নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে তীব্র শীতে কাঁপছে রোহিঙ্গা শিশুরা

নুরুল কবির নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত থেকে ফিরে:

বান্দরবান সীমান্তে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা শিশুরা শীতবস্ত্র না থাকায় তীব্রশীতে কাপছে । মিয়ানমারের সাময়িক বাহিনীর নির্যাতনে পালিয়ে আসা বান্দরবান সীমান্তের নাইক্ষংছড়ি উপজেলার ৪টি সীমান্ত পয়েন্টের শরণার্থী ক্যাম্পে এখনও অবস্থান করছে প্রায় ১৬ হাজার রোহিঙ্গা। এসব রোহিঙ্গার ৩টি ক্যাম্পে নানাবয়সী শরণার্থীদের মাঝে প্রশাসনসহ বিভিন্ন সংস্থা ও সংগঠনের উদ্যোগে কিছু কিছু শীতবস্ত্র বিতরণ করা হলেও দোছড়ি ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী দুর্গম বাহেরমার এলাকার পাহাড়ের পাদদেশে স্থাপিত অস্থায়ী রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পে আশ্রিত পরিবারের ১৭৫টি শিশুর ব্যবহারের জন্যে নেই কোন শীতবস্ত্র। বড়রা কোন রকম সহ্য করলেও তীব্র শীতে কষ্ট পাচ্ছে আশ্রয় নেওয়া শিশুরা।এর ফলে কোন কোন শিশু আক্রান্ত হচ্ছে ডয়িরিয়া ও নিউমোনিয়ায়সহ ঠান্ডাজনিত রোগে জানিয়েছেন শিশুর অভিবাভকরা।

নাই্যক্ষং ছড়ি উপজেলার দোছড়ি ইউনিয়নের দূর্গম সীমান্ত এলাকায় এ ক্যাম্পটি অবস্থিত।এখানে আশ্রয় নিয়েছে মোট ৭৮ টি পরিবার। তারা সবাই মিয়ানমার সীমান্তের আমতলা গ্রাম থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। দূর্গম অঞ্চল ও অনুন্নত যাতায়ত ব্যবস্থার কারনে সরকারী ত্রাণ ছাড়া বিভিন্ন সংস্থা ও সংগঠনের উদ্যোগে কোন সাহায্য এ ক্যাম্পে কখনো আসেনি। মাসে দুইবার সরকারী ত্রাণ ছাড়া অন্য কিছুর দেখা মেলেনি তাদের। বাহেমারের এ ক্যাম্পের মোট জনসংখ্যা ৩৬৮ জন এর মধ্যে ১৭৫ জনই কম বয়সী শিশু। পলিথিনে মোড়ানো ক্যাম্পের ছোট ছোট ঘর গুলোর কোনটিতে ৬ জন কোনটিতে ৯ জন আবার কোনটিতে ১১জন ও আশ্রয় নিয়েছে। দিনের বেলা কোন রকম রোদে বসে কাটিয়ে দিলেও রাতের বেলা শীতে কষ্ট পাচ্ছে ক্যাম্পের রোহিঙ্গারা। পাহাড়ী এলাকায় শীতকালে এমনিতেই শীতের প্রকোপ বেশী তার উপর গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে এলাকায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বৃদ্ধির ফলে শীতের তীব্রতা আরো বেড়ে গেছে। বড়রা কোন রকম সহ্য করলেও তীব্র শীতে কষ্ট পাচ্ছে শিশুরা। ক্যাম্পের কোন শিশুর গায়ে শীতবস্ত্র নেই। সরকারী ভাবে কম্বল বিতরন করা হলেও শীতবস্ত্র না থাকায় তীব্র শীতে কম্বল দিয়ে শীত নিবারন করতে পারছে না ক্যাম্পে থাকা রোহিঙ্গা শিশুরা।এর ফলে কোন কোন শিশু আক্রান্ত হচ্ছে নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়াসহ ঠান্ডা জনিত রোগে আত্রুান্ত হচ্ছে।

ক্যাম্পে আশ্রিত আছিউল্লাহ বলেন রাত বাড়ার সাথে সাথে কুয়াশায় পলিথিন ভিজে যায় আর বেড়ে যায় শীতের প্রকোপ তখন ছেলে মেয়েদের নিয়ে একই কম্বলের নিচে জড়োসড়ো হয়ে বসে থাকি তাও ঠান্ডা লাগে। বাচ্চাদের শীতের কাপড় না থাকায় তারা বেশী কষ্ট পায় অনেকের ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়া হয়েছে। তাই বাচ্চাদের কিছু শীতের কাপড় দান করলে কষ্টটা একটু কম হতো। নির্যাতনের ভয়ে পালিয়ে আসা অপর রোহিঙ্গা এনায়েতউল্লাহ জানান মায়ানমারের আমতলা পাড়ায় তাদের বাড়ী ঘর সব আগুনে পুড়িয়ে দিয়েছে এবং গরু ছাগল নিয়ে গেছে মিয়ানমার সামরিক বাহিনী। বেচে থাকার আশায় স্ত্রী সন্তানকে নিয়ে এক কাপড়ে তারা পালিয়ে এসেছে বাংলাদেশে। আসার সময় কিছুই আনতে পারেনি। বাংলাদেশ সরকার আমাদের আশ্রয় দিয়েছে দুই বেলা খাবার দিচ্ছে এ জন্য আমরা সরকারের কাছে কৃতজ্ঞ এবং ধন্যবাদ জানায়। কিন্তু তীব্র শীতে শীতবস্ত্র না থাকায় শিশুদের একটু বেশী কষ্ট হচ্ছে।

এবিষয়ে দৌছড়ি ৩ নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার আব্দুল নবী বলেন, দূর্গম এলাকা অনুন্নত যাতায়ত ব্যবস্থার কারনে বিভিন্ন সংস্থা ও সংগঠনের উদ্যোগে এখানে কোন ত্রান বিতরন করা হয়নি শুধুমাত্র সরকারী ত্রান বিতরন করা হচ্ছে। তাই সরকারী ভাবে কম্বল বিতরন করা হলেও শীত বস্ত্র বিতরন করা হয়নি।এর ফলে ক্যাম্পে থাকা শিশুরা শীতে কষ্ট পাচ্ছে। তিনি রোহিঙ্গা শিশুদের সাহায্যে বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহবান জানান। তবে রোহিঙ্গারা জানান খাওয়া দাওয়ার কষ্ট পেলেও নিরাপদে আছে এ জন্য খুশি তারা। জমি জমা কাপড় চোপড় গবাদি পশু টাকা পয়সা সব সীমান্তের ওপারে রেখে পালিয়ে এসেছে তারা। সীমান্তে স্থল মাইন পুতে রাখায় ভয়ে কিছু আনতে যেতেও পারছে না।

বান্দরবান রেড ক্রিসেন্ট ইউনিট এর সাধারন সম্পাদক একেএম জাহাঙ্গীর বলেন দূর্গম এলাকা হওয়ায় ঐ এলাকায় কেউ ত্রাণ দিতে যায় না তবে আমরা রেড ক্রিসেন্ট এর পক্ষ থেকে তাদের কে ত্রাণ দিয়েছি,কম্বল, খাদ্য ঔষধ পরিদেয় বস্ত্র দিয়েছি। সামনে আইসিআরসি থেকে শীতবস্ত্র দেয়া হবে সে লক্ষে এসেসম্যান্ট চলছে।এ ব্যাপারে বান্দরবানের জেলা প্রশাসক দিলীপ কুমার বণিক বলেছেন, আমাদের কাছে এ ধরনের কোন খবর আসেনি তবে পর্যাপ্ত ত্রাণ সামগ্রী আছে, কম্বল ও শীত বস্ত্রও রয়েছে। যেখানে প্রয়োজন হবে আমরা তা সরবরাহ করবো।

কক্সবাজার নিউজ সিবিএন’এ প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।

সর্বশেষ সংবাদ

উদীচী কক্সবাজার সরকারি কলেজ শাখার দ্বিতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত

পেকুয়ায় বৃদ্ধকে কুপিয়ে জখম

আনিস উল্লাহ টেকনাফ উপজেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত

চকরিয়া উপজেলা যুবদলের কমিটি বিলুপ্ত ও আহবায়ক কমিটি গঠিত

জেলা আ.লীগের জরুরি সভা শুক্রবার

চবি উপাচার্যের সাথে হিস্ট্রি ক্লাবের সাক্ষাৎ

পেকুয়ায় কুপে আহত ব্যবসায়ী হাসপাতালে যন্ত্রনায় কাতরাচ্ছে

সদর-রামু আসনে নজিবুল ইসলামকে নৌকার একক প্রার্থী ঘোষণা পৌর আ. লীগের

যোগাযোগ মন্ত্রীর আগমনে ঈদগাঁওতে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি

রাষ্ট্রপতির প্রতি আহবান: ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে স্বাক্ষর না সংসদে ফেরৎ পাঠান

উত্তপ্ত চট্টগ্রাম কলেজ, সক্রিয় বিবদমান তিনটি গ্রুপ

চকরিয়া কোরক বিদ্যাপীঠে আন্ত:ফুটবল টুর্ণামেন্ট উদ্বোধন

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে হোপ ফাউন্ডেশনের ৪০শয্যার হসপিটাল উদ্বোধন

পৌর কাউন্সিলরসহ ৪ মাদক কারবারির বাড়িতে অভিযান, নারীসহ দুই জনের সাজা

কক্সবাজার সিটি কলেজে পদার্থ বিজ্ঞান ও প্রাণ-রসায়ন অনার্স অধিভুক্তি লাভ

সাবেক এমপি মরহুম এড. খালেকুজ্জামান স্মরণে সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচী

কুতুবদিয়ায় অস্ত্রসহ আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ৩ সদস্য আটক

কক্সবাজারে ‘শেখ হাসিনার উন্নয়নের গল্প’ প্রচারে ছাত্রনেতা ইশতিয়াক

লামায় কারিতাস টেকনিক্যাল ট্রেনিং কোর্সের সনদ বিতরণ

গোলদিঘীর সৌন্দর্য্য বর্ধন, মাস্টার প্ল্যান নিয়ে ৮ ও ৯নং ওয়ার্ডের সাথে কউকের মতবিনিময়