ডেস্ক নিউজ:
মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা ৯ লাখের বেশি রোহিঙ্গার বায়োমেট্রিক নিবন্ধন শেষ হয়েছে। কিন্তু এসব তথ্য রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বৈঠকে বসার জন্য যথেষ্ট নয়। এর জন্য মিয়ানমারের চাহিদা অনুযায়ী তথ্য সংগ্রহ করতে হবে বাংলাদেশকে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র এসব তথ্য জানিয়েছে।

সোমবার (১৫ জানুয়ারি) মিয়ানমারে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে দু’দেশের প্রথম যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক। বৈঠকে যোগ দিতে পররাষ্ট্র সচিবের নেতৃত্বে ১৫ সদস্যের প্রতিনিধি দল ইতোমধ্যে মিয়ানমারে পৌঁছেছেন। এই বৈঠকে গত ১৯ ডিসেম্বর সই করা টার্মস অব রেফারেন্স অনুযায়ী একটি ফিজিক্যাল এগ্রিমেন্ট সই করবে দু’দেশ। ‘এগ্রিমেন্ট অন রির্টান অব ডিসপ্লেস পারসন ফর্ম রাখাইন স্টেট’ শীর্ষক চুক্তি অনুযায়ী এ চুক্তি সই হবে।

এ প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আমরা এখানে বায়োমেট্রিক নিবন্ধনের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের তথ্য সংগহে অনেক দূর এগিয়েছি। মিয়ানমারের কাছেও রোহিঙ্গাদের তথ্য রয়েছে। প্রত্যাবাসনের জন্য আমাদের দেয়া তালিকা তাদের সেই তালিকার সঙ্গে মিলিয়ে দেখবে দেশটি। কোনো ব্যক্তির তথ্য না মিললে তাকে তারা ফেরত নাও নিতে পারে। এ জন্য আমাদের আরও কিছু তথ্য সংগ্রহ করতে হবে।

এর আগে শরণার্থী ত্রাণ ও পুনর্বাসন কমিশনার মোহাম্মদ আবুল কালাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘একটি রোহিঙ্গা পরিবারের সব সদস্যের একসঙ্গে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হবে। এ জন্য পরিবার অনুযায়ী তালিকা প্রস্তুত করতে হবে আমাদের।’

বর্তমানে বাংলাদেশের তথ্য ভাণ্ডারে নাম, ছবি, বাবা-মার নাম, জন্ম তারিখ, লিঙ্গ, মিয়ানমারের ঠিকানা এবং বাংলাদেশে কখন এসে পৌঁছেছে এসব তথ্য রাখা হচ্ছে।

পাসপোর্ট অধিদফতর সূত্র জানায়, মূলত রোহিঙ্গাদের বায়োমেট্রিক নিবন্ধন করা হচ্ছে যাতে তারা বাংলাদেশের পাসপোর্ট না তৈরি করতে পারে। তবে এসব তথ্য প্রত্যাবাসনের কাজে ব্যবহার করতে হলে আরও কিছু তথ্য যোগ করতে হবে।

বায়োমেট্রিক নিবন্ধনের জন্য সংগ্রহ করা তথ্য যে প্রত্যাবাসনের জন্য যথেষ্ট নয় সে বিষয়ে আগেই শঙ্কা প্রকাশ করেছিল জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর।

এদিকে মিয়ানমারের সমাজকল্যাণ, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী উইন মায়াট আই’র বরাত দিয়ে দেশটির গণমাধ্যম জানায়, ২২ জানুয়ারি থেকে তারা বাংলাদেশে থাকা রোহিঙ্গাদের গ্রহণ করবে। রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে আনার জন্য এবং তাদের কাগজপত্র যাছাই-বাছাইয়ের জন্য প্রতিনিধিরা তৈরি। ইতোমধ্যে বাংলাদেশে ফর্ম পাঠানো হয়েছে, যা রোহিঙ্গারা পূরণ করলে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ তাদের কাছে পাঠাবে। তবে এখন পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ একটিও ফর্ম বাংলাদেশ থেকে ফেরত পাঠানো হয়নি।

গত ২৩ নভেম্বর মিয়ানমারে রাজধানী নেপিডোতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী ও মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় পরামর্শক অং সান সু চির অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী তিন্ত সোয়ে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেন। ওই চুক্তি অনুসারে, ২২ জানুয়ারির মধ্যে প্রত্যাবাসন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। পাশাপাশি, প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া তদারকি করতে দু’দেশের পররাষ্ট্র সচিবের নেতৃত্বে ৩০ সদস্যের জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপটি গঠিত হয়।

তবে রোহিঙ্গাদের তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু করা যায়নি বলে জানান শরণার্থী ত্রাণ ও পুনর্বাসন কমিশনার আবুল কালাম। এ কাজে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি রাখা হলেও অনেক বিভাগ কমিটিতে তাদের প্রতিনিধিদের নাম সময় মতো পাঠায়নি বলে কাজে বিলম্ব হয়েছে বলে জানান তিনি। এ কারণে ২২ জানুয়ারি থেকে প্রত্যাবাসনের কাজ শুরু হওয়া নিয়ে শঙ্কাও প্রকাশ করেন তিনি।

এদিকে মিয়ানমার জানায়, রাখাইনে ফিরতে হলে বাংলাদেশে যাওয়া রোহিঙ্গাদের অবশ্যই মিয়ানমারের বাসিন্দা হওয়ার প্রমাণ দিতে হবে।

এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জাগো নিউজকে বলেন, ‘চুক্তি অনুযায়ী ২২ জানুয়ারির মধ্যে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু না করতে পারলেও খুব শিগগিরই এ কাজ শুরু হবে। দু‘দেশই এ প্রক্রিয়াটি শুরু করতে আগ্রহী। আশা করছি, ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করতে পারব।’

বাংলাদেশ-মিয়ানমার রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন চুক্তি অনুযায়ী, কেবল স্বেচ্ছায় ফিরে যেতে আগ্রহী রোহিঙ্গাদেরই মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হবে। সেখানে যেতে আগ্রহী রোহিঙ্গাদের অবশ্যই মিয়ানমারের নাগরিক হতে হবে। এক্ষেত্রে তাদের প্রমাণপত্র দেখাতে হবে। কোনো রোহিঙ্গা নাগরিককেই জোরপূর্বক মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো যাবে না।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •