বিদেশ ডেস্ক:
বিশ্বের সবচেয়ে দামি বাড়ির স্বীকৃতি পাওয়া ফরাসি বাড়িটির মালিক সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান বলে দাবি করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমস। দুই বছর আগে বাড়িটি কিনেছিলেন তিনি। এতোদিন ক্রেতার নাম জানা না গেলেও এক অনুসন্ধানের মধ্য দিয়ে তা বের করা হয়েছে। রবিবার (১৭ ডিসেম্বর) খবরটিকে প্রধান শিরোনাম করেছে নিউ ইয়র্ক টাইমস।

প্রতিবেদনে বলা হয়, দুই বছর আগে ফ্রান্সের শেতো লুই কেদভ নামের বাড়িটি ৩০০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি দামে বিক্রি হয়েছিল। তখন ফরচুন ম্যাগাজিন একে বিশ্বের সবচেয়ের দামি বাড়ি হিসেবে আখ্যা দেয়। তখন বাড়িটিতে কী আছে তা নিয়ে বিস্তারিত জানা গেলেও এর ক্রেতা কে তা জানা যাচ্ছিলো না। তবে এই সংক্রান্ত নথি বিশ্লেষণের মধ্য দিয়ে নিউ ইয়র্ক টাইমস দাবি করেছে, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানই এর ক্রেতা। একে সৌদি যুবরাজের অসংযত ক্রয়গুলোর একটি বলে উল্লেখ করেছে নিউ ইয়র্ক টাইমস। ৫০০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের ইয়ট এবং ভিঞ্চির আঁকা ৪৫০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের চিত্রশিল্প ক্রয় নিয়ে সৌদি যুবরাজের বিরুদ্ধে বিতর্ক রয়েছে।

দেশের ভেতরে দুর্নীতিবিরোধী অভিযান চালানোর মধ্য দিয়ে নিজের ভাবমূর্তি স্বচ্ছ করে বিদেশে বিলাসিতা করছেন বলে উল্লেখ করেছে নিউ ইয়র্ক টাইমস। ব্রুস ও. রিয়েডেল নামের সাবেক এক সিআইএ বিশ্লেষক ও লেখকও তেমনটাই মনে করছেন। তিনি বলেন, ‘তিনি (সৌদি যুবরাজ) নিজের ভাবমূর্তি গড়ার চেষ্টা করেছেন, নিজেকে ভিন্ন ধারার বলে প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছেন যে তিনি একজন সংস্কারবাদী। অন্তত নিজেকে সমাজ সংস্কারক হিসেবে দেখানোর প্রচেষ্টা ছিল তার। বোঝাতে চেয়েছিলেন তিনি দুর্নীতিবাদ নন। আর সেই ভাবমূর্তির ক্ষেত্রে ব্যাপক দোলা দেবে এই ঘটনা (ব্যয়বহুল বাড়ির মালিকানা)।

নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, শেতো লুই কেদভ বাড়িটির মালিকানা সতর্কভাবে ফ্রান্স ও লুক্সেমবার্গের শেল কোম্পানির নামের আড়ালে রাখা হয়েছিল। ওই কোম্পানিগুলোর মালিক সৌদি এইট ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি। মোহাম্মদ বিন সালমানের ব্যক্তিগত ফাউন্ডেশনের প্রধান এই সৌদি ফার্মটির ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে আছেন। নিউ ইয়র্ক টাইমসের দাবি, রাজ পরিবারের উপদেষ্টারা বলেছেন শেতো লুই এর চূড়ান্ত মালিকানা মোহাম্মদ বিন সালমানের। নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, এইট ইনভেস্টমেন্ট সেই একই কোম্পানি যার অর্থ সহায়তা নিয়ে ২০১৫ সালে রাশিয়ার এক ধনকুবেরের কাছ থেকে ইয়ট কিনেছিলেন যুবরাজ। সম্প্রতি কোম্পানিটি প্যারিসের কাছে কন্ডে সুর ভেসগ্রে এলাকায় ৬২০ একরের সম্পত্তি কিনেছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •