এম.জিয়াবুল হক, চকরিয়া:

অনুমোদন বিহীন অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযানে নেমেছে কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তর। ইতোমধ্যে পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের পাশে ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের বনাঞ্চলের ভেতরে অবৈধভাবে নির্মিত চারটি ইটভাটায় অভিযান পরিচালনা করেছে। অভিযানের সময় ফাসিয়াখালী ইউনিয়নের রাঙ্গাঝিরি এলাকার কেবিসি নামের ড্রাম সিমনির একটি ইটভাটা ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে। একই সাথে ওই এলাকার অপর তিনটি ইটভাটা মালিককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে।

কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক মো.সাইফুল আশ্রাব বলেন, ফাসিয়াখালী ইউনিয়নের বনাঞ্চলের আশপাশ এলাকায় চারটি ইটভাটা চালু করা হয়েছে। এসব ইটভাটা চালু করতে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেয়া হয়নি।

তিনি বলেন, বিষয়টি পরিবেশ অধিদপ্তরের নজরে আসলে আমরা অভিযান কার্যক্রম জোরদার করি। গত ১৯ ফেব্রুয়ারী সারাদিন ওই এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। ওইসময় পরিবেশ আইন লঙ্ঘন করে ভাটা স্থাপনের অভিযোগে ফাসিয়াখালী ইউনিয়নের রাঙ্গাঝিরি এলাকার তারেকুল ইসলামের মালিকানাধীন কেবিসি নামের ড্রাম সিমনির একটি ইটভাটা ভেঙ্গে মাটির সাথে লুটিয়ে দেয়া হয়েছে। একই সাথে ওই এলাকার অপর তিনটি ইটভাটা মালিককে ছাড়পত্র বিহীন কেন ইটভাটা চালু করা হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কেন আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবেনা, তা জানতে চেয়ে ইতোমধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে।

অভিযুক্ত ইটভাটা গুলো হচ্ছে ফাসিয়াখালী ইউনিয়নের মালুম্মা এলাকায় নাজমুল হক পেয়ারুর মালিকানাধীন এমএসবি ইটভাটা, একই ইউনিয়নের হারগাজা এলাকায় ফাসিয়াখালী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি নুর হোসেন চৌধুরীর মালিকানাধীন এএইচবি ইটভাটা ও বাইশারী ইউনিয়নের কাগজীখোলা এলাকায় সামসু উদ্দিনের মালিকানাধীন এনএসবি নামের ইটভাটা।

কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক মো.সাইফুল আশ্রাব বলেন, ফাসিয়াখালী ইউনিয়নের অভিযুক্ত চারটি ইটভাটায় পরিবেশ অধিদপ্তরের কোন ধরণের ছাড়পত্র নেই। তারমধ্যে নাজমুল হক পেয়ারু অনেকটা কৌশলের আশ্রয় নিয়ে পুরানো একটি ছাড়পত্র ব্যবহার করে চলতিমৌসুমে ইটভাটা চালু করেছেন। পরিবেশ অধিদপ্তর অভিযান শেষে ওইদিন অভিযুক্ত চারটি ইটভাটা মালিককে আগামী পহেলা মার্চের মধ্যে নোটিশের জবাব দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। তাঁরা পরিবেশ আইনের স্বপক্ষে বৈধ কোন ধরণের কাগজপত্র দেখাতে পারলে ভাল। তা না হলে আমরা পরবর্তী অভিযান চালিয়ে এসব ইটভাটা উচ্ছেদ করে দেবো। পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে পরিবেশ আইনের সংশ্লিষ্টরা ধারা মতে ব্যবস্থা নেব।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •