হাফেজ মুহাম্মদ কাশেম, টেকনাফ :

১৪ জানুয়ারী থেকে টেকনাফ উপজেলায় শুরু হচ্ছে ‘খানা তথ্য ভান্ডার শুমারী’। একটানা চলবে ২ ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো’র ন্যাশনাল হাউজ হোল্ড ডাটা বেইজ (এনএইচডি) প্রকল্পের উদ্যোগে দেশের সকল খানার আর্থ-সামাজিক ও জনমিতিক তথ্য সংগ্রহ করে একটি জাতীয় তথ্য ভান্ডার তৈরী করতে এ শুমারী করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। এবারে হচ্ছে সারা দেশের ঢাকা বিভাগের ১৩টি জেলা, চট্রগ্রাম বিভাগের ১১টি জেলা, ময়মনসিংহের ১টি জেলা, মোট ২৫টি জেলা, ৬টি সিটি কর্পোরেশন, ২০০টি উপজেলায় ৩০৫৪টি জোনে একযোগে চলবে এ শুমারী। রোহিঙ্গারা এ শুমারীর অন্তর্ভুক্ত হবেনা। যারা রোহিঙ্গা নারী বিয়ে করেছেন অথবা রোহিঙ্গা যুবক বাংলাদেশী নারী বিয়ে করেছেন তারাও বাদ যাবে।

কয়েক যুগ ধরে টেকনাফে উপজেলা পরিসংখ্যান অফিসার নেই। ‘খানা তথ্য ভান্ডার শুমারী’র কাজ তদারক করতে নতুনভাবে পুলিশ সুপারের চাকরী পাওয়া ঢাকা থেকে জিসান নিয়াজ নামে একজন উপজেলা পরিসংখ্যান অফিসারকে টেকনাফে পাঠানো হয়েছে।

টেকনাফ উপজেলায় সুষ্টভাবে শুমারী সম্পন্ন করতে ১১টি জোনে ১১ জন জোনাল অফিসার, ৫২ জন সুপারভাইজার, ২৮৩ জন তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগ দিয়ে ইতিমধ্যে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করা হয়েছে। একজন তথ্যসংগ্রহকারী ২০০-২২০টি খানা বা ঘরের তথ্য সংগ্রহ করবেন বলে জানা গেছে। তথ্য সংগ্রহকারীগণ প্রত্যেক বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করবে। শুমারীর জন্য নির্ধারিত ফরমের ৪৩টি কলাম পুরণ করতে হবে।

টেকনাফ উপজেলার ১টি পৌরসভা এবং ৬টি ইউনিয়নের জন্য নির্ধারিত ১১টি জোনে ১১ জন জোনাল অফিসার হলেন পৌরসভায় পরিসংখ্যান অফিসের আমজাদ হোসেন, ১নং হোয়াইক্যং ইউনিয়নে একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের ওবাচিং মার্মা ও কাঞ্জরপাড়া সরকারী প্রাইমারী স্কুলের হামিদুল হক। ২নং হ্নীলা ইউনিয়নে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের আমির হোসেন ও একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের বিশ্বজিৎ ভট্রাচার্য্য। ৩নং টেকনাফ সদর ইউনিয়নে পরিসংখ্যান অফিসের জুয়েল চন্দ্র দেব ও নুরুল আফসার। ৪নং সাবরাং ইউনিয়নে যুব উন্নয়ন অফিসের মঞ্জুর আলম ও সমবায় অফিসের মনির আহমদ। ৫নং বাহারছড়া ইউনিয়নে কৃষি বিভাগের মোস্তাক উদ্দিন। ৬নং সেন্টমার্টিনদ্বীপ ইউনিয়নে ক্রিড প্রাইমারী স্কুলের ইমরান হোসেন।

রোহিঙ্গারা বাদ :

রোহিঙ্গারা এ শুমারীর অন্তর্ভুক্ত হবেনা। যারা রোহিঙ্গা নারী বিয়ে করেছেন অথবা রোহিঙ্গা যুবক বাংলাদেশী নারী বিয়ে করেছেন তারাও বাদ যাবে।

যেসব কাগজপত্র দেখাতে হবে :

তথ্য প্রদানের সময় তথ্য সংগ্রহকারীকে সকল সদস্যের জাতীয় পরিচয়পত্র ও জন্ম সনদ দেখাতে হবে।

৪৩টি কলাম :

শুমারীর জন্য নির্ধারিত ফরমের ৪৩টি কলাম পুরণ করতে হবে। তা হচ্ছে, ১. খানার নম্বর, ২. বর্তমান ঠিকানা, ৩. বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা, ৪. স্থায়ী ঠিকানা, ৫. বাসগৃহের মালিকানা, ৬. বসবাসের কক্ষ সংখ্যা, ৭. বৈদ্যুতিক অবস্থা, ৮. পৃথক খাবার ঘর, ৯. পৃথক রান্না ঘর, ১০. প্রধান ঘরের দেয়াল, ১১. প্রধান ঘরের ছাদ, ১২. পায়খানার ধরণ, ১৩. খাবার পানির উৎস, ১৪. কৃষি বা অকৃষি শ্রমিক, ১৫. মালিকানাধীন মোট জমি, ১৬. মালিকানাধীন পরিসম্পদগুলো, ১৭. গত ১ বছরের মধ্যে বিদেশী অর্থ গ্রহণ, ১৮. গত ১ বছরের মধ্যে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসুচীর সহায়তা, ১৯. সকলের মোবাইল নম্বর, ২০. মোট সদস্য সংখ্যা, ২১. জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, ২২. জন্ম সনদের নম্বর, ২৩. নাম, ২৪. জন্ম তারিখ, ২৫. জন্ম স্থান, ২৬. খানা প্রধানের সাথে সম্পর্ক, ২৭. লিঙ্গ, ২৮. ধর্ম, ২৯. বৈবাহিক অবস্থা, ৩০. শিক্ষা, ৩১. পেশা, ৩২. জাতীয়তা, ৩৩. আবাসিক অবস্থা, ৩৪. অনাবাসিক হলে বর্তমান ঠিকানা, ৩৫. মাতার নাম, ৩৬. পিতার নাম, ৩৭. স্বামী-স্ত্রীর নাম, ৩৯. অতিরিক্ত ফরম, ৪০. সম্পুর্ণ প্রশ্ন বাতিল, ৪১. তথ্য সংগ্রহের তারিখ, ৪২. তথ্য প্রদানকারীর স্বাক্ষর, ৪৩. গণণাকারীর নাম। ফরমে ৩৮নং কলাম নেই।

খানা বলতে বুঝায় :

খানা বলতে বুঝানো হয়েছে যারা এক পাকে খাবার খান এবং এক সঙ্গে বসবাস করেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •