বীরাঙ্গনা আলমাছের বাড়ি পরিদর্শন করলেন ইউএনও নোমান হোসেন

মোহাম্মদ শফিক:
বীরাঙ্গনা আলমাছ খাতুনের দেখভালের দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম বাড়ি পরিদর্শন করলেন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নোমান হোসেন প্রিন্স। এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় লোকজন।

২১জানুয়ারি দুপুরে আলমাছের ঝরাজীর্ণ বাড়ি পরিদর্শন করেন এবং সেখানে কিছুক্ষণ সময় কাটান।

এই বীরাঙ্গনার দুর্বিষহ জীবন সংগ্রাম দেখে থ হয়ে যান প্রশাসনের এই কর্তা।

একপর্যায়ে যাবতীয় বিষয়ে খোঁজ নিতে গেলে উভয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তাকে জড়িয়ে ধরে সান্তনা দেন তিনি।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নোমান হোসেন বলেন, “কক্সবাজারের প্রথম শহীদ ডা. কবির আহমদের স্ত্রী বীরাঙ্গনা আলমাছ খাতুন যে বাড়িটি বসবাস করছে তা খুবই খারাপ অবস্থা। একজন দেশ রতœা এভাবে থাকা দেশ ও জাতির জন্য এটি খুবই দুঃখজনক। আমরা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিনি বাকি বয়সটা যেন সুন্দর ও ভালভাবে কাটাতে পারে তার জন্য সব ধরনের সহযোগীতা ও সম্মাননা দিয়ে যাব”। অন্যদিকে দীঘ ৪৬ বছর পর্যন্ত অন্ধকারে নিমিজ্জিত থাকা আলোকিত এ রতœাকে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে তুলে আনার জন্য এশিয়ান টিভি কর্তৃপক্ষ ও এ প্রতিবেদককে ধন্যবাদ জানান ইউএনও। এসময় তিনি আরো বলেন, এ ধরনের প্রতিবেদনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখে এশিয়ান কর্তৃপক্ষ। তাহলে বঙ্গবন্ধুর সপ্নগুলো বাস্তবায়ন করতে সহয়তা করেবে।

এব্যাপারে বীরাঙ্গনা আলমাছ খাতুন বলেন, আমার স্বামী শহীদ হওয়ার পর থেকে এপর্যন্ত তিলে তিলে ধুকে ধুকে বুকে কষ্ট নিয়ে সময়গুলো পার করেছি। সেই থেকে বঙ্গবন্ধু শেখবুজিবুর রমহানের দেওয়া একটি সমবেদনা পত্র ও ২হাজার টাকার চেক ছাড়া আর কিছু পায়নি। কিন্তু ইতোমধ্যে সাংবাদিক, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে যে সহযোগিতা ও সম্মাননা পাচ্ছি তা আমার দীর্ঘদিনের কষ্ট কিছুটাই হলে লাগব হয়েছে। এখন যদি আমি কিছু না পেয়েও মরে যায়, তাহলে আমার আতœা শান্তি পাবে।

এব্যাপারে সাবেক মুক্তিযোদ্ধা সংসদের জেলা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মো: আলী জানান, “কক্সবাজারের প্রথম শহীদ ডা. কবির আহমদের স্ত্রী আলমাছ খাতুন যেন, বীরাঙ্গনা হিসেবে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ও শহীদ পরিবার হিসেবে অন্যান্য সুযোগসুবিধা নিচ্ছিত হয়, তার জন্য আমাদের সংসদরে পক্ষ থেকে সবধরনের সহযোগিতা করে যাব”

উল্লেখ্য, আলমাছ খাতুন হলেন ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে কক্সবাজারের প্রথম শহীদ ডা. কবির আহমদের সহধর্মীনি।

১৯৭১ সালের ১২ মে শুক্রবার বিকালে পাকহানাদার বাহিনী তার স্বামীকে ধরে নিয়ে যায়। পরে খবর পেয়ে ৪ বছর বয়সী শাহেনা আকতার ও ৯ মাসের ছেলে নাছির উদ্দিনকে নিয়ে ছুটে যান, কক্সবাজারের পুরোনো সিভিল রেস্টহাউস পাকিস্তানি ক্যাম্পে। সেখানে স্বামীর সাথে দেখা করারতো দুরের কথা! কথাও বলতে দেয়নি। বরং সেও শারীরিকসহ বিভিন্ন নির্যাতনের শিকার হয়। পরে কৌশলে নিজের জীবন রক্ষা করতে পারলেও বাঁচাতে পারেনি স্বামীর জীবন। তখন থেকেই বেচে থাকার তাগিদে ৭১ বছর বয়সেও এখনো অসুস্থ শরির নিয়ে প্রতিদিন লাঠিতে ভর দিয়ে কুজো হয়ে সাগর পাড়ে ঝিনুক কুড়ান আলমাছ খাতুন। এগুলো মালা গেথে বিক্রি করেই চলে তার সংসার।