প চলমান থাকা, প্রত্যাবাসন নিয়ে বৌদ্ধ জনগোষ্ঠীর হুমকির ধারাবাহিকতায় রাখাইনে বৌদ্ধদের মডেল গ্রাম গড়ে উঠছে বলে খবর পাওয়া যায়।

প্রত্যাবাসন প্রস্তুতির অংশ হিসেবে অস্থায়ী ক্যাম্পগুলো তৈরি করার কথা জানিয়েছে মিয়ানমার। এগুলোকে ‘আদর্শ গ্রাম’ বলেও ডাকেন তারা। এসব আদর্শ গ্রামকে স্থায়ী ক্যাম্প হিসেবে আখ্যায়িত করে জাতিসংঘ এ ধরনের পদক্ষেপের সমালোচনা করে আসছে। বহু আগেই অস্থায়ী ট্রানজিট ক্যাম্পকে ‘কনসেনট্রেশন ক্যাম্প’ বলে আখ্যা দিয়েছে আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা) । তবে শনিবার রাখাইনের উত্তরাঞ্চল পরিদর্শনে গিয়ে মংডুর প্রশাসনিক কর্মকর্তা ইয়ে হটুট আবারও সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেছেন, সাময়িকভাবে ট্রানজিট ক্যাম্পে রাখার পর রোহিঙ্গাদেরকে তাদের নিজেদের মূল গ্রামের কাছাকাছি পুনর্বাসিত করা হবে। হটুট বলেন, ‘আমি তাদেরকে ক্যাম্পে চিরতরে থাকতে বলতে পারি না। তাদেরকে সেখানে দীর্ঘদিন রাখার কোনও ইচ্ছে বা পরিকল্পনাও আমাদের নেই। সরকার তাদেরকে নিজ গ্রাম কিংবা গ্রামের নিকটবর্তী জায়গায় পুনর্বাসিত হবে।’

নির্মাণাধীন এমন একটি পুনর্বাসনের এলাকা সরেজমিন পরিদর্শন করে বার্তা সংস্থা এএফপি। মংডু শহর থেকে গাড়ি চালিয়ে দুই ঘণ্টা সময় লাগে ওই এলাকায় পৌঁছাতে। সেখানে গিয়ে এএফপির সাংবাদিক দেখেন, খুব ধীর গতিতে কাজ চলছে। মংডু শহরের প্রশাসক মিন্ত খাইং বলেনস, নতুন এলাকায় প্রায় ১০০ পরিবার থাকতে পারবে এবং দুই মাসের মধ্যে নির্মাণ কাজ শেষ হবে। মূল গ্রামের নিকটবর্তী এলাকাতেই নির্মিত হচ্ছে এসব পুনর্বাসনকেন্দ্র। অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠী ম্রো-দের জন্যও এমন শিবির রয়েছে মিয়ানমারের। তবে সেগুলো মূল গ্রাম থেকে অন্তত ৩০ মিনিট দূরত্বে। এএফপির পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হয়, এক্ষেত্রে কেন মূল গ্রামের নিকটবর্তী এলাকাকে বেছে নেওয়া হলো? জবাবে তিনি দাবি করেন, যেসব জনগোষ্ঠী বাংলাদেশে পালিয়ে যায়নি তাদেরকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।

কারা এইসব পুনর্বাসন কেন্দ্রে থাকবে, এএফপির এই প্রতিবেদন থেকে তা জানা যায়নি। তবে একদিন আগে প্রকাশিত তাদের অপর এক প্রতিবেদনে রোহিঙ্গা-গ্রামগুলোতে ‘আদর্শ বৌদ্ধ গ্রাম’ নির্মাণের কথা উঠে এসেছে। তবে এই ‘আদর্শ বৌদ্ধ গ্রাম’কেই রোহিঙ্গা পুনর্বাসন কেন্দ্র হিসেবে দেখানো হচ্ছে কিনা, তা নিশ্চিত করেনি এএফপি। প্রতিবেদনে বলা হয়, বৌদ্ধদের অর্থায়নে এবং সেনা মদদে বেসরকারি প্রকল্প পরিচালনার মাধ্যমে রোহিঙ্গাশূন্য রাখাইন গড়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হচ্ছে। সিআরআর নামে পরিচিত ‘অ্যান্সিলারি কমিটি ফর দ্যা রিকন্সট্রাকশন অফ রাখাইন ন্যাশনাল টেরিটোরি ইন দ্যা ওয়েস্টার্ন ফ্রন্টিয়ার’ তেমনই এক প্রকল্প। প্রকল্পটি রাখাইন নৃগোষ্ঠীর সদস্যদের টাকায় চলছে। এএফপি বলছে, সেনাবাহিনীর মদদ ছাড়া এমন প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। ওই প্রকল্পের উপদেষ্টাদের একজন রাখাইনের আইনপ্রণেতা উ হ্লা সঅ বলেছেন, সিআরআরের উদ্দেশ্য, রাজ্যের রাজধানী সিতউয়ে থেকে শুরু করে মংডু শহর পর্যন্ত প্রায় ১০০ কিলোমিটার দৈর্ঘের একটি রোহিঙ্গাশূন্য ‘বাফার জোন’ প্রতিষ্ঠা করা। এএফপিকে তিনি বলেছেন, ‘এই পুরো এলাকা রোহিঙ্গাদের প্রভাবাধীন ছিল। সেনাবাহিনীর অভিযানের পর তাদেরকে পালাতে হয়েছে…তাই এই এলাকায় আমরা রাখাইন বসতি স্থাপন করছি।’

জানুয়ারিতে অ্যামনেস্টির সবশেষ গবেষণায় রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বহু গ্রাম জ্বালিয়ে ও বুলডোজারে গুড়িয়ে দেওয়ার আলামত উঠে এসেছিল। ফেব্রুয়ারিতে মিয়ানমার সেনাবাহিনী অর্ধশতাধিক গ্রাম বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছে বলে দাবি করে মার্কিন মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস। বলা হচ্ছিল, রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে পরিচালিত সামরিক বাহিনীর নিধনযজ্ঞ আড়াল করতেই গ্রামগুলোতে বুলডোজার চালানো হচ্ছে। মার্চের শুরুতে নতুন করে অ্যামনেস্টির দেওয়া বিবৃতি থেকে অন্তত ৩টি সামরিক ঘাঁটি ও রাস্তাঘাট নির্মাণ চলমান থাকার কথা জানা যায়। সবশেষ এএফপির প্রতিবেদনে উঠে এসেছে রাখাইন বৌদ্ধদের জন্য ‘আদর্শ বৌদ্ধ গ্রাম’ নির্মাণের কথা।

কক্সবাজার নিউজ সিবিএন’এ প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।

সর্বশেষ সংবাদ

চকরিয়া কোরক বিদ্যাপীঠে আন্ত:ফুটবল টুর্ণামেন্ট উদ্বোধন

উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে হোপ ফাউন্ডেশনের ৪০শয্যার হসপিটাল উদ্বোধন

পৌর কাউন্সিলরসহ ৪ মাদক কারবারির বাড়িতে অভিযান, নারীসহ দুই জনের সাজা

কক্সবাজার সিটি কলেজে পদার্থ বিজ্ঞান ও প্রাণ-রসায়ন অনার্স অধিভুক্তি লাভ

সাবেক এমপি মরহুম এড. খালেকুজ্জামান স্মরণে সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচী

কুতুবদিয়ায় অস্ত্রসহ আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ৩ সদস্য আটক

কক্সবাজারে ‘শেখ হাসিনার উন্নয়নের গল্প’ প্রচারে ছাত্রনেতা ইশতিয়াক

লামায় কারিতাস টেকনিক্যাল ট্রেনিং কোর্সের সনদ বিতরণ

গোলদিঘীর সৌন্দর্য্য বর্ধন, মাস্টার প্ল্যান নিয়ে ৮ ও ৯নং ওয়ার্ডের সাথে কউকের মতবিনিময়

টেকনাফের ইয়াবা রানী ইয়াসমিনসহ দুইজন আটক, মিললো বস্তাভর্তি ৭২ হাজার ইয়াবা

টেকনাফে ২০ হাজার ইয়াবাসহ তিনজন আটক

বালুখালী শরণার্থী ক্যাম্প থেকে রোহিঙ্গা বৃদ্ধ অপহরণ, মুক্তিপণ দাবী

যানজটমুক্ত করতে মাঠে অটোবাইক মালিক চালকরা

বিতর্কিত ডিজিটাল আইন সংবিধান বিরোধী

কাঁদতে কাঁদতে মাঠ ছাড়লেন রোনালদো

ঘামের গন্ধে কাছে আসে যে সাপ

মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব ফের গ্রেফতার

সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কবার্তা

এক নিয়োগ আবেদনে ৪০ কোটিরও বেশি আয়

আলোচনায় বসতে মোদিকে ইমরানের চিঠি