হাফেজ মুহাম্মদ কাশেম, টেকনাফ :

উৎসব মুখর ও ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজনে ব্যাপক আনন্দ-উদ্দীপনায় টেকনাফের প্রাচীণ ও ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্টান (স্থাপিত ১৯৫২ ইংরেজী) লেঙ্গুরবিল জামিয়া এমদাদিয়া বড় মাদ্রাসার নুরানী বিভাগের বার্ষিক পরিক্ষা ৩ ডিসেম্বর শনিবার শুরু হয়েছে। মাদ্রাসার খোলা মাঠে শত শত ছোট ছোট শিশুদের পরিক্ষায় অংশ নেয়ার দৃশ্যটি ছিল ব্যতিক্রমধর্মী এবং দেখার মতোই।

সরেজমিন পরিদর্শনকালে জানা যায়, ২০১৭ শিক্ষা বছরে শিশু শ্রেনী থেকে ৪র্থ শ্রেনী পর্যন্ত ভর্তি হওয়া ৫ শতাধিক শিক্ষার্থী পরিক্ষায় অংশ নিয়েছে। অত্যন্ত সুন্দরভাবে পরিক্ষা চলছে। পরিক্ষা চলাকালে মঙ্গলবার ৫ ডিসেম্বর টেকনাফ সদর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ শাহজাহান আকস্মিক পরিদর্শন করেন। এসময় মাদ্রাসার নায়েবে মুহতমিম মাওঃ ওবাইদুর রহমান এবং কয়েকজন অভিভাবক উপস্থিত ছিলেন। উৎসব মুখর পরিবেশে ও সুন্দরভাবে পরিক্ষা অনুষ্টানে জন্য সন্তষ্টি প্রকাশ করে তাৎক্ষনিক ১ লক্ষ টাকা অনুদান ঘোষণা করেন।

নুরানী বিভাগের প্রধান মাওঃ ওসমান হাছান জানান, ১৯৯৮ সালে অত্র মাদ্রাসায় নুরানী বিভাগ চালু হয়। ২০১৫ শিক্ষা বছরে শিশু শ্রেনীতে ১০৬ জন, ১ম শ্রেনীতে ১৫৮ জন, ২য় শ্রেনীতে ১৪২ জন, ৩য় শ্রেনীতে ১৩৩ জন এবং ৪র্থ শেনীতে ৪৩ জন মোট ৫৮২ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছিল।

বর্তমানে নুরানী বিভাগে ৯ জন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। এরা হলেন চকরিয়ার মাওঃ ওসমান হাছান, মাওঃ কফিল উদ্দিন, মহেশখালীর মাওঃ জালাল উদ্দিন ও আবদুর রহীম, মাওঃ মাহফুজুর রহমান, চকরিয়ার হাফেজ শহিদুল্লাহ, টেকনাফের মাওঃ ওসামা কবির, চকরিয়ার মাওঃ ইউসুফ এবং রামুর মাস্টার সাইফুল ইসলাম।

পরিক্ষা চলাকালে উপস্থিত কয়েকজন অভিভাবক জানান, শিক্ষকগণের প্রচেষ্টা ও আন্তরিকতায় লেঙ্গুরবিল মাদ্রাসার নুরানী বিভাগের উন্নত লেখাপড়ার কারণে প্রতি বছর বোর্ড পরিক্ষায়ও সাফল্য অর্জন করে আসছে। প্রতি বছরই শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও আর্থিক অভাবে শিক্ষার্থীর তুলনায় অবকাঠামো তথা মাদ্রাসা ঘর নেই। ২০১৮ সালের নতুন শিক্ষা বছরে শিক্ষার্থীর সংখ্যা আরও বাড়বে। কিন্ত যে পরিমাণ গৃহ আছে তাতে মোটেও সংকুলান হবেনা।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •