খরুলিয়ায় অভিভাবকের হাত-পা বেঁধে মারধর: অপরাধীদের দৌঁড়ঝাপ

ইমাম খাইর, সিবিএন:
কক্সবাজার সদরের খরুলিয়ায় অভিভাবকের হাত-পা বেঁধে নির্যাতনকারী শিক্ষক নামধারী লোকদের দৌঁড়ঝাপ শুরু হয়েছে।
ঘটনার মূল হুতা মাস্টার জহিরুল হক, মাস্টার বোরহান উদ্দিন, মাস্টার নজিবুল্লাহ, নুরুল হক লাপাত্তা হয়ে গেছে। ঘটনাটি ধামাচা দিতে তারা রাতভর বিভিন্ন নেতার শরণাপন্ন হয়।
তবে, সোমবার (৮ জানুয়ারী) সকাল পর্যন্ত কোন কূল কিনারা করতে না পেরে উল্টো ঘটনার শিকার আয়াত উল্লাহকে ফঁসাতে অপচেষ্টা চালাচ্ছে একটি মহল। এমনকি স্থানীয়দের বিভ্রান্ত করে তারা ইতোমধ্যে মানববন্ধন করারও অভাস দিয়েছে। বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে প্রশাসনকে। যদিওবা প্রশাসন এখনো নিরপেক্ষ ভূমিকায় রয়েছে। সোমবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যাচ্ছে প্রশাসন।
এ প্রসঙ্গে কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নোমান হোসেন জানান, এমন একটি দুঃখ ও লজ্জাজনক ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার কারো সুযোগ নেই। প্রশাসন এ ব্যাপারে কঠোর অবস্থানে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
স্কুলের অনিয়মের বিষয়ে জানতে চেয়ে কক্সবাজার সদরের ঝিলংজা খরুলিয়া উচ্চবিদ্যালয় মাঠে রবিবার (৭ জানুয়ারী) সকাল ১০টায় আয়াত উল্লাহ নামক অভিভাবকের উপর ন্যাক্কারজনক হামলার ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় পুরো এলাকায় তোলপাড় চলছে। ঘটনায় জতিড়দের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করেছে স্থানীয়রা। ঘটনার শিকার আয়াত উল্লাহ খরুলিয়া ঘাটপাড়া এলাকার মাওলানা কবির আহমদের ছেলে। তিনি পেশায় চিত্রশিল্পী।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি রনজিত কুমার বড়ুয়া জানান, ঘটনার পরপরই অভিযান চালানো হয়েছে। সবাই পালিয়ে গেছে। কাউকে পাওয়া যায়নি। ন্যাক্কারজনক ঘটনায় জড়িতদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করে জানা গেছে, আয়াত উল্লাহর ছেলে শাহরিয়ার নাফিস আবির খরুলিয়া কেজি এন্ড প্রি-ক্যাডেট স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেনীর ছাত্র। প্রথম শ্রেনীতে ছেলে কেন এ প্লাস পায়নি? তা জানতে রবিবার সকালে স্কুলে যায় আয়াত উল্লাহ। পূর্বঘোষণা ছাড়াই ভর্তি ও মাসিক কেন বাড়িয়েছে? তাও জিজ্ঞেস করে অভিভাবক আয়াত উল্লাহ। এ নিয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষক মাস্টার বোরহান উদ্দিনের সাথে কথা কাটাকাটি হয়। এ সময়ে পার্শ্ববর্তী খরুলিয়া উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জহিরুল হককে ডাক দেয় বোরহান। স্কুল আঙ্গিনায় শুরু হয় ত্রি-মুখি তর্ক বিতর্ক। ঘটনাটি হাতাহাতির পর্যায়ে চলে যায়। এ সময় আয়াত উল্লাহ ছিল সম্পূর্ণ একা।
মাস্টার জহিরুল হক আয়াত উল্লাহকে প্রশ্ন করে, কেন এসব জানতে চাচ্ছ? এতসব জানার তোমার কি দরকার? প্রশ্ন করে ধাক্কা দেয়। বোরহান উদ্দিনও মারে আরেক ধাক্কা। মাটিতে পড়ে যায় অসহায় অভিভাবক আয়াত উল্লাহ। এরপর রশি দিয়ে তার হাত ও পা বেঁধে ফেলা হয়। মারধর করতে থাকে দুই শিক্ষকসহ তাদের লেলিয়ে দেয়া বাহিনী। আয়াত উল্লাহকে লাথি ও থুথু মারে শিক্ষক জহিরুল হক ও বোরহান উদ্দিন। ঘটনায় কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পায়নি। এ যেন আরেক নব্য জাহেলিয়াত!
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, আয়াত উল্লাহকে এমনভাবে মারা হচ্ছে যেন সে একজন দাগি আসামী, চোর বা বড় সন্ত্রাসী। মধ্যযুগীয় কায়দায় তাকে নির্যাতন করা হলেও কোন শিক্ষক বা ছাত্রছাত্রী তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে যায়নি। সবাই দর্শকের ভূমিকায় ছিল। পরে শুর চিৎকার শুনে স্কুলের আঙ্গিনায় গিয়ে পৌঁছে পথচারীরা। শিক্ষক-ছাত্রদের পায়ের নীচ থেকে তাকে উদ্ধার করে। শিক্ষক নামধারী ওই নরপশুদের ধিক্কার জানিয়েছে এলাকাবাসী।
ঘটনার বিষয়ে আয়াত উল্লাহর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দুই স্কুলে প্রায় সময় অনিয়ম করা হয়। কিছু দিন আগে কোন ধরণের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ছাড়া শিক্ষক নিয়োগ করা হয় খরুলিয়া উচ্চবিদ্যালয়ে। কেজি স্কুলে নানা অনিয়ম রয়েছে। পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে অনিয়ম করে অনেক শিক্ষক। এ নিয়ে অভিভাবকদের মাঝে চরম ক্ষোভ রয়েছে দীর্ঘ দিন ধরে।
তিনি বলেন, আমার ছেলের কাঙ্খিত ফলাফল কেন হয়নি? কোন যুক্তিতে ভর্তি ফি ও মাসিক বেতন বাড়ানো হয়েছে? জানতে চাওয়ায় আমার উপর নির্যাতন করা হয়েছে। দুই শিক্ষকই এই ঘটনায় নেতৃত্ব দিয়েছে। মাস্টার জহিরুল হক, মাস্টার নজিবুল্লাহ, নুরুল হকসহ আরো বেশ কয়েকজন শিক্ষক আমার উপর নির্যাতনে সরাসরি জড়িত।
কেন এমন ঘটনা সৃষ্টি করা হয়েছে? জানতে চাওয়া হয় খরুলিয়া উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জহিরুল হকের কাছে। তিনি বলেন, আয়াত উল্লাহ আমাদের স্কুলের ছাত্র ছিল। বেয়াদবি করায় তাকে এমন শাস্তি দেয়া হয়েছে। এমনকি আর কোন দিন ‘বেয়াদবি করবেনা’ মর্মে মুছলেকায় তাকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।
তবে, একজন শিক্ষক হিসেবে হাত-পা বেঁধে মারধর করা উচিৎ হয়েছে কিনা? জানতে চাইলে তিনি ঘটনার সঙ্গে নিজেকে জড়িত নয় বলে দাবী করেন। তিনি বলেন, ঘটনাটি ক্ষুব্ধ লোকজন ঘটিয়েছে।
অভিযুক্ত অপর শিক্ষক বোরহান উদ্দিনের মুঠোফোনে (০১৮৫১২৩৫৯৫০) কল করলে ওপার থেকে নিজেকে বোরহান উদ্দিন নয় দাবী করে বলেন, ভর্তি ফি-মাসিক ফি ইত্যাদি বিষয়ে স্কুল পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্ত মতে হয়। আমাদের কাছে জানতে চাওয়ায় আয়াত উল্লাহকে কমিটির কাছে যেতে বলা হয়। তাতে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে আমাদের সঙ্গে বিতর্কে জড়িয়ে যান…এতটুকু উত্তর দিয়ে তিনি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। নিজের সঠিক পরিচয় দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন ওই উত্তরদাতা।
কিছুক্ষণ পরে একই ব্যক্তি কল করে বলেন, ০১৮৩৪০৯৫৩৯০ এটি বোরহান স্যারের নাম্বার। কল দিলে বিস্তারিত জানবেন। কিন্তু ওই নাম্বারে ফোন করেও কোন সাড়া মেলেনি।
আয়াত উল্লাহকে যারা মারধর করছে সেখানে লুঙ্গিপরা এরা কারা? জিজ্ঞেস করলে এগুলো স্কুলের হোস্টেলের ছাত্র বলে উত্তর দেন।

কক্সবাজার নিউজ সিবিএন’এ প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।

সর্বশেষ সংবাদ

নবনির্বাচিত কক্সবাজার প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দকে টুয়াকের শুভেচ্ছা

বিএনপি নেত্রী নিপুন রায় ও বেবী নাজনীন আটক

চবিতে ফক্সি পরীক্ষায় ভর্তি, মহেশখালীর শিক্ষার্থী আটক

শেরপুরে সম্মাননা পেলো কক্সবাজার ব্লাড ডোনারস সোসাইটি

পরীক্ষা শেষ, রেজাল্ট দেখে যেতে পারেনি মিশুক

কক্সবাজার সৈকতের বালিয়াড়িতে দিবারাত্রির বীচ-কাবাডি শুরু

শাহজাহান চৌধুরীর দলীয় মনোনয়নপত্র জমা

খাশোগি হত্যায় ৫ জনের মৃত্যুদণ্ড চায় সৌদি আরব

সূর্য, তারা, গামছা ছেড়ে ধানের শীষে আস্থা

আবু বকরসহ মহেশখালীর ৩ নেতা ঢাকায় গ্রেফতার

মুখ খুললেন বিএনপির ‘সংস্কারপন্থি নেতা’ ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ সহিদুজ্জামান

কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সভাপতি মাহবুবর রহমান সম্পাদক আবু তাহের চৌধুরী

বালুখালির লাকড়ি বেপারি সরওয়ার রাতারাতি কোটিপতি!

রোহিঙ্গাদের বিক্ষোভে আটকে গেলো প্রত্যাবাসন

Our AIM Foundation Medical & Humanitarian Mission Trip

জামিন পেলেন শহিদুল আলম

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় মৃত্যু ঝুঁকিতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

কক্সবাজার-৩ আসনে আ’লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী নাজনীন সরওয়ার কাবেরী

নয়া পল্টনে বিএনপির নাশকতা জাতির জন্য অশনি সংকেত: মেয়র নাছির

সুষ্ঠু নির্বাচন বনাম অসুস্থ মনোনয়ন!