টেকনাফে চাষাবাদে চাকমা পল্লীর স্কুল পড়ুয়া মেয়েরা

হাফেজ মুহাম্মদ কাশেম, টেকনাফ :

টেকনাফের পাহাড়ে চাকমা পল্লীর স্কুল পড়ুয়া মেয়েরা পারিবারিক চাষাবাদে সহায়তায় এগিয়ে আসছে বলে জানা গেছে। এতে পুরো এলাকাবাসীর মধ্যে কৌতুহলের সৃষ্টি করেছে।

সরেজমিনে উপজেলার হোয়াইক্যং পাহাড়ী জনপদ হরিখোলা পরিদর্শনে জানা যায়, স্বর্গীয় মংছা মং চাকমার পুত্র গইজ্জা অং চাকমা (৬০) এবং মিয়াং ছিং চাকমার (৫০) সংসারে ৩ ছেলে এবং ৩ মেয়ে রয়েছে। সহায়-সম্পত্তি কম হলেও দারিদ্রতার কারণে বড় ছেলেদের পড়াশুনা বেশী দূর করাতে পারেনি। বড় হয়ে দুই ছেলে বিয়ে করে আলাদা সংসার পাতেন। বাড়ির ৩য় ছেলে মা-বাবার স্বপ্নে পড়াশুনায় মনোনিবেশ করেন। তিনি হোয়াইক্যং আলহাজ¦ আলী-আছিয়া হাইস্কুলে ৭ম শ্রেণীতে অধ্যয়নরত।

আলাপ করে জানা গেছে, তাঁদের বড় মেয়ে পাপুরী চাকমা বাবা-মাকে পারিবারিক কাজে সহায়তায় জড়িয়ে পড়েন। মেঝ মেয়ে মেঘনা চাকমা (১৭) হোয়াইক্যং আলহাজ¦ আলী-আছিয়া হাইস্কুলে ৭ম শ্রেণীতে ও ছোট মেয়ে প্রকাশী চাকমা (১২) হরিখোলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণীতে অধ্যয়নরত। দরিদ্র মা-বাবার সংসারে আর্থিক সংকটের কারণে জীবিকার তাগিদে বেশী জমি চাষাবাদ করতে পারেনি। চলতি রবি মৌসুমে ৬০ শতক জমিতে খোরাকের জন্য ধান চাষাবাদ শুরু করেন। এমনকি ব্যয় বহুল শ্রমিকের মজুরী যোগাড় করতে না পেরে এই স্কুল পড়–য়া মেয়েরাই ধান ক্ষেতে গিয়ে বীজ চারা উত্তোলন করে নিজেরাই বপন করছে। পড়াশুনার ফাঁকে ফাঁকে মা-বাবাকে তাদের অব্যাহত সহায়তা পুরো চাকমা পল্লীর মানুষকে অনুপ্রাণিত করছে।

স্থানীয় অভি চাকমা বলেন ‘আমাদের চাকমা সম্প্রদায়ের মেয়েরা এমনিতে পরিশ্রমী। কিন্তু স্কুল পড়ুয়া মেয়েরা কাজ করতে তেমন দেখা যায়না। এই পরিবারের স্কুল পড়–য়া মেঘনা ও প্রকাশী চাকমা আতœসম্মানের উর্ধ্বে উঠে মা-বাবাকে পারিবারিক চাষাবাদের কাজে সহায়তা করে যাচ্ছে’। এই বিষয়ে স্কুল ছাত্রী মেঘনা চাকমা হাস্যেজ্জ্বল মুখে বলেন ‘আমরা গরীব ঘরের ছেলে-মেয়ে। অবসর ও পড়াশুনার ফাঁকে নিজ পারিবারিক কাজে সহায়তা করা আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য বলে মনে করি। আমি এই কাজে গর্ব বোধ করি এবং সব ছেলে-মেয়েদের পারিবারিক কাজে মা-বাবাদের সহায়তার হাত বাড়িয়ে এগিয়ে আসা দরকার বলে মনে করি’।

টেকনাফ উপজেলা কৃষি অফিস সুত্র জানা যায়, চলতি সনে রবি মৌসুমে ১ হাজার ৩২০ হেক্টর জমি চাষাবাদের আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। মূলতঃ এই জমিতে ব্রি ধান-৪৭, ব্রি ধান-২৮, ব্রি ধান–২১, বিনা-৮৮ প্রজাতির ধানের চাষাবাদ হয়।

এব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম বলেন ‘এমনিতেই উপজাতীয় চাকমা মেয়েরা কর্মঠ। তার উপরে স্কুলে অধ্যয়নের ফাঁকে মা-বাবাকে কৃষি কাজে সহায়তা সত্যিই প্রশংসনীয়। এর ফলে ছেলে-মেয়েদের মধ্যে আতœনির্ভরশীল হওয়ার চেতনা জাগ্রত হয়। আমরা ধান, শাক-সবজিসহ এজাতীয় কাজে উৎসাহ দিয়ে থাকি’।

কক্সবাজার নিউজ সিবিএন’এ প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।

সর্বশেষ সংবাদ

রামুতে জেএসসিতে এ-প্লাস ও বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

’সুজন’ চকরিয়া উপজেলা কমিটি গঠিত

বদির স্ত্রীকে আ. লীগের প্রার্থী ঘোষণা

প্রেমে বাঁধা দেওয়ায় ছাত্রীর মাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে গৃহশিক্ষক

কক্সবাজারে অজ্ঞাত যুবকের লাশ উদ্ধার

জিএম রহিমুল্লাহর মৃতুতে জেলা বিএনপির শোক

জিএম রহিমুল্লাহ’র মৃত্যুতে কক্সবাজার পৌর পরিষদের শোক

বিশ্বের সর্বোচ্চ ১৫০ বছর বয়সের জীবিত মানুষ খুটাখালীর সিকান্দর!

আলোকচিত্রী শহিদুল আলম কারামুক্ত

৩০ নভেম্বর কক্সবাজারে অনুষ্ঠিত হবে ‘ওয়াকাথন ২০১৮’

কক্সবাজারের ৪টি আসনেই লড়বে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ

রাঙামাটিতে ৯৪দিন পর অপহৃত চাকমা তরুনী উদ্ধার : আটক-৩

জিএম রহিমুল্লাহর মৃত্যুতে জামায়াতের শোক

বিএনপি জামায়াতের ১০ নেতার আগাম জামিন লাভ

কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদকের রোগ মুক্তি কামনায় দোয়া মাহফিল

রাঙামাটির সাংবাদিক নাজিমের মায়ের ইন্তেকাল, সাংবাদিকদের শোক

রাঙামাটিতে অস্ত্রসহ চাকমা যুবক আটক

জিএম রহিমুল্লাহর মৃত্যুতে লুৎফুর রহমান কাজলের শোক

চকরিয়ায় একই পরিবারের ১২ নারী-পুরুষকে কুপিয়ে জখম

কক্সবাজারে মিল্কভিটার বিপনন ও বিতরণ কেন্দ্রে উদ্বোধন