ত্রাণ বিক্রি করে দিচ্ছে রোহিঙ্গারা

তৌহিদুল আরব, কুতুপালং থেকে ফিরে :
টাকার প্রয়োজনে দেশী-বিদেশী সাহায্য সংস্থা, বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের দেয়া ত্রাণ বিক্রি করে দিচ্ছেন রোহিঙ্গারা। বাজার মূল্যের চেয়ে অর্ধেক দামে এসব ত্রাণ বিক্রি করা হচ্ছে শিবিরগুলোতে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা এসব ত্রাণসামগ্রী কিনে বেশি দামে বিক্রি করছে। আবার অনেকেই নিজেদের চাহিদা মোতাবেক কিনে নিচ্ছেন।

সূত্র জানায়, ত্রাণ কিনতে রোহিঙ্গা ক্যাম্পভিত্তিক কয়েকটি সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। শিবিরগুলোতে ত্রাণ কিনতে সিন্ডিকেট সদস্যদের হুড়োহুড়ি করতেও দেখা গেছে। এসব ত্রাণ কিনে নিয়ে সিন্ডিকেট সদস্যরা প্রথমে স্থানীয় বিভিন্ন দোকান ও বাসা-বাড়িতে মজুত করেন।

পরে তাদের সুবিধা অনুযায়ী নানা স্থানে ত্রাণ পাচার করে থাকে। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে এসব সিন্ডিকেট সদস্যরা একত্রে মালামালগুলো পাচার না করে ভেঙে ভেঙে বিভিন্ন গাড়িতে করে দেশের নানা স্থানে পাচার করে দেয়।

সরেজমিনে কুতুপালং, বালুখালি, পালংখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও বাজার ঘুরে দেখা গেছে, রোহিঙ্গাদের দেয়া সব নিত্য প্রয়োজনীয় ত্রাণ সামগ্রী অর্ধেক দামে পাওয়া যাচ্ছে শিবিরগুলোতে। যার ফলে বাজার ছেড়ে স্থানীয়রাও রোহিঙ্গাদের ত্রাণ সামগ্রী কিনছে।

বাজারে এক কেজি চালের দাম ৫৫ থেকে ৭০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। সেখানে রোহিঙ্গারা ত্রাণের চাল বিক্রি করছে মাত্র ৩২-৩৫ টাকা কেজি দরে।৬০ টাকা কেজি দরে চিনি কিনে রোহিঙ্গাদের মাঝে দেয়া হচ্ছে। রোহিঙ্গারা সেই চিনি বিক্রি করছে মাত্র ৩০ টাকায়।

বাজারে প্রতি কেজি ডাল ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সেখানে রোহিঙ্গারা বিক্রি করছে ৭০ টাকায়। ১২০ টাকা লিটারের সয়াবিন তেল মাত্র ৬০ টাকায় বিক্রি করছে রোহিঙ্গারা। এছাড়া, ৫০০ গ্রাম ডানো দুধ বিক্রি করছে ১০০ টাকায়।

কুতুপালং এলাকার একাধিক মুদি দোকানদার জানান, প্রথমে যখন রোহিঙ্গারা আসা শুরু করে হঠাৎ করে আমাদের বেচা-বিক্রি বেড়ে যায়। অনেক ক্ষেত্রে আমরা পণ্যের দামও বেশিতে বিক্রি করেছি। আড়তদারের কাছ থেকে মালামাল এনে যোগান দিতেও আমাদের কষ্ট হয়েছে। এখন আমাদের বিক্রি নেই বললেই চলে। স্থানীয় অনেকেই আমাদের কাছ থেকে না কিনে রোহিঙ্গাদের দিকে ঝুঁকে পড়েছে।

বালুখালীতে আশ্রয় নেয়া মিয়ানমারের মেরুল্লাহ গ্রাম থেকে আসা বৃদ্ধ আবু শামা বলেন, আমার বাড়িতে অনেক ত্রাণ আছে। এখন টাকার প্রয়োজন তাই ত্রাণ বিক্রি করে দিচ্ছি। এত কম দামে বিক্রি করছেন কেন- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি, আমার টাকার প্রয়োজন। তাছাড়া, দাম কম না হলে কেউ কি কিনবে?

কুতুপালং বাজারে চাল বিক্রি করতে আসা রোহিঙ্গা আবদুল মোনাফ বলেন, গত ২০ দিনে বাসায় পাঁচ বস্তা চাল জমা হয়েছে। এত চাল আমাদের লাগবে না। প্রতিদিন চাল পাচ্ছি। তাই টাকার প্রয়োজনে দুই বস্তা চাল ৩২ টাকা কেজি দরে বিক্রি করে দিয়েছি।

কুতুপালং এ ১নং ত্রাণ কেন্দ্র গিয়ে দেখা গেছে, আবু সিদ্দিক নামের এক রোহিঙ্গা একটি চেয়ার, একটি পাটি ও একটি বালতি পেয়েছেন। ত্রাণ কেন্দ্র থেকে বের হয়ে সেসব জিনিস মাত্র ২০০ টাকায় বিক্রি করে দিচ্ছেন।

এভাবে প্রতিদিন রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে বিক্রি হচ্ছে ত্রাণ সামগ্রী। আর এর সুবিধা ভোগ করছেন সিন্ডিকেট সদস্যরা।

সর্বশেষ সংবাদ

ভারুয়াখালীতে স্কুলছাত্রকে অপহরণের চেষ্টা  ‘ভাই গ্রুপের’

আজ আন্তর্জা‌তিক মাতৃভাষা দিবস

মুজিবুর রহমান ও এমপি জাফরের দোয়া নিলেন ফজলুল করিম সাঈদী

মাতৃভাষার প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছে রাখাইনদের নতুন প্রজন্ম

শুদ্ধ সংস্কৃতির চর্চার মধ্য দিয়ে অপশক্তিকে রুখতে হবে- মেয়র মুজিব

একুশে ফেব্রুয়ারি : প্রাপ্তি ও প্রত্যাশা

টেকনাফে সাড়ে ১৫ লক্ষ টাকার স্বর্ণালংকার উদ্ধার

চকরিয়ায় শিশু ও নারী নির্যাতন মামলার ৫ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামী গ্রেপ্তার

২০ হাজার ইয়াবাসহ দুইজন আটক

এডভোকেট রানা দাশগুপ্তের সাথে কক্সবাজার জেলা নেতৃবৃন্দের মতবিনিময়

ইসলামে মাতৃভাষার গুরুত্ব ও তাৎপর্য

ঈদগাঁওতে পুজা কমিটির সম্মেলন নিয়ে সংঘাতের আশংকা

কক্সবাজার সিটি কলেজে শিক্ষকদের জন্য আইসিটি প্রশিক্ষণ শুরু

উখিয়ায় হাতির আক্রমণে রোহিঙ্গা যুবকের মৃত্যু

এস আলম গ্রুপের ৩ হাজার ১৭০ কোটি টাকার কর মওকুফ

মালয়েশিয়ায় ভবনে আগুন : বাংলাদেশিসহ নিহত ৬

মহেশখালীতে মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে মোস্তফা আনোয়ার

চকরিয়ায় ইয়াবাসহ দুই ব্যবসায়ী আটক

চকরিয়ার চেয়ারম্যান পদে ২ জনসহ ৫ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল

কোর্টরুমে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে হবে : প্রধান বিচারপতি