ডেস্ক নিউজ:

নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনসহ ছয় শর্তে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তবে সংবিধান রক্ষায় আওয়ামী লীগ সরকার তার কোনো শর্তই মানবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা।

পূর্বপশ্চিমবিডি.নিউজের সঙ্গে আলাপকালে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য লে. কর্ণেল (অব.)ফারুক খান বলেন, খালেদা জিয়া পরির্বতনের কথা মুখে বলছেন, কিন্তু মনে মনে ষড়যন্ত্র করে দেশকে অস্থিতিশীল করার পঁয়তারা করছেন। আগামী একাদশ নির্বাচন হবে সংবিধান মেনে। সংবিধানে তত্বাবধায়ক সরকার বা সহায়ক সরকারের কোনো সুযোগ নেই। ফলে তার প্রথম শর্তই বাতিল বলে গণ্য হয়েছে।

অারেকজন আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতা বলেন, সেনাবাহিনী মোতায়েনসহ যেসব শর্ত দিয়েছেন সেটির পরিস্থিতিও নেই। ভোটের আগেই তিনি সেনা মোতায়েন চাইতে পারেন না। ভোট ইভিএম পদ্ধতিতে হবে নাকি আগের পদ্ধতিতেই হবে সেটা নির্ধারণ করবে নির্বাচন কমিশন। সরকার নির্বাচন কমিশনকে সে স্বাধীনতা দিয়েছে। এটার নিয়েও কোনো শর্ত দেয়ার কিছু নেই।

উল্লেখ্য, রাজধানীর হোটেল লা মেরিডিয়ানে আজ শনিবার দুপুরে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির প্রথম সভায় একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে তিনি শর্তগুলো তুলে ধরেন।

শর্তগুলো হলো-ভোট হতে হবে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে, জনগণকে ভোটকেন্দ্রে আসার মতো পরিবেশ তৈরি করতে হবে, ভোটের আগে সংসদ ভেঙে দিতে হবে, নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষতা বজায় রেখে কাজ করতে হবে, ভোটের সময় সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে, সেনাবাহিনী মোবাইল ফোর্স হিসেবে কাজ করবে এবং যন্ত্রে ভোটের জন্য ইভিএম/ডিভিএম ব্যবহার করা যাবে না।

সভায় ছয় শর্ত তুলে ধরার পর খালেদা জিয়া নির্বাহী কমিটির সদস্যদের কাছে জানতে চান তারা এর সঙ্গে একমত কি না। এ সময় নির্বাহী কমিটির সদস্যরা উচ্চ স্বরে জানান, তারা একমত।

উদ্বোধনী বক্তব্যে খালেদা জিয়া বলেন, মানুষ পরিবর্তন চায়। এই পরিবর্তন হতে হবে নির্বাচনের মাধ্যমে।

তিনি বলেন, ‘আমি যেখানেই থাকি না কেন আমি আপনাদের সঙ্গে আছি। আমাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে লাভ নেই। দলের নেতা ও এ দেশের মানুষের সঙ্গে আছি।’

এ সময় দলের নেতাকর্মীদের শান্তিপূর্ণ প্রতিরোধ-প্রতিবাদ গড়ে তোলার আহ্বান জানান খালেদা জিয়া।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •