সকল বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে বুক কর্ণার প্রতিষ্ঠা করা হবে

ইমাম খাইর, সিবিএন:
পর্যটন নগরী কক্সবাজারে অনুষ্ঠিত হলো স্কুল ফীডিং প্রোগ্রাম বিষয়ক সভা “School Feeding Program in Poverty Prone Areas with Complementary Literacy and Nutrition Activities”
ইউএসডিএ- এর অর্থায়নে এবং বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচীর (ডব্লিওএফপি) সহায়তায় আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ‘রুম টু রিড’-এর উদ্যোগে শনিবার (১০ মার্চ) সকাল ১০ টায় শহরের এক আবাসিক হোটেলের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) ড. মো: আবু হেনা মোস্তফা কামাল।
তিনি বলেন, “আমরা এমন একটি বিদ্যালয় গড়ে তুলতে চাই যেখানে প্রতিটি শিশু সকাল বেলা আনন্দ নিয়ে এবং মানুষের মত মানুষ হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে বিদ্যালয়ে আসবে। আমরা চাই প্রতিটি শিশু মুক্তিযুদ্ধের চেতনায়, দেশপ্রেমিক ও আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে।”
তিনি রুম টু রিডের সাক্ষরতা কার্যক্রম বিভিন্ন সময় পরিদর্শন করেন। শিশুর মান সম্মত শিক্ষা উন্নয়নে সংস্থাটির পাঠ দক্ষতা ও পাঠাভ্যাস উন্নয়ন কর্মসূচি তাকে উদ্বুদ্ধ করে। মাঠ পর্যায়ের বিভিন্ন কার্যক্রম এবং শ্রেণিকক্ষ পাঠাগার তাকে উৎসাহিত করে।
ড. মো: আবু হেনা মোস্তফা কামাল আরো বলেন, সরকার রুম টু রিড এর সাক্ষরতা কার্যক্রমের সকল কর্মসূচির গ্রহণ করেছে। পিইডিপি-৪ এ রুম টু রিড লাইব্রেরি এর আদলে সকল বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে বুক কর্ণার প্রতিষ্ঠা করা হবে। বক্তব্যের সর্বশেষে তিনি “স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় দারিদ্র প্রবণ অঞ্চলে খাদ্য পুষ্টি ও শিক্ষা সহায়তা কার্যক্রম”- এর শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
বিশেষ অতিথি বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচীর (ডব্লিওএফপি) ইমারজেন্সি কো-অর্ডিনেটর পিটার গেস্ট বলেন, ডব্লিওএফপি এই নতুন প্রকল্পটি মাধ্যমে রুম টু রিড, ইপ্সা, মুসলিম এইড ‘সাক্ষরতা দক্ষতা উন্নয়ন, পুষ্টি ও স্কুল ফিডিং’ এর জন্য কাজ করবে। আমাদের অনেক কাজ করতে গিয়ে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হই, কিন্তু এই প্রতিবন্ধকতাই আমাদের নতুন উদ্যমে কাজ করতে উৎসাহিত করে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ‘রুম টু রিড বাংলাদেশ’-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর রাখী সরকার স্বাগত বক্তব্য রাখেন।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে স্কুল ফীডিং প্রোগামের প্রকল্প পরিচালক রাম চন্দ্র দাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক, স্কুল ব্যবস্থ্াপনা কমিটির সদস্যবৃন্দ, শিক্ষানুরাগি, সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থার উন্নয়ন কর্মীসহ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
স্বাগত বক্তব্যে রাখী সরকার বলেন, রুম টু রিড বিশ্বাস করে শিক্ষিত শিশুই বিশ্ব পরিবর্তনের সূচনা। একজন শিক্ষার্থীর শিক্ষা জীবনের গুরুত্বপূর্ন দুটি স্তর- প্রাথমিক স্তরের সকল শিশু ও মাধ্যমিক স্তরের মেয়ে শিশুর শিক্ষার মান উন্নয়নে রুম টু রিড কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, আমরা সকলেই জানি একজন শিশুর মৌলিক ভিত্তি ’সাক্ষরতা দক্ষতা’ যদি অর্জিত না হয় তবে তার জীবনে দারিদ্রতা নেমে আসে এবং জীবনের স্বপ্ন পূরন বাধাগ্রস্ত হয়। তিনি আরো বলেন, প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের পর্যাপ্ত মানসম্মত শিক্ষাপকরণের স্বল্পতা, পাঠাগারে শিক্ষার্থীর উপযোগী বই পড়ার সুযোগের অভাব এবং প্রশিক্ষিত শিক্ষকের অভাবই শিক্ষার্থীর সাক্ষরতা দক্ষতা বৃদ্ধির পেছনে অন্যতম বাধা।
কক্সবাজার জেলায় পরিচালিত কর্মসূচিটির পরিচিতি তুলে ধরে রুম টু রিড-এর লিটারেসি ডিরেক্টর মো: জিল্লুর রহমান সিদ্দিকি তার উপস্থাপনায় বলেন, রুম টু রিড পরিচালিত কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হল, প্রাথমিক স্তরের শিশুদের পড়ার দক্ষতা ও অভ্যাস বৃদ্ধির মাধ্যমে স্বাধীন পাঠক হিসেবে গড়ে তোলা। এ লক্ষ্যে রুম টু রিড বাংলাদেশ কক্সবাজার জেলার উখিয়া ও কুতুবদিয়া উপজেলার নির্বাচিত ১৩৫ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ১১ টি মাদ্রাসায় বাংলা ভাষা শিক্ষা সহায়তা কার্যক্রম বাস্তবায়ন ও ৮৭৭ টি শ্রেণিকক্ষ পাঠাগার স্থাপন করবে।
অনুষ্ঠানের সভাপতি রাম চন্দ্র দাস তাঁর সমাপনী বক্তব্যে বলেন, “আমরা বাংলাদেশে মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে চাই। এটি বাস্তবায়ন করার জন্য আমরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে কে কী করতে পারি তা বিবেচনা করে নিজেদের সাধ্যমত কাজ করবো এবং সেই সাথে আগামী প্রজন্মকে একটি উন্নত বিশ্ব উপহার দেওয়ার জন্য একযোগে কাজ করতে আহ্বান জানান।”
উল্লেখ্য যে, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অনুমোদন ও নির্দেশনাসাপেক্ষে রুম টু রিড বাংলাদেশ, নাটোর এবং ঢাকা জেলায় নির্বাচিত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সাক্ষরতা কর্মসূচির আওতায় সকল শিক্ষার্থীর পাঠদক্ষতা ও পাঠাভ্যাস উন্নয়নে বিভিন্ন কার্যক্রম সফলতার সাথে বাস্তবায়ন করে আসছে। সম্প্রতি রুম টু রিড ইউএসডিএ এর অর্থায়নে এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচীর (ডব্লিওএফপি) এর সহযোগীতায় “School Feeding Program in Poverty Prone Areas with Complementary Literacy and Nutrition Activities”– অধীনে কক্সবাজার জেলার উখিয়া ও কুতুবদিয়া উপজেলার ১৩৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ও ১১টি মাদ্রাসায় সাক্ষরতা কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু করছে।

কক্সবাজার নিউজ সিবিএন’এ প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।

সর্বশেষ সংবাদ

টেকনাফ উপজেলা যুবদলের সম্মেলনকে ঘিরে প্রাণচাঞ্চল্য : চাপিয়ে দেয়া কমিটি মানবে না!

 বিচার শুরুর অপেক্ষায় খালেদা জিয়ার আরও ৭ মামলা

অক্টোবর থেকে সেন্টমার্টিনে জাহাজ চলাচল শুরু

প্রধানমন্ত্রীকে আল্লামা শফীর অভিনন্দন

রাত ১০-১১টার পর ফেসবুক বন্ধ চান রওশন এরশাদ

আফগানদের কাছে বাংলাদেশের শোচনীয় পরাজয়

আজ পবিত্র আশুরা

দেশের স্বার্থেই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন : প্রধানমন্ত্রী

সরকারের শেষ সময়ে আইন পাসের রেকর্ড

রাঙ্গামাটিতে ঘুম থেকে তুলে দু’জনকে গুলি করে হত্যা

শেখ হাসিনার গুডবুক ও দলীয় হাই কমান্ডের তরুণ তালিকায় যারা

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে ‘ধোঁয়াশা’ কাটবে এ মাসেই

বিষাদময় কারবালার ইতিহাস

পবিত্র আশুরা : সত্যের এক অনির্বাণ শিখা

নবাগত জেলা জজ দায়িত্ব গ্রহন করে কোর্ট পরিচালনা করলেন

নজিব আমার রাজনৈতিক বাগানের প্রথম ফুটন্ত ফুল- মেয়র মুজিবুর রহমান

কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে  “শুদ্ধ উচ্চারণ, আবৃত্তি, সংবাদপাঠ ও সাংবাদিকতা” বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা 

রামুর কচ্ছপিয়াতে রুমির বাল্য বিবাহের আয়োজন

সরকার শিক্ষাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছে- এমপি কমল

আইসক্রিমের নামে শিশুরা কী খাচ্ছে?