হাফেজ মুহাম্মদ কাশেম, টেকনাফ:

টেকনাফ পৌর এলাকার ৫৪২ পরিবারের মাঝে নগদ অর্থ বিতরণ করেছে জাতিসংঘ বিশ্ব খাদ্য কর্মসুচি। উক্ত কর্মসুচির বাস্তবায়ন সংস্থা হিসাবে কাজ করছে রিসোর্স ইন্টিগ্রেশন সেন্টার (রিক) নামে একটি এনজিও। তালিকাভুক্ত প্রত্যেক উপকারভোগীকে এককালীন নগদ ২ হাজার টাকা করে আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়।

জানা যায়, ৩ ফেব্রুয়ারী ১০ টায় টেকনাফ পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডে স্থানীয় সাংসদের কটেজ প্রাঙ্গনে নগদ অর্থ বিতরন কর্মসুচির কার্যক্রম উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি মেয়র হাজ্বী মোঃ ইসলাম। এসময় এলাকার কাউন্সিলর, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হাজ্বী আব্দুর গফুর শরীফ, মিডিয়াকর্মী, এনজিও সংস্থা রিক এর টেকনাফ উপজেলা প্ল্যানিং ও মনিটরিং অফিসার মোঃ সেলিম উল্ল্যাহ, ফিল্ড অফিসার মোঃ তোয়াহা আব্দুর রাজ্জাক, রাজিব দাশ ও গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলায় গত কয়েক বছর ধরে মিয়ানমার থেকে আগত লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গা বিভিন্ন এলাকায় আশ্রয় নেয়। রোহিঙ্গাদের কারণে স্থানীয় জনগোষ্টি বিভিন্নভাবে হয়রানী ও ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে এবং হচ্ছে। এমনকি অধিকাংশ শ্রম বাজার রোহিঙ্গাদের দখলে। রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও ক্যাম্পের বাইরে কর্মসংস্থানে তাদের প্রাধান্য বেশী। নিত্য প্রয়োজনীয় সকল পণ্যের চরম দুর্মুল্য, আইন শৃংখলার অবনতি, বনজ সম্পদ ধ্বংস, শ্রম বাজার ও কর্মসংস্থান দখল, স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বাভাবিক চলাচলে বহুমুখী হয়রানীতে মানুষের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। বিষয়টি বিবেচনা করে স্থানীয় অসহায় গরীব জনগোষ্টির ‘খাদ্য নিরাপত্তা জোরদারকরন ও পুষ্টিমান উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় জাতিসংঘ বিশ্ব খাদ্য কর্মসুচি (ডব্লিউএফপি) এককালীন নগদ অর্থ বিতরণ কর্মসুচী হাতে নিয়েছে বলে জানা গেছে। টেকনাফ উপজেলায় ৩৯৯৯টি অসহায় হতদরিদ্র পরিবার এই অর্থ সহায়তা পাবে।

নগদ অর্থ বিতরণ অনুষ্টানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে টেকনাফ পৌর মেয়র হাজ্বী মোঃ ইসলাম বলেন ‘উপকারভোগী যারা এ টাকা পাবেন তাদের প্রতিটি পরিবারের পুষ্টির ঘাটতি মেটাতে সক্ষম হবে। অর্থগুলো অপচয় না করে পরিবারের সঠিক কাজে ব্যাবহার করলে সংসারের অভাব অনেকটা কমে আসবে’।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •