শাহেদ মিজান, সিবিএন:
আগামী ২৩ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে কক্সবাজার জেলা দু’শীর্ষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কক্সবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। এই দু’বিদ্যালয়ে শুধুমাত্র বাংলা মাধ্যমে ভর্তি পরীক্ষা নেয়া হবে। এই নিয়ে বড় বেকায়দায় পড়ে গেছেন বিভিন্ন ইংরেজী মাধ্যমে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্র্থীরা। কেননা ইংরেজি মিডিয়াম শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়ালেখা করায় তারা বাংলায় ভালোভাবে লিখতে ও পড়তে পারে না। ভর্তি পরীক্ষায় শুধুমাত্র বাংলায় হওয়ায় এসব শিক্ষার্থীরা ইংরেজির মাধ্যমের শিক্ষার্থীরা ভর্তি পরীক্ষা ভালো করতে পারবে না। এই নিয়ে অনেক মেবাধী ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী দু:চিন্তায় ভুগছেন। তাদের দাবি, ভর্তি পরীক্ষা বাংলা-ইংরেজি দু’মাধ্যমে নেয়া হোক।

জানা গেছে, কক্সবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় হচ্ছে শীর্ষ দু’উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এই দু’ বিদ্যালয়ের মান অত্যন্ত ভালো হওয়ায় মেধাবী শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন থাকে এই বিদ্যালয়গুলো পড়ার। অভিভাবকেরাও আশা থাকেন তাদের সন্তানেরা এই বিদ্যালয়গুলো পড়বে। এই কারণে ভর্তিতে তুমুল প্রতিযোগিতা হয়। প্রতিযোগিতার অংশ হিসেবে পুরো জেলা থেকে প্রতিবছর সহ¯্রাধিক শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেন। অংশ নেয়া মধ্যে প্রায়ই মেধাবী শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। সে ধারায় কক্সবাজারের বিভিন্ন ইংরেজী মাধ্যমের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। যারা অত্যন্ত মেধাবী। কিন্তু বাংলাতে ভর্তি পরীক্ষা প্রশ্নপত্র হওয়ায় ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় ভালো করতে পারে না। এতে পাশ করা শিক্ষার্থীদের চেয়েও অধিক মেধাবী ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষায় টিকতে পারে না। এতে করে তাদের স্বপ্ন-আশা ধূলিস্যাৎ হয়ে যায়। এর প্রভাব পড়ে তাদের পরবর্তী শিক্ষা জীবনে। এই নিয়ে অতীতে অনেক অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটেছে।

কক্সবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সূত্র জানা যায়, ২০১৭ শিক্ষাবর্ষে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি আগামি ২৩ ডিসেম্বর ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। আগামি ৩০ নভেম্বর থেকে অনলাইনে ভর্তি আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। এটি চলবে ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত। প্রতিবারের মতো এবারও কক্সবাজার সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ে ২৪০ ও সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে ২৪০ আসনের বিপরীতে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এরমধ্যে প্রাত: শাখায় ১২০ জন ও দিবা: শাখায় ১২০ জন। ভর্তির ফলাফলে মুক্তিযোদ্ধা/শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কোটা ৫ শতাংশ (সন্তান পাওয়া না গেলে সন্তানের সন্তান), প্রতিবন্ধী কোটা ২ শতাংশ, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কোটা ১০ শতাংশ, সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক/কর্মচারী কোটা ২ শতাংশ অনুসরণ করা হবে। কোটার প্রমাণপত্র যাচাই বাছাই সাপেক্ষে ভর্তির যোগ্যতা চূড়ান্ত করা হবে। এক্ষেত্রে কোটার সমর্থনে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ভর্তির সময় অবশ্যই দাখিল করতে হবে। ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র শুধুমাত্র বাংলাতে হবেই।

এদিকে বাংলার পাশাপাশি ইংরেজীতেও প্রশ্নপত্র প্রণয়নের দাবি জানিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন জানিয়েছে ইংরেজি মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকেরা। আবেদনে তারা জানান, কক্সবাজার শহরের প্রায় পাঁচটি ইংরেজি মাধ্যমের অন্তত দু’শতাধিক শিক্ষার্থী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়তে আগ্রহী। তারা ইতিমধ্যে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ রেজিস্ট্রেশনও সম্পূর্ণ করেছেন। কিন্তু শুধুমাত্র বাংলাতে প্রশ্নপত্র হওয়ায় শিক্ষার্থীরা এখন চরম বেকায়দায় রয়েছে। এই নিয়ে তারা দু:চিন্তায় ভুগছে। তাই ইংরেজিতেও প্রশ্নপত্র প্রণয়নের দাবি জানান তারা।

এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক নিগাত সোলতানা বলেন, কম মেধাবী শিক্ষার্থীরা শিক্ষার্থীরা ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে পড়তে পারে না। শুধুমাত্র মেধাবীরাই ইংরেজি মিডিয়াম স্কুলে পড়ার যোগ্যতা রাখে। কিন্তু সরকারি দু’উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় গিয়ে শুধু বাংলায় প্রশ্নপত্র প্রণয়নের কারণেই কম মেধাবীদের কাছে হেরে যায় ইংরেজি মাধ্যমে মেধাবী শিক্ষার্থীরা। এই আমরা ইংরেজিতেও প্রশ্নপত্র প্রণয়ণের দাবি জানাচ্ছি। আমাদের এই দাবি অত্যন্ত যৌক্তিক।’

আরেক অভিভাবক সাইদুল ইসলাম বলেন, সন্তানের মেধাবী বিবেচনা করেই অভিভাবকেরা অন্তত পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত সন্তানদের ইংরেজি মাধ্যমে পড়ায়। মূলত বিশ্বমানের উপযোগী ও অন্যদের থেকে এগিয়ে রাখার জন্য এই প্রচেষ্টা। এতে অর্থ ও শ্রমও অধিকহারে ব্যয় হয়। কিন্ত প্রাইমারি স্তরের পার করে উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তিতে গিয়ে তাদের বিপত্তি পোহাতে হয়। দুুুু’সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা শুধুমাত্র বাংলাতে হওয়ায় এই বিপত্তি। এতে অনেক সম্ভাবনাময়ী মেধাবী শিক্ষার্থী ঝরে পড়ে। এটা তাদের পরবর্তী জীবনে মানসিক বিকাশে প্রভাব ফেলে। তাই আমরা ইংরেজিতেও প্রশ্নপত্র প্রণয়ণের দাবি জানাচ্ছি।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ভর্তি কমিটির সদস্য সচিব ও কক্সবাজার সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাম মোহন সেন বলেন, ‘ভর্তি পরীক্ষা বাংলা, ইংরেজি ও গণিত বিষয়ে নেয়া হয়। এর মধ্যে অভিভাবকদের দাবির প্রেক্ষিতে গত কয়েক বছর ধরে গণিত বিষয়ে ইংরেজিতেও প্রশ্ন প্রণয়ন করা হয়। এবারও গণিত বিষয়ে ইংরেজি বিষয়ে প্রশ্ন হবে। তবে বাংলা তো আর ইংরেজিতে করা যাবে না।’

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •