এম.জিয়াবুল হক,চকরিয়া :

চকরিয়া উপজেলার ফাসিয়াখালী ইউনিয়নে প্রায় তিনবছর পর ফের আলোচনায় এসেছে হাজারো মানুষের আমানত হিসেবে রাখা কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা হওয়া সেই এনজিও ফুয়াদ বাংলাদেশ। আত্মগোপনে চলে যাওয়া প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ইব্রাহিমের ছোটভাই মাওলানা মোহাম্মদ এহেছানকে সদ্য ঘোষিত ইউনিয়ন যুবদলের কমিটির আহবায়ক করা হয়েছে। এ ঘটনার পর থেকে ফাসিয়াখালী ইউনিয়নের ত্যাগী নেতাকর্মীদের মধ্যে শুরু হয়েছে চাপা ক্ষোভ ও উত্তেজনা।

যুবদল ফাসিয়াখালী ইউনিয়ন কমিটির সাথে থেকে বিগত সময়ে আন্দোলন সংগ্রামে সম্পৃক্ত ছিলেন বিক্ষুদ্ধ নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেছেন, সদ্য ঘোষিত ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক কমিটিতে নিবেদিত নেতাকর্মীদেরকে যথাযথভাবে মুল্যায়ন করা হয়নি। এমনকি সিনিয়রদের অবমূল্যয়ন করে অনেক যোগ্য নেতাতে বাদ দিয়ে একটি অসাংগঠনিক কমিটি দেয়া হয়েছে। অবিলম্বের ঘোষিত কমিটি পুনসংস্কার করে যাছাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে একটি পরীক্ষিত কমিটি উপহার দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের কাছে দাবি জানিয়েছেন বঞ্চিত নেতাকর্মীরা।

ইউনিয়ন যুবদলের বঞ্চিত এ ধরণের ২৮জন নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে তাঁরা জানান, ইউনিয়নে দীর্ঘদিন ধরে যারা জাতীয়তাবাদী পরিবারের সাথে যুক্ত, রাজপথে কিংবা আন্দোলন সংগ্রামে দলের ভূমিকা রেখেছে এসব নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে কমিটি দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।

যুবদল নেতারা দাবি করেন, ইউনিয়ন যুবদলের কমিটিতে যাকে আহবায়ক করা হয়েছে, তার পরিবারের সাথে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের সংখ্যতা রয়েছে। এমনকি তার বাবা আলী আকবর ও চেয়ারম্যানের সাথে জমি-জমাসহ বিভিন্ন ব্যবসা রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে ইউনিয়ন যুবদলের ঘোষিত কমিটির আহবায়ক মাওলানা এহেছানের বড়ভাই ইব্রাহিম ফুয়াদ বাংলাদেশ নামে একটি এনজিও খুলে কয়েকবছর আগে চকরিয়া উপজেলার বিভিন্ন স্পটে সুদ ব্যবসা চালু করেন। ব্যবসায়ী, চাকুরীজীবি, পেশাজীবিসহ অন্তত হাজারো মানুষের কাছ থেকে আমানত হিসেবে কোটি টাকা ফুয়াদ বাংলাদেশে জমা দিয়ে এখন লাপাত্তা।

এমনকি কয়েকটি হত্যা মামলা থেকে শুরু করে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত আহবায়ক এহেছানের পরিবার। এলাকায় তাদের গ্রহণ যোগ্যতা না থাকলেও স্থানীয় কয়েকজন নব্য বিএনপি বর্ণচোরা নেতার অর্থ লেনদেনের বিনিময়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমদকে ভুল তথ্য দিয়ে অদক্ষ মাওলানা এহেছানকে ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়কের পদ পাইয়ে দেয়া হয়েছে। এ ধরণের ঘটনা বিএনপির কমিটি গঠনেও হয়েছে।

তারা আরো জানায়, অল্প সময়ে বিএনপিতে এসে সুয়োগ বুঝে যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ও চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়। এসবের পিছনে কিছু বর্নচোরা ও ¯’ানীয় চেয়ারম্যানের গোপন হাত রয়েছে। সম্প্রতি ওই আহবায়ক ইউনিয়ন বিএনপির কমিটি করার সময় তার আপনদের বিভিন্ন পদে দায়িত্ব দেয়। বর্তমানে যুবদলের কমিটি করার সময় এ ধরণের কমিটি করে নিজের আখের গোচের চেষ্টা ছাড়া দলের কোন কাজে আসবেনা।

নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেছেন, বর্তমান ঘোষিত কমিটিতে নিরক্ষর, শ্রমিক, দারোয়ান ও আহবায়কের আত্মীয় ছাড়া সিনিয়র পদে আর কারো স্থান রাখেনি। এ আহবায়কের কর্মকান্ড দলের কোন উপকার না আসলেও নিজের পথ সুগম হবে বলে ধারণা করছে। তারা ঘোষিত কমিটি বাতিল করে নতুন ভাবে কমিটি করতে দলের উর্ধ্বতনদের সহায়তা কমনা করছেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •