প্রেস বিজ্ঞপ্তি :

কক্সবাজারের প্রবীণ শিক্ষাবিদ, কক্সবাজার সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক এবং বিশিষ্ট সমাজসেবী মাষ্টার সুগত বড়ুয়া গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

মাষ্টার সুগত বড়ুয়া (৮২) দীর্ঘদিন বার্ধক্যজনিত কারণে কক্সবাজার শহরের থানার পিছন রোডে নিজ বাসায় শয্যাশায়ী ছিলেন। গত ৩১ জানুয়ারী তিনি মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ জনিত কারণে অসুস্থ হলে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেই থেকে চিকিৎসকের পরামর্শে তিনি হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি রয়েছেন।

তিনি দীর্ঘ ৪ দশকেরও বেশী কক্সবাজার সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন। কয়েকবার তিনি জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছিলেন।শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি সমাজকর্মী ও সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। দীর্ঘদিন কক্সবাজার শহর সমাজসেবা কমিটির সভাপতি ছিলেন।
এছাড়া তিনি জেলার বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের কাছে একজন অভিভাবকতুল্য ব্যক্তিত্ব। বাংলাদেশ বৌদ্ধ সমিতি কক্সবাজার জেলা শাখার প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক এবং পরবর্তীতে সভাপতি হিসেবে দীর্ঘ বছর ধরে দায়িত্ব পালন করেন।

প্রবীন শিক্ষক সুগত বড়ুয়া ১৯৩৬ সালে উখিয়া উপজেলার পশ্চিম মরিচ্যা গ্রামে স্বর্গীয় ভগীরত বড়ুয়া ও নিরদা বালা বড়ুয়ার উরশে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর প্রয়াত পিতা ভগীরত বড়ুয়াও ব্রিটিশ আমলের শিক্ষক ছিলেন।
তাঁর বড় ভাই সাংবাদিক প্রয়াত ড. সঞ্জয় বড়ুয়া ছিলেন একজন মুক্তিযোদ্ধা ও বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা ( বাসস্ ) এর প্রধান। ড. সঞ্জয় থাইল্যান্ডের ব্যাংককের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেছেন।
সুগত বড়ুয়ার সহধর্মীনি অপর্ণা বড়ুয়াও ছিলেন শিক্ষিকা। তিনি কক্সবাজার পৌর প্রিপ্যারেটরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে অবসর নিয়েছেন।

এ শিক্ষক দম্পতি ছাত্রছাত্রীদের যেমন আলোকিত করছেন তেমনি সন্তানদেরও গড়ে তুলেছেন উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত। তাদের ৩ পুত্র ও ২ কন্যা সন্তান।

বড় সন্তান অনুপ বড়ুয়া অপু একজন ক্রীড়া সংগঠক। তিনি কক্সবাজার জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক।
দ্বিতীয় সন্তান এডভোকেট অরূপ বড়ুয়া তপু জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য, কক্সবাজার আদালতের এপিপি, স্বৈরাচার বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম ছাত্রনেতা এবং সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট কক্সবাজারের সাবেক সভাপতি।
তৃতীয় সন্তান সুজন বড়ুয়া নিপু বিশিষ্ট ক্রীড়াবিদ ও উন্নয়ন সংগঠক। তিনি কক্সবাজারে একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার প্রধান পরিচালক।

তাদের ২ কন্যা সন্তানও উচ্চ শিক্ষিত এবং জামাতারাও প্রতিষ্টিত।

প্রবীন এ শিক্ষাবিদের আরোগ্য ও সুস্বাস্থ্য কামনা করে জেলাবাসীর কাছে তার পরিবারের সদস্যরা আর্শীবাদ চেয়েছেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •