ইমাম খাইর, সিবিএন:
আপনজনের সঙ্গে মোটর সাইকেলে করে ইনানী বেড়াতে যাচ্ছিল ঢাকা ক্যামব্রিয়ানের ছাত্রী সুদীপ্তা চৌধুরী ইমু (১৮)। কক্সবাজার শহর থেকে মাত্র কয়েক কিলোমিটার পেরিয়ে পৌঁছলো মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন মারমেইড বীচ রিসোর্ট এলাকায়। ঠিক এই মুহুর্তে গাড়ীর চলার গতি থেমে গেল। তাদের টেনে ধরলো মৃত্যুদূত। এমন সময় মোটর সাইকেলের পেছনে বসা থেকে ছিটকে মাটিতে পড়ে গেল সুদীপ্তা। নিমিষেই পৃথিবী থেকে হারিয়ে গেল একটি তরতাজা প্রাণ।
ঘটনাটি মঙ্গলবার (২৬ ডিসেম্বর) বেলা দুইটার। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে চালক জেকি কুমার সুশীলকে আটক করেছে পুলিশ। নিহতের মরদেহ জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে রয়েছে।
ঘটনার পরপরই স্থানীয়দের সহায়তায় সুদীপ্তার রক্তাক্ত দেহ নিয়ে উখিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যায় মোটর সাইকেল চালক জেকি কুমার সুশীল। কিন্তু না। প্রাণের অস্তিত্ব নিয়ে সন্দিহান হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। রেফার করে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে। অবশেষ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সুদীপ্তাকে ‘মৃত’ ঘোষণা করে। সুদীপ্তা চৌধুরী ইমু ঢাকা ক্যামব্রিয়ান স্কুল এন্ড কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষার্থী এবং শহরের বাজারঘাটা এলাকার ঝুলন চৌধুরীর মেয়ে। সুদীপ্তার বয়ফ্রেন্ট জেকি কুমার সুশীল একই এলাকার মৃত বাবুল সুশীলের ছেলে।
মঙ্গলবার রাত ১১ টায় রিপোর্ট লেখাকালে সে কক্সবাজার সদর মডেল থানা হেফাজতে রয়েছে। ঘটনাটির জন্য তাকে দায়ী করা হচ্ছে। এ ঘটনায় মামলার প্রক্রিয়া চালাচ্ছে সুদীপ্তার পরিবার।
এ বিষয়ে নিহত সুদীপ্তার মা গুবি চৌধুরীকে ফোন করলে ভাই সম্ময়দ্বীপ চৌধুরী রিসিভ করে। সে তার বোনকে পরিকল্পিত হত্যা করে নাটক করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন।
তবে স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, চলার পথে অকস্মিকভাবে মোটর সাইকেলের পেছন দিক থেকে পড়ে যায় সুদীপ্তা। এতে সে মারাত্নক আঘাত পেয়ে যায়। এখানে চালকের কোন দোষ নেই।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি রনজিত কুমার বড়ুয়া জানান, মোটর সাইকেল চালক জেকিকে আটক করা হয়েছে। তার সঙ্গে নিহতের প্রেমের সম্পর্ক আছে বলে জানা গেছে।
ওসি বলেন, ঘটনাস্থল যেহেতু রামু থানায় পড়েছে, সেহেতু তারাই আইনগত ব্যবস্থা নেবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •