আবদুর রাজ্জাক,কক্সবাজার :

আর্ত মানবতার সেবায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে উজ্জল দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চলেছে কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগ। বিগত ২০১৭ সালের ২২ শে সেপ্টেম্বর থেকে অদ্যাবধি (০৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৮) উখিযার বালুখালীতে মিয়ানমার হতে আসা অসহায় ও নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের ক্যাম্প বসিয়ে চিকিৎসা দিচ্ছে। একটানা ১৩৭ টি দিন রোহিঙ্গাদের সেবা ও মানবতার কাজে নিজেদের নিয়োজিত করে ইতিহাস সৃষ্টি করার পথে কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগ । রোহিঙ্গা শিবিরে শত প্রতিষ্ঠান ও সাহায্যকারী সংস্থা স্বল্প সময় সেবা দিলেও জেলা ছাত্রলীগ এখনো অবিরত।নির্যাতিত মানুষের পাশে থেকে ১৩৭ দিন বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা দিয়েছে চিকিৎসা টিম । মানুষের কষ্টে ছাত্রলীগ ব্যথিত হয়। সেটাই প্রমাণ করে সরকার ও জনগণের সাথে একাত্ব হয়ে এক যোগে কাজ করে যাচ্ছে অসংখ্য ছাত্রনেতা। চিকিৎসা সেবার উদ্দশ্যে গঠিত হয়েছিল বাংলাদেশ ছাত্রলীগের মনিটরিং সেল ও মেডিকেল ক্যাম্প। গত ৫ ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত ১৩৭ তম দিন অতিক্রম করেছে। তবে ১৫০ তম দিন পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের পাশে থাকার অঙ্গিকার রেখেছে এই সংগঠনটি। এতে দীর্ঘদিন যারা ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে সময় দিয়েছেন তারা স্বার্থক বলে মনে করেন। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ এবং দেশরত্ন শেখ হাসিনার মানবিকতার ডাকে রোহিঙ্গাদের পাশে দাড়িয়েছিল কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগ। শরনার্থীদের চিকিৎসা সেবার লক্ষ্যে যে আশা নিয়ে কাজ করেছে । সে আশা কিছুটা সফল বলে মনে করে ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দরা। কেননা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গঠিত ছাত্রলীগের মনিটরিং সেল ও মেডিকেল কেন্দ্রটি সারাদেশে বেশ প্রসংশা কুড়িয়েছে। এমনকি ইতোমধ্যেই দেশ বিদেশে নানা ভাবে সমাদৃতও হয়েছে। মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনায় থাকা এক সদস্য জানান, “১৩৭টি দিন মেডিকেল ক্যাম্পে যথাযথ সেবা দিতে, ছাত্রলীগের কত যে কর্মীর ঘাম, শ্রম, মেধা ও অর্থের ব্যয় হয়েছে তা বলে শেষ করা যাবেনা। তারপরেও দেড়শত দিন পর্যন্ত চিকিৎসা ক্যাম্প চালু থাকবে বলে নিশ্চিত করেন।মানবতার কল্যানে বিসর্জন দেয়া ১৩৭ টি সোনালী দিন কেউ হয়তো মনে রাখবেনা বেশীদিন। তবে ছাত্রলীগ সব সময় ছাত্র, দেশ এবং আর্ত মানবতার সেবায় কাজ করে যাবে বলে মন্তব্য করেন”।

প্রাপ্ত তথ্যমতে জানা যায়, বিগত ২০১৭ সালের ২২শে সেপ্টেম্বর বালুখালীতে এই চিকিৎসা ক্যাম্প ও সেল গঠন করা হয়। সে সময় কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম এনামুল হক শামীম এই প্রাথমিক চিকিৎসা কেন্দ্র ও মনিটরিং সেলের উদ্বোধন করেছিলেন। মুলত, মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নজিরবিহীন নিযার্তন-নিপীড়নের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা অসহায় রোহিঙ্গাদের জন্য চিকিৎসা ক্যাম্পটি চালু করেছিলো কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগ।দীর্ঘ ১৩৭ দিন ক্যাম্পে চিকিৎসা নিয়েছে প্রায় ৩৬ হাজারের মতো রোহিঙ্গা নাগরিক। যা দেড় শত দিন পুর্ন হতে আরো কিছু দিন বাকি। এব্যাপারে কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ইশতিয়াক আহমেদ জয় জানান, মাদার অব হিউম্যানিটি খ্যাত বিশ্বনেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার আহ্বানে আর্ত মানবতার সেবায় আমরা উখিয়ায় চিকিৎসা ক্যাম্প করেছিলাম। এখনো চলছে ভবিষ্যতে আরো বড় পরিসরে কাজ করার সহযোগিতা ও দোআ চাই সকলের কাছে”।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •