প্রেস বিজ্ঞপ্তি:

কক্সবাজারের প্রবীন রাজনীতিবিদ, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, পর্যটন শিল্পের অন্যতম উদ্যোক্তা ও ঐক্য ন্যাপের জেলা কমিটির আহবায়ক ইদ্রিস আহমদ আর নেই।

মঙ্গলবার রাতে চকরিয়া উপজেলার সাহারবিলে গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে রাষ্ট্রীয় মর্যদায় তাকে সমাহিত করা হয়।

বিকালে কক্সবাজার শহরের কেন্দ্রিয় ঈদগাঁহ মাঠে প্রথম জানাযার পূর্বে রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মান প্রদর্শন করা হয়। পুলিশের একটি চৌকষদল সশস্ত্র সালামের মাধ্যমে তাঁর প্রতি গার্ড অব অনার প্রদান করে। এসময় জেলা প্রশাসনের পক্ষে কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ নাজিম উদ্দিন মরহুমের মরদেহ জাতীয় পতাকা দিয়ে আচ্ছাদিত করে দেন।

এরপর জেলা প্রশাসনের পক্ষে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট (এডিএম) মোঃ খালেদ মাহমুদ, কমিউনিস্ট পার্টি, ঐক্য ন্যাপ, ছাত্র ইউনিয়ন, যুব ইউনিয়ন, সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন, কক্সবাজার সোসাইটি, তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ-বন্দর ও খনিজ সম্পদ রক্ষা জাতীয় কমিটি সহ বিভিন্ন সংগঠন পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

জানাযা পূর্ব সমাবেশে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন ইদ্রিস আহমদের বড় জামাতা কক্সবাজার-১ আসনের সাংসদ হাজী মোহাম্মদ ইলিয়াছ, একমাত্র সন্তান জেলা যুবলীগের সহ অর্থ সম্পাদক মোঃ আশরাফ উদ্দিন ও সাংবাদিক মুহাম্মদ আলী জিন্নাত।

জানাযায় ইদ্রিস আহমদের নিজ দল ঐক্য ন্যাপ ছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ছাত্র সংগঠনসহ নানা শ্রেণী-পেশার প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

মৃত্যুকালে তাঁর বয়স ছিল ৮০ বছর। ইদ্রিস আহমদ ৩ কন্যা ও ১ পুত্র সন্তানের জনক ছিলেন।

তিনি মঙ্গলবার ভোর ৩ টার দিকে ঢাকার এ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন। প্রায় ১ বছর আগে কক্সবাজার শহরের মুক্তিযোদ্ধা সংসদ জেলা ইউনিট কমান্ড কার্যালয়ের সামনে মোটর সাইকেলের ধাক্কায় গুরুতর আহত হয়েছিলেন। এরপর থেকে পক্ষাঘাত জনিতকারণে অসুস্থ ছিলেন।

মঙ্গলবার বিকাল ৩ টায় প্রয়াতের মরদেহ ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারযোগে কক্সবাজার বিমানবন্দরে আনার পর শহরের হাসপাতাল সড়কের নিজ বাসভবনে নিয়ে আসা হয়। পরে বিকাল সাড়ে ৫ টায় কক্সবাজার শহরের কেন্দ্রিয় ঈদগাঁহ মাঠে প্রথম নামাজে জানাযা শেষে চকরিয়া উপজেলার সাহারবিল ইউনিয়নের নিজ গ্রাম কোরালখালীতে নিয়ে আসা হয়। সেখানে রাত সাড়ে ৯ টায় দ্বিতীয় জানাযা শেষে স্থানীয় পারিবারিক কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়।

ইদ্রিস আহমদ কক্সবাজার জেলার অগ্রগণ্য রাজনীতিক, ৬০ দশকে কক্সবাজারের ছাত্র আন্দোলনের কিংবদন্তীতুল্য ছাত্র সংগঠক, কক্সবাজারে ছাত্র ইউনিয়নের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা, কক্সবাজার কলেজ ছাত্র সংসদের নির্বাচিত সাবেক ভিপি ছিলেন। কক্সবাজারে মহান মুক্তিযুদ্ধ সংগঠনে ইদ্রিস আহমদ অন্যতম ভূমিকা পালন করেন।

ছাত্র আন্দোলনের পরবর্তীতে তিনি ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি ( মোজাফ্ফর ) সক্রিয় হন। জেলা ন্যাপের সভাপতির দায়িত্বও পালন ২ দশকের বেশী। পরে ৯০ দশকে বিশ্বব্যাপী সমাজতান্ত্রিক আন্দোলন বিপর্যয়ের পর গণফোরাম গঠিত হলে জেলা কমিটির সভাপতি দায়িত্ব নেন। সর্বশেষ তিনি ঐক্য ন্যাপের জেলা কমিটির আহবায়ক ছিলেন। এছাড়াও তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ-বন্দর ও খনিজ সম্পদ রক্ষা জাতীয় কমিটির জেলার আহবায়কও ছিলেন তিনি।

ইদ্রিস আহমদ কক্সবাজারের সকল সাম্প্রদায়িকতা, জঙ্গী-মৌলবাদ বিরোধীসহ প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক, ভূমিহীনদের অধিকার রক্ষা ও সামাজিক আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব ছিলেন।

এছাড়াও কক্সবাজারে পর্যটন শিল্প বিকাশে তাঁর রয়েছে অনন্য ভূমিকা। সেই ৯০ দশকেরও আগে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের লাবণী পয়েন্টের খুবই নিকটে ‘হোটেল কল্লোল’ প্রতিষ্ঠা করে পর্যটকদের সেবায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেন। এ হোটেলের আগে সমুদ্র সৈকতের কাছাকাছি বেসরকারিভাবে কোন পর্যটকদের কোন আবাসনের ব্যবস্থা ছিল না।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •