বিশেষ প্রতিবেদক :

কক্সবাজার সদর উপজেলার খুরুশকূলে ‘মালিককে টাকা ধার না দেয়ায়’ ভাড়াটিয়ার হামলা চালিয়ে দোকান লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।

এ ঘটনায় হামলায় আহত ব্যক্তি বাদী হয়ে সোমবার রাতে জড়িতদের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে বলে জানান কক্সবাজার সদর থানার ওসি ( তদন্ত ) মো. কামরুল আজম।

আহত ভাড়াটিয়া হুমায়ুন কবির কক্সবাজার সদরের খুরুশকূল ইউনিয়নের পালপাড়া বাজারের একটি কনফেকশনারী কারখানার ( তন্দুরী ) মালিক।

থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগে জানা যায়, সদর উপজেলার খুরুশকূল ইউনিয়নের কোনারপাড়ার মৃত মো. হোসেনের ছেলে মোহাম্মদ কালু ওরফে কালুর কাছ থেকে দোকানঘর ভাড়া নিয়ে গত ২/৩ বছর আগে কনফেকশনারী কারখানা ( তন্দুরি ) চালু করে হুমায়ুন কবির। নিয়মিত ভাড়া পরিশোধ করে আসলেও বিভিন্ন সময় প্রয়োজনের কথা বলে টাকা ধার নিত।

” এভাবে বেশ কয়েক দফা ভাড়াটিয়া হুমায়ুনের কাছ থেকে টাকা ধার নেয় দোকানঘরের মালিক মো. কালু। মাসিক দোকান ভাড়ার চেয়ে ধারের টাকা বেশী হয়ে দাঁড়ায় ৩০ হাজার টাকায়। গত কয়েক মাস আগে ধার নেয়া ওই টাকা এখনো পরিশোধ করেনি। “

অভিযোগ সূত্রে আরো জানা যায়, ধার নেয়া টাকা পরিশোধ না করলেও দোকানঘরের মালিক মো. কালু গত রোববার ( ১৮ ফেব্রুয়ারী ) রাত সাড়ে ৮ টায় ভাড়াটিয়া হুমায়ুনের তন্দুরী কারখানায় গিয়ে আরো ৫০ হাজার টাকা ধার খোঁজে। এতে হুমায়ুন টাকা ধার দিতে অস্বীকৃতি জানালে কালু ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে।

” এসময় হুমায়ুনকে কারখানার ভিতর থেকে টেনে-হেঁচড়ে বের করে এনে এলোপাতাড়ী কিল-ঘুষি ও লাত্থি মারতে থাকে। ঘটনাস্থলে কালুর সঙ্গে আসা আরো ৩/৪ জন লোকও হামলায় অংশ নিয়ে হুমায়ুনকে বেদড়ক পিঠুনি দেয়। এক পর্যায়ে কালুর কোমরে থাকা হাতুড়ী বের করে হুমায়ুনের মুখমন্ডলে আঘাত করে। এতে তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়লে হামলাকারিরা কারখানায় ঢুকে ভাংচুর চালিয়ে লুটপাট চালায়। হামলাকারিরা ক্যাশবক্সে রক্ষিত নগদ ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা এবং মূল্যবান মালামাল সামগ্রী লুট করে নিয়ে যায়। “

পরে ঘটনাস্থলের আশপাশে থাকা লোকজন এগিয়ে এসে হুমায়ুনকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।

ওসি ( তদন্ত ) কামরুল জানান, এ ঘটনায় আহত হুমায়ুন বাদী হয়ে জড়িত দোকানঘর মালিক মো. কালুকে প্রধান আসামী করে অভিযুক্ত আরো ৩ জনের বিরুদ্ধে সোমবার রাতে লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে।

মামলার অন্য আসামীরা হল, খুরুশকূল ইউনিয়নের কোনারপাড়া এলাকার মৃত আব্দুস সালামের ছেলে মো. আলম মাঝি (৪৫) এবং মো. কালু’র ছেলে জাকের হোসেন ওরফে গুটি বাক্কু (৩০) ও মো. রফিক (২৫)।

অভিযোগটি তদন্তপূর্বক ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে ব্যবস্থা নেয়া হবে জানান ওসি কামরুল।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •