বিয়ের প্রলোভনে স্কুল ছাত্রীকে ৮ মাস ধরে ধর্ষণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিয়ের প্রলোভনে উখিয়ার পালংখালী উচ্চবিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেনীর এক ছাত্রীকে দীর্ঘ ৮ মাস ধরে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্কুল ছাত্রী মৃত সন্তান গর্ভপাতের খবরে পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যকর অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত ফরিদ আলম (৩৮) টেকনাফের হোয়াইক্যং কোনারপাড়ার মৃত আবদু শুক্কুরের ছেলে। তার বিরুদ্ধে ভিকটিম স্কুল ছাত্রী গত ৮ মার্চ কক্সবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেছে। সিপি মামলা নং-৩৪৩/২০১৮।  মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্ত করছে।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ভিকটিমের ভাই রুস্তম আলী অভিযুক্ত ফরিদ আলমের ট্রাক গাড়ীর হেলপার ছিল। সেই সুবাদে তাদের বাড়ীতে ফরিদ আলম নিয়মিত আসা যাওয়া করত। সুযোগ কাজে লাগিয়ে গত বছরের ৮ জুলাই স্কুল ছাত্রীকে বিয়ের প্রস্তাবে ইনানী এলাকায় ফরিদের  মালিকানাধীন কটেজে রাখে। সেখান থেকে তিনদিন পরে টেকনাফের শামলাপুরে একটি ভাড়া বাসায় তুলে। এ সময় রিক্সা চালক আবু শামার সরল মেয়েটিকে বিয়ের নাটক সাজিয়ে ধর্ষণ করে। ঘটনাটি ভিকটিমের মা-বাবা ও স্বজনেরা ঘটনাটি জেনে গেলে তাদের উল্টো হুমকী দেয় অভিযুক্ত ফরিদ আলম।

ঘটনা এতটুকুতে শেষ নয়, তা স্থানীয় শালিস পর্যন্ত গড়ায়। বিচারকরা কাবিননামা সম্পাদন করে ভিকটিমকে ‘বউ’ বানিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত দেয়। ধর্ষিতার পরিবার মীমাংসা মেনে নিলেও ফরিদ আলম ‘সিদ্ধান্ত পরে জানাব’ বলে মীমাংসা বৈঠক থেকে উঠে যায়।

ভিকটিম স্কুল ছাত্রীর পিতা আবু শামা পেশায় একজন রিক্সা চালক। তার বাড়ী টেকনাফের হোয়াইক্যং ঘিলাতলী এলাকায়। সে জানায়, মেয়ের রক্তক্ষরণ শুরু হলে বালুখালী টিভি টাওয়ার সংলগ্ন রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরের নরওয়ে রেডক্রস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে গত ২২ ফেব্রুয়ারী ভিকটিম মৃত সন্তান প্রসব করে। রেডক্রস হাসপাতালের দেয়া ডাক্তারী সনদে ভিকটিমকে ব্যাপক মারধর করার কারণে মৃত সন্তানটি প্রসব হয়েছে উল্লেখ আছে।

আবু শামা আরো জানায়, তার মেয়েকে ধর্ষণের বিচার চাওয়ার পর থেকে তাদের নানাভাবে হুমকী ধমকি দিতে থাকে ফরিদ আলম। এমনকি নিজ মেয়েকে ধর্ষিতা সাজিয়ে মামলা করা হবে বলেও হুমকী দেয়।

খোঁজ খবর নিয়ে যতটুকু জানা গেছে, অভিযুক্ত ফরিদ আলম প্রভাবশালী ও একজন ইয়াবা ব্যবসায়ী। ২০১৭ সালের ২৪ এপ্রিল তার মালিকানাধীন ট্রাক (ঢাকা মেট্রো-ট-১৩-৩৬১৬) টেকনাফ থেকে আসার পথে উখিয়ার কুতুপালং বুড়িঘর এলাকায় ১০ হাজার ৬০০ ইয়াবাসহ আটক করে উখিয়া থানা পুলিশ। এ ঘটনায় থানার সহকারী পুলিশ উপ-পরিদর্শক (এএসআই) নাজমুল হুদা বাদী হয়ে  জিআর মামলা নং-১৪২/২০১৭ দায়ের করেন। ইয়াবার মূল মালিক ফরিদ আলম কৌশলে মামলা থেকে বাদ যায় বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। ফরিদ আলম অঢেল টাকার মালিক হওয়ায় ধরাকে সরা ভাবে। আইন ও প্রশাসনকে তোয়াক্কা করেনা। চাঞ্চল্যকর ঘটনার পরও ভিকটিম পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভোগছে। এমনকি তাদের পক্ষে যারা অবস্থান নিয়েছে তাদেরকে উল্টো মিথ্যা মামলায় জড়ানোর হুমকী দিচ্ছে। ঘটনার সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ বিচার দাবী করেছে ভুক্তভোগী পরিবারসহ এলাকাবাসী। এ ব্যাপারে অভিযুক্ত ফরিদ আলমের মুঠোফোনে (০১৮২৬…৩৮৪) কল দিলে রিসিভ করেননি।

 

কক্সবাজার নিউজ সিবিএন’এ প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।

সর্বশেষ সংবাদ

যানজটমুক্ত করতে মাঠে অটোবাইক মালিক চালকরা

বিতর্কিত ডিজিটাল আইন সংবিধান বিরোধী

কাঁদতে কাঁদতে মাঠ ছাড়লেন রোনালদো

ঘামের গন্ধে কাছে আসে যে সাপ

মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব ফের গ্রেফতার

সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কবার্তা

এক নিয়োগ আবেদনে ৪০ কোটিরও বেশি আয়

আলোচনায় বসতে মোদিকে ইমরানের চিঠি

সম্পর্ক ভাঙলে শুধু মনই ভাঙে না  আত্মার শান্তিও নষ্ট করে…

চকরিয়ায় মোবাইল চুরির অভিযোগে যুবককে ধরে নিয়ে মাথান্যাড়া শাস্তি!

বিতর্ক প্রতিযোগিতাঃ বাংলায় দর্শন বিভাগ, ইংরেজিতে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ চ্যাম্পিয়ন

খুটাখালী বিএনপি নেতা ডাঃ শফির পিতার ইন্তেকাল

ভারসাম্যপূর্ণ উন্নত বাংলাদেশ গড়ার কাজ করছে ইসলামী ব্যাংক

কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশের অভিযানে ৮জন আসামী গ্রেফতার

নির্বাচন কমিশনের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদের পিতার মৃত্যু : বিভিন্ন মহলের শোক

পেকুয়ায় মা-মেয়ের উপর হামলার ঘটনার মূলহোতা আব্বাস গ্রেপ্তার

সরকারের হুমকিতে দেশ ছাড়েন এস কে সিনহা : বিবিসির খবর (ভিডিও)

রামুতে শহীদ লিয়াকত স্মৃতি বৃত্তি পরীক্ষা-২১ সেপ্টেম্বর

সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের টাকা পেলেন কক্সবাজারের ৬ সাংবাদিক

মানবতার মূর্ত প্রতীক শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র : মেয়র মুজিবুর রহমান