সিকদার গিয়াসউদ্দিন :

১৯৭১’সাল। বাঙালী জাতির সহস্র বছরের ইতিহাসে এটি ছিলো চুড়ান্ত ক্রান্তিকাল এবং অত্যন্ত তাৎপর্য্যপূর্ণ সময়। রক্তক্ষয়ী দীর্ঘ নয়টি সংগ্রামের মাস। অবশেষে এলো ১৬’ই ডিসেম্বর। মহাবিজয়ের দিন। বিজয়ের তিলক পরে দুনিয়ার মানচিত্রে স্বগর্বে স্বাধীন স্বার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয় দস্তুরমতো ইতিহাসের আকর।১৯৭১’সালের চট্টগ্রাম জেলার অন্তর্ভূক্ত কক্সবাজার মহকুমা বর্তমানে কক্সবাজার জেলার অধিবাসী’রাও সেদিন ছিলো মহাবিজয়ের আনন্দে উদ্বেলিত।স্বজন হারানোর বেদনা ও হায়েনাদের আর দেশীয় দোসরদের হাতে নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত জনগন সবকিছু ভূলে গিয়ে এই ঐতিহাসিক বিজয়ে গ্রামেগন্জে,রাস্তাঘাটে,থানা ও কক্সবাজার শহরে উল্লাসে মেতে উঠেছিলেন।মহাআনন্দের সেই দিনটিতেই আনন্দাশ্রু আর শত কষ্টের দিন পেরিয়ে খূশীর আমেজ যে কি হতে পারে-যারা তা দেখেনি-প্রত্যক্ষদর্শী ছাড়া তা যথারীতি ভাষায়,অনুভূতি কিংবা উপলব্ধিতেও ব্যক্ত করা অসম্ভব।
বিজয়ের পরপরই সকলে বার্মা কিংবা ভারত অথবা যুদ্ধক্ষেত্র থেকে ফিরে আসতে থাকে।অনেকেই দেশমাতৃকার জন্য ইতিমধ্যেই না ফেরার দেশে চলে গেছেন কিংবা হারিয়ে গেছেন।এঁদের মধ্যে শিশু,কিশোর,যুবা,বৃদ্ধ কেউই বাকী ছিলোনা।২২’শে ডিসেম্বর রোজ বুধবার ১৯৭১’সালের এইদিনে ইতিমধ্যেই ফিরে আসা কক্সবাজারের বিজয়ী জনতার পক্ষে সর্বদলীয় কক্সবাজার সংগ্রাম পরিষদের নেতৃবন্দসহ বিভিন্ন এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে সর্বসম্মতিক্রমে দক্ষিন মিটাছড়ি জুনিয়র হাইস্কুলে(বর্তমানে পূর্ণ হাইস্কুল)র ময়দানে কক্সবাজারের প্রথম মহাবিজয়ের অনুষ্টানের সিদ্ধান্ত গ্রহন করেন। অনুষ্টানে যে দূ’টি জায়গায় বিজয় সভা অনুষ্টানের ব্যবস্থা সম্পন্ন করার জন্য আলোচনা চলে-সে দূ’টি স্থান হচ্ছে প্রথমত: তৎকালীন পূর্বপাকিস্তান শান্তি কমিটির অন্যতম প্রধান মৌলভী ফরিদ আহমদের মাছূয়াখালী’র বাড়ীর সামনে অথবা কক্সবাজার শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান কনভেনশন মুসলীম লীগের জাফর আলম চৌধূরী’র বাড়ীর সামনে। যোগাযোগ ব্যবস্থা ও গুরুত্ব বিবেচনা করে অবশেষে রামু থানার রাজারকুল ইউনিয়নের(পরে দক্ষিন মিঠাছড়ী ইউনিয়ন)কূখ্যাত জাফর আলম চৌধূরী(প্রকাশ জাফর মিয়া)র বাড়ীর পাশের জুনিয়র হাইস্কুল(এখন হাইস্কুল) মাঠে কক্সবাজারের প্রথম বিজয়সভা’র অনুষ্ঠানের জন্য ১৯৭১’সালের ২৭’শে ডিসেম্বর রোজ সোমবার দিন ধার্য্য করা হয়।সবকিছু বিবেচনা পূর্ব্বক রামু,উখিয়া ও টেকনাফ থেকে বিজয়ী তথাকথিত পূর্বপাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য ওসমান সরওয়ার আলম চৌধূরীকে ও বঙ্গবন্ধুর অতি ঘনিষ্ট কক্সবাজার থানার খরুলিয়ার জমাদার ফজল করিমকে(পরবর্তিতে কক্সবাজার সেচ্ছাসেবক বাহিনী প্রধান)শান্তিপূর্ণ উপায়ে নিরাপদে সভা অনুষ্ঠানের জন্য দায়িত্ব অর্পণ করা হয়।

জমাদার ফজল করিম ও ওসমান সরওয়ার আলম চৌধূরী রামুর মুক্তিযুদ্ধ ফেরত তরুন তুর্কিরা সহ স্থানীয় মুক্তিযুদ্ধের সংগঠকদের নিয়ে আলোচনাক্রমে রাজারকুলের বিজয়সভাকে সাফল্যমন্ডিত করার জন্য বিভিন্ন উদ্দ্যোগ গ্রহন করেন।তম্মধ্যে যুদ্ধফেরৎ মুক্তিযোদ্ধাদের মাধ্যমে কূখ্যাত জাফর মিয়া’র ঘর যাতে কেউ জ্বালিয়ে বা ভেঙ্গে দিতে না পারে তজ্জন্য জাফর মিয়ার বড় শত্রু মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক খ্যাতনামা জমিদার ঈশান পালের বড় ছেলে পরিমল পাল ও বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা জহরলাল পাল এবং বিশিষ্ট আনসার কমান্ডার ও মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হক সিকদারকে দায়িত্ব প্রদান করা হয়।নিয়তির করুন পরিহাস এই যে,কূখ্যাত জাফর মিয়ার নির্দ্দেশে বিশিষ্ট জমিদার ঈশান পালের ও রামু থানা অস্ত্রাগার দখলের অন্যতম আসামী আনসার কমান্ডার আবদুল হক সিকদারের বাড়ী জ্বালিয়ে পুড়িয়ে বা ভেঙ্গে দিয়ে ছারখার কিংবা লন্ডভন্ড অথবা লুঠতরাজ করা হয়-সেই কূখ্যাত অত্যাচারী জাফর মিয়ার ঘর ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছিলেন-যাঁরা অত্যাচার,অবিচার ও সমূহ নির্যাতন সহ্য করেছিলেন এবং মহান জনযুদ্ধের সাথী ছিলেন।এইসব জনযোদ্ধারাই সেদিন মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে কিভাবে ধারণ করতে হয়-তা শিখিয়েছিলেন।আইনকে যাতে কেউ হাতে তুলে না নেন-স্বাধীন দেশের মানুষকে নব্য স্বাধীনতা প্রাপ্ত স্বাধীন জনগোষ্টিকে তা জানাতে এঁদের মহানুভবতার দৃষ্টান্ত তুলে ধরার বিষয়ে ওসমান সরওয়ার আলম চৌধূরীর তখনকার রাতদিন পরিশ্রমের বিষয়টি প্রণিধানযোগ্য বটে।অবশ্য ১৬’ই ডিসেম্বরের পরপরই জাফর মিয়া ও কক্সবাজারের সাকাচৌ হিসাবে পরিচিত কূখ্যাত দিদার মিয়া সহ জাফর মিয়ার সবছেলেরাই তখন পালিয়ে বেড়াচ্ছিলো।

অবশেষে এলো কক্সবাজারের ইতিহাসের জাগ্রত বিজয়ী মহাজনতার মহাসমাবেশের সেই কাঙ্খিত দিনটি।কক্সবাজার মহুকুমা’র বিভিন্ন থানা ও গ্রাম থেকে যথাক্রমে মহেশখালী ও কুতুবদিয়া থেকে লন্চযোগে,টেকনাফ থেকে চকরিয়া পর্য্যন্ত সকল থানা থেকে ট্রাক বাস যোগে,রামু ও উখিয়া থেকে মিছিলের পর মিছিল।হাজারো জনতার বিজয় মিছিল বিশেষ করে অনেকগুলো লাটি মিছিল ছিলো দেখার মতো।জমাদার ফজল করিম ও রামু থানার তখনকার বিশিষ্ট ছাত্রযুবনেতা রামু থানার মেরোংলোয়ার ওবায়দুল হকের নেতৃত্বে (পরবর্তিতে জাসদ নেতা ও রামু ফতেখাঁরকুলের চেয়ারম্যান)কাউয়ারকোপের বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা ইপিআরের নূর মোহাম্মদ(মুক্তিযুদ্ধের সময় মেঝর খ্যাত যদিও মেঝর ছিলেননা তবুও স্থানীয় লোকজন সে নামে ডাকতো),মনির ঝিলের বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা নূরুল হক(পরবর্তিতে কাউয়ারকোপের চেয়ারম্যান ও রামু মুক্তিযোদ্ধা সংসদের চেয়ারম্যান)রামু চৌমুহনীর ছাত্র ইউনিয়নের নেতা দীপক বড়ুয়া(পরে অধ্যাপক ও অধ্যক্ষ রামু কলেজ),শেখর বড়ুয়া ও বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা আবু আহমদ,ছাত্রলীগের সূমথ বড়ুয়া,মাহবুব(পরে জাসদ ও বি এন পি নেতা,জোয়ারিয়ানালার চেয়ারম্যান)মেরোংলোয়ার গোলাম কবির সহ স্থানীয় আনসার বাহিনী,সেচ্ছাসেবকসহ অনেকেই মহাসমাবেশের শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য চতুর্দিকে বুহ্য রচনা করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কাজে ব্যস্ত ছিলো।বিরাট মাঠে তিল ধরনের জায়গা ছিলোনা।ইতিমধ্যেই কক্সবাজারের জনপ্রিয় ছাত্রনেতা যথাক্রমে কক্সবাজার মহকুমা ছাত্রলীগের সভাপতি উখিয়ার দিদারুল আলম চৌধূরী,কক্সবাজার মহকুমা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক কক্সবাজারের বিপ্লবী কন্ঠস্বর খ্যাত ছুরত আলম(পরবর্তিতে জাসদ নেতা),কক্সবাজার কলেজের নির্বাচিত ভিপি গর্জনিয়ার তৈয়বউল্লাহ(পরবর্তিতে জাসদ নেতা)অনুষ্টানে উপস্থিত হলে চতুর্দিকে গগনবিদারী মুহুর্মুহু শ্লোগানে চতুর্দিক মূখরিত হয়ে উঠে।অত:পর কক্সবাজার মহকুমা সংগ্রাম পরিষদের নেতারা এসে পৌঁছূলে পূরো ময়দান শ্লোগানে শ্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে উঠে।মাঠের বেশ দূরে চতুর্দিকের গাছগাছালীর উপরে অনেক ছোট ছোট ছেলেমেয়েদেরও সাধারণ মানুষের সাথে শ্লোগান দিতে দেখা গিয়েছিলো।অবশেষে ছাত্রলীগের ছূরত আলম মাইকের স্পীকার হাতে নিয়ে জনগনকে শান্ত হতে বললে চতুর্দিকে পিনপতন নীরবতা।কারো মূখে কোন কথা নেই।সংগ্রাম পরিষদের পক্ষে সভাপতির আসন গ্রহন করেন কক্সবাজার মহকুমা আওয়ামী লীগের সভাপতি জোয়ারিয়ানালার আবছার কামাল চৌধূরী।অনুষ্টানের প্রধান অতিথি ছিলেন কক্সবাজার মহকুমার ১৯৭০’সালের পাকিস্তান জাতীয় পরিষদে ভূমিধ্বস বিজয়ী টেকনাফের উকিল নূর আহমদ। তিনি পাকিস্তানের বিখ্যাত পার্লামেন্টারিয়ান সাবেক ডাকসূ ভি পি পাকিস্তান ডেমোক্রেটিক পার্টি প্রধান মৌলভী ফরিদ আহমদকে বিপুল ভোটে পরাজিত করেন।(পরবর্তিতে তিনি জাসদের অন্যতম নেতা ছিলেন) আসন গ্রহন করার পর যথাক্রমে পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদে বিজয়ী রামুর ওসমান সরওয়ার আলম চৌধূরী(পরবর্তিতে অধ্যক্ষ ও বিশিষ্ট সমাজ সেবক হিসাবে স্বীকৃতি অর্জন), চকরিয়ার জহিরুল ইসলাম চৌধূরী(পরবর্তিতে গনফোরামে যোগ দেন ও অন্যতম কেন্দ্রীয় নেতা ছিলেন), পূর্ব পাকিস্তান মোজাফ্ফর ন্যাপের কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সদস্য অধ্যাপক মোশতাক আহমেদ(পরবর্তিতে অধ্যক্ষ ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদের স্বীকৃতি অর্জন),মহেশখালীর উকিল মওদুদ আহমদ(পরবর্তিতে জাসদ নেতা)এবং তিন ছাত্রনেতা আসন গ্রহন করেন।

সভার শুরুতে পবিত্র কোরান তেলাওয়াত,পবিত্র গীতা ও পবিত্র ত্রিপিটক থেকে পড়ে শুনানোর পর পরই প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য ওসমান সরওয়ার আলম চৌধূরী আসন থেকে উঠে ঘোষনা দেন আজকের অনুষ্টান উদ্ভোধন করবে আপনাদের এলাকা’র
বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হক সিকদারের পুত্র রামু খিজারী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র বিপ্লবের অগ্নিঝরা দিনগুলোর অগ্নিস্বাক্ষী,স্বাধীনতা আন্দোলনের বলী,হারিয়ে যাওয়া লক্ষ শিশু কিশোরদের প্রতিনিধি,বোন শিরীণকে হারিয়ে মুক্তিযুদ্ধের অগ্নিগর্ভ থেকে বেরিয়ে আসা আপনাদের আমাদের সকলের সন্তান এস এম গিয়াসউদ্দিন।অবশ্য আগের দিন রাতে ওসমান সরওয়ার আলম চৌধূরী,পরিমল পাল,গিয়াসউদ্দিনের মা মরিয়ম বেগম চার পাঁচ ঘন্টা প্রশিক্ষণ প্রদান করেন।পরবর্তিতে জানা যায় যে-জাফর মিয়া সহ মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী সকল মহলকে বিজয় সভার গুরুত্ব ও এক ধরনের ঈঙ্গিত প্রদান আর পরবর্তি প্রজন্মকে দেশপ্রেমে উদ্ভুদ্ধ করার লক্ষ্যে এই সিদ্ধান্ত আগেই নেয়া হয়েছিলো।যা ছিলো দস্তুরমতো বিরাট চমক।

দেখতে ছোটখাট ছেলেটিকে টুলের উপর দাঁড় করিয়ে দেয়া হলে সারারাত ধরে শিখিয়ে দেয়ার বক্তব্যের সেদিনের সারসংক্ষেপ ও ম্যাসেজ ছিলো-“স্বাধীন বাংলাদেশ হিন্দু,বৌদ্ধ,খৃষ্টান ও মুসলমান একথায় সকলের।ধর্ম নিয়ে বাংলাদেশে রাজনীতির কবর ইতিমধ্যেই রচিত হয়ে গেছে।ধর্ম নিয়ে আবার কেউ রাজনীতি করতে চাইলে তার ভয়াবহ পরিনামের কথা সবাইকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে সাবধান করে দেয়ার বিষয়টি ছিলো বিজয়সভা’য় ছেলেটিকে দিয়ে বলানোর আসল কারন।নিয়তির কি করুণ পরিহাস-স্বাধীন বাংলাদেশে ধর্মই এখন রাজনীতির বর্ম হয়ে ইতিমধ্যেই ক্যান্সারের মতো তা ছড়িয়ে গেছে।অথচ সেই ছেলেটি তার কয়েক যুগ পরেও তা ভূলেনি।সাম্য,সামাজিক ন্যায় বিচার ও গনতান্ত্রিক আচরনের বিকাশ আর মানুষের মুক্তির সংগ্রাম এখন আরো বেশী দরকার বলে সে মনে করে।
অত:পর সেদিন পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক অনুষ্ঠান পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেন-রামু থানা আওয়ামী লীগের নির্বাহী সদস্য ও রাজারকুল আওয়ামী লীগের সভাপতি জাফর আলম সিকদার(পরবর্তিতে রাজার কুলের চেয়ারম্যান)।বক্তব্য প্রদান করেন যথাক্রমে ছাত্রনেতা তৈয়বউল্লাহ সিকদার,দিদারুল আলম চৌধূরী,ছূরত আলম।পরে উকিল মওদুদ আহমদ,জহিরুল ইসলাম চৌধূরী,অধ্যাপক মোস্তাক আহমেদ,ওসমান সরওয়ার আলম চৌধূরী,উকিল নূর আহমদ।পিনপতন নীরবতার মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধু ফিরে না আসা পর্য্যন্ত মুজিবনগর সরকারের অধীনে কিভাবে দেশ পরিচালিত হবে,জনগনের দায়িত্ব ও কর্তব্য বিষয়ে বিশ্লেষনধর্মী বক্তব্য প্রদান করেন সকলেই।অত:পর সভার সভাপতি আবছার কামাল চৌধূরী উপস্থিত জনগনকে দশ বারোটি নির্দেশাবলী পড়ে শুনান।আইন যেনো কেউ হাতে তুলে না নেন-সে বিষয়ে জনগনকে সতর্ক থাকতে বলেন।পরবর্তি নির্বাচন না হওয়া পর্য্যন্ত প্রতিটি ইউনিয়নে পন্চায়েত গঠনের জন্য নির্দেশ দেয়া হয়।মাগরিবের বেশ কিছুক্ষন পর সভাপতি অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষনা করার পর পরই মশাল মিছিল সহকারে বিজয়ী বীর জনতার বিজয় মিছিল স্ব স্ব গন্তব্যে প্রস্থান করেন।উল্লেখ্য-সেদিনের মহাসমাবেশের শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষায় বিজয়ীর বেশে বেরিয়ে আসা মুক্তিযোদ্ধাদের কড়া প্রহরা সকলের আশীর্বাদ ও সুনাম কুড়িয়েছিলো।কক্সবাজারের ইতিহাসে এতো দূ:খ বেদনার মাঝেও বিজয়ের খূশীর আমেজ,কোলাকুলি ও মত বিনিময়ের এমন আন্তরিক দৃশ্য আর কখনও দেখা যায়নি।এরকম ঐক্যমত্যের,আন্তরিকতার স্পর্শের শীতের হিমেল হাওয়ার মধ্য দিয়ে জনতার সমাগমও আর হয়নি।সম্ভাবনার কথা বাদই দিলাম।

১৫’ই জানুয়ারী,লাসভেগাস।
নেভাদা,যুক্তরাষ্ট্র।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •